ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহিদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার তদন্ত শেষে ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। অভিযোগপত্রে হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রত্যেকের ভূমিকার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যালিস্টিক পরীক্ষার প্রতিবেদন ‘পজিটিভ’ এসেছে এবং গ্রেফতার আসামিদের জবানবন্দি, সিসিটিভি ফুটেজ, ফরেনসিক প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করেই অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে।
সিঙ্গাপুরে বৈঠকে চূড়ান্ত পরিকল্পনা
এদিকে হাদি হত্যা নিয়ে মঙ্গলবার একটি এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদন প্রকাশ করে যমুনা টেলিভিশন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সিঙ্গাপুরে বসে পাঁচ দিনব্যাপী একাধিক বৈঠকের মাধ্যমেই হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়।
সূত্র জানায়, গত বছরের ২১ জুলাই শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ সিঙ্গাপুরে যান। পরদিন ২২ জুলাই সন্ধ্যায় সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়া সীমান্তবর্তী একটি হোটেলে গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন—কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক এমপি ইলিয়াস মোল্লা, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী ওরফে বাপ্পীসহ আরও একজন।
সূত্রের দাবি, ওই পাঁচ দিনের বৈঠকেই হত্যার রূপরেখা, অর্থের লেনদেন ও দায়িত্ব বণ্টন নির্ধারণ করা হয়।
৫৫ লাখ টাকার এফডি ও হত্যার পারিশ্রমিক
ডিবির তদন্তে উঠে এসেছে, ২৬ জুলাই দেশে ফেরার পরপরই ফয়সালের সন্তানের নামে একটি ব্যাংকে ৫৫ লাখ টাকার ফিক্সড ডিপোজিট (এফডি) খোলা হয়। তদন্ত সংস্থার মতে, এই অর্থ ছিল হত্যাকাণ্ডের পারিশ্রমিক ও পরবর্তী নিরাপত্তা ব্যয়ের অংশ।
হত্যার কারণ কী
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, তাইজুল ইসলাম ওরফে বাপ্পীর সরাসরি নির্দেশনা ও পরিকল্পনায় এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। শরিফ ওসমান বিন হাদি নতুন ধারার রাজনীতি শুরু করেছিলেন এবং তার বক্তব্যে সরকার, আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে সমালোচনামূলক ও সত্যভিত্তিক বক্তব্য উঠে আসছিল। এসব কারণেই তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
হাদি হত্যায় কার কী ভূমিকা
ডিবির ভাষ্যমতে—মূল পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতা: সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী ওরফে বাপ্পী,
গুলি চালান: ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সাল করিম মাসুদ,
সহযোগী: আদাবর থানা যুবলীগের কর্মী আলমগীর হোসেন শেখ,
দেশত্যাগে সহায়তা: মুক্তি মাহমুদ ও ফিলিপ স্নাল,
সীমান্ত পারাপারে সহায়তা: নুরুজ্জামান ওরফে উজ্জ্বল, সিবিয়ন দিও ও সঞ্জয় চিসিম। হত্যাকাণ্ডের পর ফয়সাল, আলমগীর ও বাপ্পী ভারতে পালিয়ে যান।
পরিবারের সদস্যদের সম্পৃক্ততা
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, ফয়সালের বাবা মো. হুমায়ুন কবির মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেট পরিবর্তন, অস্ত্র রক্ষণাবেক্ষণ ও স্থানান্তরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার মা হাসি বেগম এবং বোন জেসমিন আক্তার আসামিদের আশ্রয় ও অস্ত্র সংরক্ষণে ভূমিকা রাখেন।
তদন্ত অব্যাহত
ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, মামলার তদন্ত এখনো চলমান এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক 






