ঢাকা , রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ
ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর হোসেনের সৌদিগামী ফ্লাইট বাতিল, বিপাকে ওমরাহ যাত্রীরা পরিবেশ রক্ষায় দায়িত্বের বাইরে কাজের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বিগ বসে প্রাক্তন প্রেমিকদের নিয়ে মুখ খুললেন মাহী বিজ অভিনয়ের সুযোগের বিনিময়ে যৌন সম্পর্কের প্রস্তাব, তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নীতি টেলর হুতিদের হামলার প্রভাবে সৌদিগামী ৮৬ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে ১৩ হাজার ৪৯০ যাত্রী সেলিনা জেটলির নতুন অভিযোগ, বিচ্ছেদ নিয়ে তোলপাড় মানুষকে খুশি করতে গিয়ে কেন নিজের শরীরের ক্ষতি? প্রশ্ন রাধিকার দাম্পত্য ঘনিষ্ঠতা নিয়ে রাহুলের ইঙ্গিত, কী বলছেন নেটিজেনরা? সাভারে ডিবির অভিযানে গ্রেপ্তার ৪, উদ্ধার ছোরা-পিস্তুল
ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ে উদ্বেগ, ছয় মাসের মধ্যে মাদার ট্রি চিহ্নিত করে সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত; ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জোর

পরিবেশ রক্ষায় দায়িত্বের বাইরে কাজের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময়: ০১:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
  • 48

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি

দেশের পরিবেশ ও বন রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তাদের নির্ধারিত দায়িত্বের বাইরেও উদ্যোগী হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে সরকার, সরকারি কর্মকর্তা এবং সাধারণ মানুষ—সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। শুধু নিয়মিত দায়িত্ব পালন করলেই হবে না, দেশের মানুষের কল্যাণে সামর্থ্য অনুযায়ী বাড়তি উদ্যোগও নিতে হবে।

গতকাল সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও বাস্তবায়নবিষয়ক এক সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সভায় পরিবেশ সংরক্ষণ, বনভূমি সম্প্রসারণ, বৃক্ষরোপণ, ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের পরিবেশের উন্নয়ন একটি সম্মিলিত দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের পাশাপাশি জনগণকে সম্পৃক্ত করা জরুরি। সাধারণ মানুষ পরিবেশ রক্ষার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে যত বেশি সচেতন হবে, সরকারি উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন করা তত সহজ হবে। তাই পরিবেশ ও বন সংরক্ষণে গৃহীত প্রতিটি পরিকল্পনার সঙ্গে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও যুক্ত রাখতে হবে।

সভায় সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকের নির্ধারিত দায়িত্ব থাকলেও দেশের জন্য আরও কিছু করার সুযোগ রয়েছে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে পরিবেশ রক্ষায় আন্তরিকতার সঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, পরিবর্তন আনতে হলে প্রত্যেককে নিজের সক্ষমতা অনুযায়ী উদ্যোগী হতে হবে। দায়িত্বের নির্ধারিত সীমার মধ্যে কাজ শেষ করে থেমে গেলে চলবে না। বরং দেশের মানুষের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে অতিরিক্ত প্রচেষ্টা চালাতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের জন্য কাজ করার সুযোগ সবার জীবনে আসে না। বর্তমানে যারা রাষ্ট্রীয় ও প্রশাসনিক দায়িত্বে রয়েছেন, তাদের সামনে জনগণের কল্যাণে অবদান রাখার সুযোগ রয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দেশের পরিবেশ উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ আবাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, একজন কর্মকর্তা নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে পারেন। এরপর বাড়তি কোনো কাজ না করলেও হয়তো কেউ প্রশ্ন তুলবে না। কিন্তু পরিবেশের অবনতি হলে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে পুরো দেশের ওপর। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম, যারা এই দেশেই বসবাস করবে।

রাজধানী ঢাকার বায়ুদূষণ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর তালিকায় প্রথম বা দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে আসছে। এ ধরনের পরিস্থিতি দেশের জন্য উদ্বেগজনক এবং লজ্জার বিষয়।

তিনি মনে করেন, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে শুধু সরকারি নির্দেশনা বা প্রকল্প গ্রহণ যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন কার্যকর বাস্তবায়ন এবং নাগরিকদের সচেতন অংশগ্রহণ। পরিবেশ দূষণের কারণগুলো চিহ্নিত করে তা কমানোর জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণ, সবুজায়ন এবং প্রকৃতি সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। একই সঙ্গে পরিবেশ রক্ষার উদ্যোগগুলো যেন কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে, সে বিষয়েও কার্যকর তদারকির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের প্রকৃতির কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ ক্রমেই সীমিত হয়ে আসছে। নগরজীবনে খোলা জায়গা ও সবুজ পরিবেশের অভাব মানুষের জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে মানুষের জন্য প্রকৃতির সান্নিধ্য পাওয়ার উপযোগী জায়গা বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে।

এ লক্ষ্যে ছাদবাগান, স্কুলবাগান এবং বিভিন্ন ভবনে বাগান তৈরির বিষয়ে মানুষকে উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য স্থাপনায় পরিকল্পিতভাবে গাছ লাগানো এবং সবুজ পরিবেশ গড়ে তোলার মাধ্যমে নগরায়ণের পাশাপাশি প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ রক্ষার উদ্যোগকে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে তুলতে হবে। শুধু বিশেষ দিবস বা সরকারি কর্মসূচিতে গাছ লাগানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সারা বছর সবুজায়নের চর্চা চালু রাখতে হবে।

সভায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও পুরোনো গাছ সংরক্ষণে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশের মাদার ট্রি বা গুরুত্বপূর্ণ মাতৃগাছগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদ টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে পুরোনো ও গুরুত্বপূর্ণ গাছের ভূমিকা রয়েছে। তাই এসব গাছ চিহ্নিত করার পাশাপাশি সেগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

গাছ লাগানোর পাশাপাশি রোপণ করা চারার নিয়মিত পরিচর্যা নিশ্চিত করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। কারণ, শুধু চারা রোপণ করলেই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্দেশ্য পূরণ হয় না। চারাগুলো বেঁচে আছে কি না, সঠিকভাবে বেড়ে উঠছে কি না এবং সেগুলোর পরিচর্যা হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিজস্ব লোক পাঠিয়ে রোপণ করা গাছের অবস্থা সরেজমিনে যাচাই করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সফলতা নিশ্চিত করতে রোপণ-পরবর্তী পরিচর্যা ও তদারকিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়।

দেশজুড়ে সবুজায়ন বাড়ানোর লক্ষ্যে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, যথাযথ পরিকল্পনা ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের মানুষ এর সুফল পাবে।

তবে বড় পরিসরে বৃক্ষরোপণের ক্ষেত্রে শুধু গাছের সংখ্যা বাড়ানোর দিকে নজর দিলেই হবে না; গাছের টিকে থাকা এবং সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করাও জরুরি। এ জন্য পরিকল্পিতভাবে উপযুক্ত স্থানে গাছ লাগানো, নিয়মিত পরিচর্যা এবং ফলাফল পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, অন্যান্য মন্ত্রণালয় এবং সাধারণ মানুষ সমন্বিতভাবে কাজ করলে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে। পরিবেশ রক্ষায় সবাই এগিয়ে এলে সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে দেশের মানুষের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুফল নিশ্চিত করা যাবে।

সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বনায়ন সম্প্রসারণের উপায় বের করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। দেশের বনসম্পদ সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং বনভূমির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বনভূমি সংরক্ষণ, নতুন গাছ লাগানো এবং বিদ্যমান গাছপালার পরিচর্যার মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ এবং তা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করতে হবে।

একই সঙ্গে বন ও পরিবেশ রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তাও উঠে আসে সভায়।

সভায় আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, অন্য মন্ত্রণালয়গুলো নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম গাছ লাগালে সেই ঘাটতি পূরণে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগ নিতে হবে।

এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রোপণ করা গাছের পরিচর্যা ও তদারকি নিশ্চিত করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা গেলে কোথায় ঘাটতি রয়েছে, তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে। ফলে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির কার্যকারিতা বাড়ানো এবং পরিবেশ সংরক্ষণের লক্ষ্য অর্জনে অগ্রগতি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

পরিবেশ রক্ষায় সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, মানুষকে সচেতন করা গেলে পরিবেশ সংরক্ষণবিষয়ক কার্যক্রম বাস্তবায়ন অনেক সহজ হবে।

এ জন্য বৃক্ষরোপণ, গাছের পরিচর্যা, সবুজ এলাকা সংরক্ষণ এবং দূষণ কমানোর বিষয়ে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে পরিবেশ ও বন রক্ষায় নেওয়া প্রতিটি সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন পরিকল্পনায় জনসচেতনতামূলক কর্মসূচির জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

পরিবেশ রক্ষা কেবল একটি মন্ত্রণালয় বা নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে দায়িত্বশীল আচরণ গড়ে তোলার মাধ্যমেই এ ক্ষেত্রে স্থায়ী পরিবর্তন আনা সম্ভব।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পর্যালোচনা ও বাস্তবায়নবিষয়ক সভায় বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ, মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ফাহমিদা খানমসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় পরিবেশ সংরক্ষণ, বনভূমি সম্প্রসারণ, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন, মাদার ট্রি সংরক্ষণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়ে বিভিন্ন নির্দেশনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্যে পরিবেশ রক্ষায় সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগ, জনসম্পৃক্ততা এবং নিয়মিত তদারকির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা, মাদার ট্রি সংরক্ষণ, পার্বত্য চট্টগ্রামে বনায়ন সম্প্রসারণ এবং ঢাকার বায়ুদূষণ মোকাবিলার মতো বিষয়গুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের পরিবেশ উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে এসব উদ্যোগের প্রকৃত সফলতা নির্ভর করবে পরিকল্পনার বাস্তবায়ন, রোপণ করা গাছের টিকে থাকা, দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহির ওপর। পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

পরিবেশ রক্ষা ও বন সংরক্ষণে সরকার এবং জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট মহলে গুরুত্ব পাচ্ছে।

ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর হোসেনের

ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ে উদ্বেগ, ছয় মাসের মধ্যে মাদার ট্রি চিহ্নিত করে সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত; ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জোর

পরিবেশ রক্ষায় দায়িত্বের বাইরে কাজের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট সময়: ০১:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

দেশের পরিবেশ ও বন রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তাদের নির্ধারিত দায়িত্বের বাইরেও উদ্যোগী হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে সরকার, সরকারি কর্মকর্তা এবং সাধারণ মানুষ—সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। শুধু নিয়মিত দায়িত্ব পালন করলেই হবে না, দেশের মানুষের কল্যাণে সামর্থ্য অনুযায়ী বাড়তি উদ্যোগও নিতে হবে।

গতকাল সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও বাস্তবায়নবিষয়ক এক সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সভায় পরিবেশ সংরক্ষণ, বনভূমি সম্প্রসারণ, বৃক্ষরোপণ, ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের পরিবেশের উন্নয়ন একটি সম্মিলিত দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের পাশাপাশি জনগণকে সম্পৃক্ত করা জরুরি। সাধারণ মানুষ পরিবেশ রক্ষার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে যত বেশি সচেতন হবে, সরকারি উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন করা তত সহজ হবে। তাই পরিবেশ ও বন সংরক্ষণে গৃহীত প্রতিটি পরিকল্পনার সঙ্গে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও যুক্ত রাখতে হবে।

সভায় সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকের নির্ধারিত দায়িত্ব থাকলেও দেশের জন্য আরও কিছু করার সুযোগ রয়েছে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে পরিবেশ রক্ষায় আন্তরিকতার সঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, পরিবর্তন আনতে হলে প্রত্যেককে নিজের সক্ষমতা অনুযায়ী উদ্যোগী হতে হবে। দায়িত্বের নির্ধারিত সীমার মধ্যে কাজ শেষ করে থেমে গেলে চলবে না। বরং দেশের মানুষের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে অতিরিক্ত প্রচেষ্টা চালাতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের জন্য কাজ করার সুযোগ সবার জীবনে আসে না। বর্তমানে যারা রাষ্ট্রীয় ও প্রশাসনিক দায়িত্বে রয়েছেন, তাদের সামনে জনগণের কল্যাণে অবদান রাখার সুযোগ রয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দেশের পরিবেশ উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ আবাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, একজন কর্মকর্তা নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে পারেন। এরপর বাড়তি কোনো কাজ না করলেও হয়তো কেউ প্রশ্ন তুলবে না। কিন্তু পরিবেশের অবনতি হলে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে পুরো দেশের ওপর। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম, যারা এই দেশেই বসবাস করবে।

✒️ আরও পড়ুন 📖  ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের জোর প্রস্তুতি চলছে

রাজধানী ঢাকার বায়ুদূষণ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর তালিকায় প্রথম বা দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে আসছে। এ ধরনের পরিস্থিতি দেশের জন্য উদ্বেগজনক এবং লজ্জার বিষয়।

তিনি মনে করেন, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে শুধু সরকারি নির্দেশনা বা প্রকল্প গ্রহণ যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন কার্যকর বাস্তবায়ন এবং নাগরিকদের সচেতন অংশগ্রহণ। পরিবেশ দূষণের কারণগুলো চিহ্নিত করে তা কমানোর জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণ, সবুজায়ন এবং প্রকৃতি সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। একই সঙ্গে পরিবেশ রক্ষার উদ্যোগগুলো যেন কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে, সে বিষয়েও কার্যকর তদারকির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের প্রকৃতির কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ ক্রমেই সীমিত হয়ে আসছে। নগরজীবনে খোলা জায়গা ও সবুজ পরিবেশের অভাব মানুষের জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে মানুষের জন্য প্রকৃতির সান্নিধ্য পাওয়ার উপযোগী জায়গা বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে।

এ লক্ষ্যে ছাদবাগান, স্কুলবাগান এবং বিভিন্ন ভবনে বাগান তৈরির বিষয়ে মানুষকে উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য স্থাপনায় পরিকল্পিতভাবে গাছ লাগানো এবং সবুজ পরিবেশ গড়ে তোলার মাধ্যমে নগরায়ণের পাশাপাশি প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ রক্ষার উদ্যোগকে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে তুলতে হবে। শুধু বিশেষ দিবস বা সরকারি কর্মসূচিতে গাছ লাগানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সারা বছর সবুজায়নের চর্চা চালু রাখতে হবে।

সভায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও পুরোনো গাছ সংরক্ষণে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশের মাদার ট্রি বা গুরুত্বপূর্ণ মাতৃগাছগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদ টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে পুরোনো ও গুরুত্বপূর্ণ গাছের ভূমিকা রয়েছে। তাই এসব গাছ চিহ্নিত করার পাশাপাশি সেগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

গাছ লাগানোর পাশাপাশি রোপণ করা চারার নিয়মিত পরিচর্যা নিশ্চিত করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। কারণ, শুধু চারা রোপণ করলেই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্দেশ্য পূরণ হয় না। চারাগুলো বেঁচে আছে কি না, সঠিকভাবে বেড়ে উঠছে কি না এবং সেগুলোর পরিচর্যা হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

✒️ আরও পড়ুন 📖  জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হাতে তুলে দিল জাতীয় ঐকমত্য কমিশন

এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিজস্ব লোক পাঠিয়ে রোপণ করা গাছের অবস্থা সরেজমিনে যাচাই করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সফলতা নিশ্চিত করতে রোপণ-পরবর্তী পরিচর্যা ও তদারকিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়।

দেশজুড়ে সবুজায়ন বাড়ানোর লক্ষ্যে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, যথাযথ পরিকল্পনা ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের মানুষ এর সুফল পাবে।

তবে বড় পরিসরে বৃক্ষরোপণের ক্ষেত্রে শুধু গাছের সংখ্যা বাড়ানোর দিকে নজর দিলেই হবে না; গাছের টিকে থাকা এবং সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করাও জরুরি। এ জন্য পরিকল্পিতভাবে উপযুক্ত স্থানে গাছ লাগানো, নিয়মিত পরিচর্যা এবং ফলাফল পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, অন্যান্য মন্ত্রণালয় এবং সাধারণ মানুষ সমন্বিতভাবে কাজ করলে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে। পরিবেশ রক্ষায় সবাই এগিয়ে এলে সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে দেশের মানুষের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুফল নিশ্চিত করা যাবে।

সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বনায়ন সম্প্রসারণের উপায় বের করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। দেশের বনসম্পদ সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং বনভূমির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বনভূমি সংরক্ষণ, নতুন গাছ লাগানো এবং বিদ্যমান গাছপালার পরিচর্যার মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ এবং তা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করতে হবে।

একই সঙ্গে বন ও পরিবেশ রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তাও উঠে আসে সভায়।

সভায় আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, অন্য মন্ত্রণালয়গুলো নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম গাছ লাগালে সেই ঘাটতি পূরণে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগ নিতে হবে।

এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রোপণ করা গাছের পরিচর্যা ও তদারকি নিশ্চিত করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়।

✒️ আরও পড়ুন 📖  চার জেলায় দমকা হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা গেলে কোথায় ঘাটতি রয়েছে, তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে। ফলে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির কার্যকারিতা বাড়ানো এবং পরিবেশ সংরক্ষণের লক্ষ্য অর্জনে অগ্রগতি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

পরিবেশ রক্ষায় সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, মানুষকে সচেতন করা গেলে পরিবেশ সংরক্ষণবিষয়ক কার্যক্রম বাস্তবায়ন অনেক সহজ হবে।

এ জন্য বৃক্ষরোপণ, গাছের পরিচর্যা, সবুজ এলাকা সংরক্ষণ এবং দূষণ কমানোর বিষয়ে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে পরিবেশ ও বন রক্ষায় নেওয়া প্রতিটি সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন পরিকল্পনায় জনসচেতনতামূলক কর্মসূচির জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

পরিবেশ রক্ষা কেবল একটি মন্ত্রণালয় বা নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে দায়িত্বশীল আচরণ গড়ে তোলার মাধ্যমেই এ ক্ষেত্রে স্থায়ী পরিবর্তন আনা সম্ভব।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পর্যালোচনা ও বাস্তবায়নবিষয়ক সভায় বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ, মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ফাহমিদা খানমসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় পরিবেশ সংরক্ষণ, বনভূমি সম্প্রসারণ, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন, মাদার ট্রি সংরক্ষণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়ে বিভিন্ন নির্দেশনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্যে পরিবেশ রক্ষায় সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগ, জনসম্পৃক্ততা এবং নিয়মিত তদারকির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা, মাদার ট্রি সংরক্ষণ, পার্বত্য চট্টগ্রামে বনায়ন সম্প্রসারণ এবং ঢাকার বায়ুদূষণ মোকাবিলার মতো বিষয়গুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের পরিবেশ উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে এসব উদ্যোগের প্রকৃত সফলতা নির্ভর করবে পরিকল্পনার বাস্তবায়ন, রোপণ করা গাছের টিকে থাকা, দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহির ওপর। পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

পরিবেশ রক্ষা ও বন সংরক্ষণে সরকার এবং জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট মহলে গুরুত্ব পাচ্ছে।