দীর্ঘদিনের ক্যারিয়ার থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা ভাগ করে জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিয়া ইসলাম মৌ বলেছেন, শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবন, সময়নিষ্ঠা এবং ভালো কাজই একজন শিল্পীকে দীর্ঘদিন দর্শকের হৃদয়ে বাঁচিয়ে রাখে।
বাংলাদেশের অভিনয় ও মডেলিং অঙ্গনের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ সাদিয়া ইসলাম মৌ মনে করেন, একজন শিল্পী হিসেবে সফল হওয়ার আগে একজন ভালো ও শৃঙ্খলাবদ্ধ মানুষ হওয়া জরুরি। তাঁর মতে, জীবনে নিয়মানুবর্তিতা না থাকলে কোনো প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা সম্ভব নয়। আর শর্টকাট পথে নয়, বরং কঠোর পরিশ্রম, ধৈর্য এবং দর্শকের ভালোবাসার মাধ্যমেই প্রকৃত সফলতা অর্জন করা যায়।
সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের ব্যক্তিগত জীবন, শিল্পীজীবনের অভিজ্ঞতা এবং বর্তমান বিনোদন জগতের নানা বিষয় নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী।
সাক্ষাৎকারে মৌ বলেন, তিনি সবসময় একটি সুশৃঙ্খল জীবনযাপন করার চেষ্টা করেছেন এবং সেই অভ্যাসই তাঁকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক ফল এনে দিয়েছে। শুধু নিজের ক্ষেত্রেই নয়, তাঁর সন্তানদেরও ছোটবেলা থেকেই শৃঙ্খলা মেনে চলার শিক্ষা দিয়েছেন।
তিনি বলেন, “আমি খুব সুশৃঙ্খল জীবনযাপন করেছি, সেটার ফলও পেয়েছি। আমার সন্তানদেরও সবসময় ডিসিপ্লিন মেনে চলতে বলেছি।”
শৃঙ্খলা ছাড়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা সম্ভব নয়
মৌর ভাষায়, একজন মানুষের জীবনে শৃঙ্খলা না থাকলে কোনো কাজই সঠিকভাবে সম্পন্ন করা যায় না। বিশেষ করে অভিনয় জগতের মতো প্রতিযোগিতাপূর্ণ পেশায় সময়নিষ্ঠা, দায়িত্ববোধ এবং পেশাদার মনোভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, একজন শিল্পীকে শুধু অভিনয় জানলেই হয় না; সময়মতো শুটিংয়ে উপস্থিত হওয়া, সহশিল্পীদের প্রতি সম্মান দেখানো এবং নিজের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
শর্টকাটে আসে না স্থায়ী সফলতা
বর্তমান সময়ে অনেকেই অল্প সময়ে জনপ্রিয় হতে চান। তবে এ বিষয়ে ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন সাদিয়া ইসলাম মৌ। তাঁর মতে, দ্রুত পরিচিতি পাওয়া সম্ভব হলেও দীর্ঘদিন টিকে থাকতে হলে ভালো কাজের কোনো বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, “শর্টকাটে কোনো কিছুরই সাফল্য আসে বলে আমি মনে করি না। সাফল্য আসে সময়, ভালো কাজ এবং দর্শকের ভালোবাসার সমন্বয়ে।”
তাঁর বিশ্বাস, ধৈর্য ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে গেলে একদিন না একদিন তার মূল্যায়ন অবশ্যই হয়।
‘আমি সেরা’—এ দাবি করতে চান না মৌ
নিজেকে কখনো সেরা শিল্পী হিসেবে দাবি করেন না সাদিয়া ইসলাম মৌ। তিনি মনে করেন, একজন শিল্পীকে মূল্যায়ন করার অধিকার দর্শকের।
তিনি বলেন, “আমি সেরা হওয়ার কথা বলব কী করে? আমি শুধু আমার কাজ করে গেছি।”
তাঁর এই বিনয়ী বক্তব্য আবারও প্রমাণ করে, জনপ্রিয়তার শীর্ষে থেকেও তিনি নিজেকে সবসময় একজন সাধারণ কর্মী হিসেবেই দেখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
বড় শিল্পীদের সফলতার পেছনেও ছিল শৃঙ্খলা
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য গুণী শিল্পীর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে মৌ বলেন, যেসব শিল্পী বছরের পর বছর দর্শকের ভালোবাসা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন, তাঁদের অধিকাংশই অত্যন্ত শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপন করেছেন।
তিনি জানান, এই মূল্যবোধ তিনি তাঁর পরিবার থেকেই পেয়েছেন। ছোটবেলা থেকেই নিয়ম মেনে চলার শিক্ষা তাঁকে কর্মজীবনে সফল হতে সহায়তা করেছে।
আজিজুল হাকিমের পেশাদারিত্বের প্রশংসা
প্রবীণ অভিনেতা আজিজুল হাকিমের প্রসঙ্গ টেনে মৌ বলেন, তাঁর সঙ্গে কাজ করার সময় তিনি সবসময় পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে দেখেছেন। সময়ের প্রতি শ্রদ্ধা এবং পেশাগত দায়িত্ববোধ তাঁকে একজন আদর্শ শিল্পীতে পরিণত করেছে।
মৌ জানান, দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি কখনো আজিজুল হাকিমকে বিশৃঙ্খল আচরণ করতে দেখেননি।
সুযোগ বেড়েছে, বেড়েছে প্রতিযোগিতাও
বর্তমান বিনোদন অঙ্গনের পরিবর্তন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মৌ বলেন, এখন আগের তুলনায় নতুন শিল্পীদের জন্য সুযোগ অনেক বেশি। টেলিভিশনের পাশাপাশি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, ইউটিউব এবং বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে প্রতিভা প্রকাশের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তবে একই সঙ্গে প্রতিযোগিতাও বেড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তাঁর মতে, “যারা সত্যিকার অর্থে ভালো কাজ করবেন, তারা শত চ্যানেলের ভিড়েও নিজেদের যোগ্যতায় দর্শকের নজরে আসবেন।”
তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণার বার্তা
সাক্ষাৎকারের শেষ দিকে তরুণ শিল্পীদের উদ্দেশে সাদিয়া ইসলাম মৌ বলেন, জনপ্রিয়তার পেছনে না ছুটে নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে হবে। কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা, সততা এবং ধৈর্যই একজন শিল্পীর দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের ভিত্তি তৈরি করে।
তিনি বিশ্বাস করেন, সাময়িক আলোচনার চেয়ে দীর্ঘদিন মানুষের ভালোবাসা অর্জন করাই একজন শিল্পীর সবচেয়ে বড় সাফল্য।

বিনোদন ডেস্ক 









