ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার পরাজয়ের পর শিরোপা হাতছাড়া করে মাঠেই আবেগ ধরে রাখতে পারেননি লিওনেল মেসি। ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার পর বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর মতো বাংলাদেশের শোবিজ অঙ্গনের অনেক তারকাও মেসির সেই আবেগঘন মুহূর্তে ব্যথিত হয়েছেন। তাদেরই একজন ঢাকাই চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী শারমীন জোহা শশী।
মেসির চোখের জল দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি হৃদয়স্পর্শী স্ট্যাটাস প্রকাশ করেন এই অভিনেত্রী। পোস্টটি প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং আর্জেন্টিনা ও মেসির সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
স্ট্যাটাসের শুরুতেই মেসির প্রতি নিজের নিঃশর্ত ভালোবাসার কথা প্রকাশ করে শশী লিখেছেন, ‘আমি তোমাকে ভালোবেসেছি, ভালোবাসি এবং সব সময় ভালোবাসব। তুমি সর্বকালের সেরা। মেসি, তুমি দয়া করে কেঁদো না।’
অভিনেত্রীর এই কয়েকটি লাইনেই ফুটে ওঠে একজন ভক্তের অকৃত্রিম আবেগ এবং প্রিয় ফুটবলারের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।
শশী জানান, তিনি আজীবন আর্জেন্টিনার সমর্থক। তার বিশ্বাস, জীবনে প্রত্যেক মানুষ সব স্বপ্ন পূরণ করতে পারেন না। তাই একটি পরাজয় কখনোই একজন কিংবদন্তির অর্জনকে ছোট করে দিতে পারে না। তিনি লিখেছেন, ‘আজকের দিনটি হয়তো তোমার ছিল না। কিন্তু তাই বলে তুমি কোনো অংশেই কম নও। তোমার ছোট ছোট অপূর্ণতাগুলোই তোমাকে আরও সুন্দর করে তোলে।’
তার মতে, ফুটবল শুধু জয়ের গল্প নয়; এটি সংগ্রাম, আত্মত্যাগ, নেতৃত্ব এবং মানুষের আবেগেরও গল্প। আর সেই জায়গায় লিওনেল মেসি বরাবরই অনন্য।
ফাইনাল ম্যাচ শেষে যখন স্পেনের খেলোয়াড় ও সমর্থকেরা শিরোপা জয়ের আনন্দে মেতে উঠেছিলেন, ঠিক তখন নিজের অনুভূতির কথাও স্ট্যাটাসে তুলে ধরেন শশী। তিনি লেখেন, ‘স্পেন যখন উদ্যাপনে ব্যস্ত ছিল, আমি দর্শকদের ভিড়ে দাঁড়িয়ে টেলিভিশনের পর্দায় শুধু ১০ নম্বর জার্সিটির দিকেই তাকিয়ে ছিলাম। আমার চোখ সেখানেই আটকে ছিল।’
এই কথাগুলো একজন সমর্থকের হৃদয়ের গভীর অনুভূতিরই প্রতিফলন বলে মন্তব্য করছেন অনেকে। শশীর ভাষায়, ট্রফি না জিতলেও তার কাছে সেই ১০ নম্বর জার্সিধারীই ছিলেন পুরো আসরের সবচেয়ে উজ্জ্বল নায়ক।
পুরো বিশ্বকাপজুড়ে মেসির নেতৃত্ব, আত্মনিবেদন ও অসাধারণ পারফরম্যান্সের ভূয়সী প্রশংসা করেন এই অভিনেত্রী। তিনি বলেন, জয়-পরাজয়কে কীভাবে মর্যাদার সঙ্গে গ্রহণ করতে হয়, তা মেসি নিজের আচরণের মধ্য দিয়ে বারবার প্রমাণ করেছেন। টুর্নামেন্টজুড়ে বিশ্বমানের ফুটবল উপহার দেওয়ার জন্য তিনি আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে ধন্যবাদও জানান।
স্ট্যাটাসের শেষাংশে মেসি ও আর্জেন্টিনার প্রতি নিজের অটুট সমর্থনের কথা আবারও তুলে ধরে শশী লেখেন, ‘আজকের দিনটা একসময় হারিয়ে যাবে, কিন্তু মেসি কখনো হারিয়ে যাবে না। তাই এখনো আমার কণ্ঠে একটাই ধ্বনি—মেসি সর্বকালের সেরা, আর সেরা আর্জেন্টিনা।’
শশীর এই আবেগঘন পোস্টটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাজারো মেসিভক্ত তার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন। অনেকেই মন্তব্যে লিখেছেন, ফুটবলে জয়-পরাজয় থাকবেই, কিন্তু লিওনেল মেসির কিংবদন্তি ক্যারিয়ার, অসংখ্য অর্জন এবং কোটি মানুষের হৃদয়ে তার যে অবস্থান, তা কোনো একটি ম্যাচের ফলাফল দিয়ে কখনোই ম্লান করা সম্ভব নয়।
আবার কেউ কেউ লিখেছেন, ট্রফি হারানো কষ্টের হলেও মেসির ফুটবল প্রতিভা, নেতৃত্ব, বিনয় এবং দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত তাকে ইতোমধ্যেই সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, একজন খেলোয়াড়ের প্রতি ভক্তদের ভালোবাসা কেবল তার সাফল্যের জন্য নয়, বরং কঠিন মুহূর্তে তার লড়াই, আত্মবিশ্বাস এবং মানবিক দিকের জন্যও তৈরি হয়। আর সেই কারণেই ফাইনালে পরাজয়ের পর মেসির কান্না বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।
শারমীন জোহা শশীর এই পোস্টও সেই আবেগেরই প্রতিচ্ছবি, যেখানে একজন ভক্ত তার প্রিয় ফুটবলারের প্রতি নিঃশর্ত সমর্থন, ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধার বার্তা তুলে ধরেছেন। সামাজিক মাধ্যমে পোস্টটি এখনো ব্যাপকভাবে শেয়ার হচ্ছে এবং মেসি-সমর্থকদের মধ্যে আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে রয়েছে।

বাংলাদেশ খবর ডেস্ক 









