ঢাকা , সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ভোর রাতে কয়েল জ্বালানোর সময় গ্যাস লাইন লিকেজে আগুন; বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন দম্পতি।

গ্যাস লিকেজে আগুন: সাভারে দগ্ধ দুই গার্মেন্টস কর্মী

ঢাকার সাভারে গ্যাস লাইন লিকেজ থেকে সৃষ্ট আগুনে দগ্ধ হয়েছেন এক দম্পতি। ভোর রাতে কয়েল জ্বালানোর সময় গ্যাসের লিকেজে আগুনের সূত্রপাত হলে মুহূর্তেই আগুনে ঝলসে যান তারা। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) ভোর রাতে সাভার মডেল থানাধীন মজিদপুর দিঘীরপাড় মসজিদ বাড়ি এলাকার নূর মোহাম্মদের দ্বিতীয় তলা ভবনের নিচতলায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

দগ্ধরা হলেন কাওসার ও তার স্ত্রী রুবি। তারা দুজনেই একটি তৈরি পোশাক কারখানার (গার্মেন্টস) কর্মী এবং ওই বাসার ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো ভোর রাতে তারা নিজেদের কক্ষে অবস্থান করছিলেন। এ সময় মশা তাড়ানোর জন্য কয়েল জ্বালাতে গেলে ঘরের ভেতরে জমে থাকা গ্যাসে আগুন ধরে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস লাইনের লিকেজের কারণে ঘরে গ্যাস জমে ছিল। কয়েলের আগুনের সংস্পর্শে আসতেই বিকট শব্দে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং স্বামী-স্ত্রী দুজনই দগ্ধ হন।

দুর্ঘটনার পর তাদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং গুরুতর আহত অবস্থায় কাওসার ও রুবিকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়।

চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে জানা গেছে, কাওসারের শরীরের প্রায় ১০০ শতাংশ এবং রুবির শরীরের ২৪ শতাংশ অংশ দগ্ধ হয়েছে। কাওসারের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাভার মডেল থানার তদন্ত ওসি নূর মোহাম্মদ জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে গ্যাস লাইন লিকেজের কারণে ঘরে গ্যাস জমে ছিল। কয়েল জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গে আগুনের বিস্ফোরণ ঘটে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, স্থানীয়দের দাবি, আবাসিক এলাকায় গ্যাস লাইনের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও লিকেজ শনাক্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও সতর্কতা প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্যাসের গন্ধ পাওয়া গেলে কোনোভাবেই আগুন, বৈদ্যুতিক সুইচ বা লাইট ব্যবহার করা উচিত নয়। দ্রুত জানালা-দরজা খুলে গ্যাসের সরবরাহ বন্ধ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে।

সর্বাধিক পঠিত

সাভার-আশুলিয়ায় ডিবির পৃথক অভিযান: ১৫০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৪

ভোর রাতে কয়েল জ্বালানোর সময় গ্যাস লাইন লিকেজে আগুন; বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন দম্পতি।

গ্যাস লিকেজে আগুন: সাভারে দগ্ধ দুই গার্মেন্টস কর্মী

আপডেট সময়: ০২:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

ঢাকার সাভারে গ্যাস লাইন লিকেজ থেকে সৃষ্ট আগুনে দগ্ধ হয়েছেন এক দম্পতি। ভোর রাতে কয়েল জ্বালানোর সময় গ্যাসের লিকেজে আগুনের সূত্রপাত হলে মুহূর্তেই আগুনে ঝলসে যান তারা। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) ভোর রাতে সাভার মডেল থানাধীন মজিদপুর দিঘীরপাড় মসজিদ বাড়ি এলাকার নূর মোহাম্মদের দ্বিতীয় তলা ভবনের নিচতলায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

দগ্ধরা হলেন কাওসার ও তার স্ত্রী রুবি। তারা দুজনেই একটি তৈরি পোশাক কারখানার (গার্মেন্টস) কর্মী এবং ওই বাসার ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো ভোর রাতে তারা নিজেদের কক্ষে অবস্থান করছিলেন। এ সময় মশা তাড়ানোর জন্য কয়েল জ্বালাতে গেলে ঘরের ভেতরে জমে থাকা গ্যাসে আগুন ধরে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস লাইনের লিকেজের কারণে ঘরে গ্যাস জমে ছিল। কয়েলের আগুনের সংস্পর্শে আসতেই বিকট শব্দে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং স্বামী-স্ত্রী দুজনই দগ্ধ হন।

দুর্ঘটনার পর তাদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং গুরুতর আহত অবস্থায় কাওসার ও রুবিকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়।

চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে জানা গেছে, কাওসারের শরীরের প্রায় ১০০ শতাংশ এবং রুবির শরীরের ২৪ শতাংশ অংশ দগ্ধ হয়েছে। কাওসারের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাভার মডেল থানার তদন্ত ওসি নূর মোহাম্মদ জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে গ্যাস লাইন লিকেজের কারণে ঘরে গ্যাস জমে ছিল। কয়েল জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গে আগুনের বিস্ফোরণ ঘটে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, স্থানীয়দের দাবি, আবাসিক এলাকায় গ্যাস লাইনের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও লিকেজ শনাক্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও সতর্কতা প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্যাসের গন্ধ পাওয়া গেলে কোনোভাবেই আগুন, বৈদ্যুতিক সুইচ বা লাইট ব্যবহার করা উচিত নয়। দ্রুত জানালা-দরজা খুলে গ্যাসের সরবরাহ বন্ধ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে।

✒️ আরও পড়ুন 📖  “ডিবি উত্তরের সফল মাদক অভিযান”