ঢাকা , রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুলশানে পরিচালিত ‘দ্য কোর্ট ইয়ার্ড বাজার’ সিসা লাউঞ্জে পুলিশের অভিযান, বিপুল পরিমাণ সিসা ও নগদ অর্থ জব্দ — মালিকানা নিয়ে উঠে এলো প্রভাবশালী নামের তালিকা।

সাবেক মেয়র আতিকুলের মেয়ে বুশরা আফরিনের সিসা বার পরিচালনার অভিযোগে তোলপাড়

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলামের মেয়ে বুশরা আফরিন। ফাইল ছবি

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলামের মেয়ে বুশরা আফরিন— যিনি ডিএনসিসির চিফ হিট অফিসার (সিএইচও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন— তার বিরুদ্ধে গুলশানে অবৈধ সিসা বার পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে।

জাতীয় দৈনিক যুগান্তর-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘দ্য কোর্ট ইয়ার্ড বাজার’ নামের ওই সিসা লাউঞ্জটি বুশরার স্বামীর মালিকানাধীন। প্রতিষ্ঠানটিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও গুলশান থানার যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ সিসা, হুক্কা, মাদকদ্রব্য এবং নগদ অর্থ জব্দ করা হয়।

🚔 অভিযানের বিবরণ:
গত ১৯ আগস্ট রাত সাড়ে ১২টার দিকে গুলশান থানা পুলিশ উক্ত সিসা লাউঞ্জে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে প্রায় চার কেজি সিসা, একাধিক হুক্কা সেটআপ, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মাদকদ্রব্য এবং নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়।

ওসি হাফিজুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, “জায়গাটি মূলত ক্যাটারিং ব্যবসার জন্য ভাড়া নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু অনুমোদন ছাড়াই পরবর্তীতে রেস্টুরেন্ট ও সিসা বার হিসেবে চালু করা হয়।”


ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে আটক করা হয় এবং বুশরার স্বামী শরিফ আল জাওয়াদ, লাউঞ্জ পরিচালক আফরোজা বিনতে এনায়েতসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।

⚖️ রাজনৈতিক প্রভাব ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ:
যুগান্তর ও অন্যান্য গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়, রাজধানীর গুলশান-বনানী এলাকায় একাধিক সিসা বার রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল।

এক সময় সেলসিয়াসএক্সোটিক নামের দুটি সিসা বার আওয়ামী লীগ সরকারের সময় পুলিশ প্রহরায় চলত বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব বারের পেছনে ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসকের ছেলে আসিফ মোহাম্মদ নূর। সরকার পরিবর্তনের পর এসব বার বন্ধ হয়ে গেলেও, সম্প্রতি সেগুলো পুনরায় চালুর তদবির চলছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

🧠 বিশ্লেষণ:
রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর অনেক সিসা বার নতুন মালিকানায় “দখল” হয়ে যাচ্ছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের দাবি, এই ব্যবসার সঙ্গে কিছু প্রভাবশালী রাজনীতিক, সরকারি কর্মকর্তা, আইনজীবী ও তথাকথিত সাংবাদিকদের সিন্ডিকেট জড়িত।

তাদের মতে, “এভাবে তদবির ও প্রভাবের মাধ্যমে অবৈধ সিসা বারের ব্যবসা চিরতরে বন্ধ করা সম্ভব হবে কিনা— সেটি নিয়েই এখন প্রশ্ন।”

ডিবির পৃথক অভিযানে বিপুল মাদক উদ্ধার, আটক ৩

গুলশানে পরিচালিত ‘দ্য কোর্ট ইয়ার্ড বাজার’ সিসা লাউঞ্জে পুলিশের অভিযান, বিপুল পরিমাণ সিসা ও নগদ অর্থ জব্দ — মালিকানা নিয়ে উঠে এলো প্রভাবশালী নামের তালিকা।

সাবেক মেয়র আতিকুলের মেয়ে বুশরা আফরিনের সিসা বার পরিচালনার অভিযোগে তোলপাড়

আপডেট সময়: ১১:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলামের মেয়ে বুশরা আফরিন— যিনি ডিএনসিসির চিফ হিট অফিসার (সিএইচও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন— তার বিরুদ্ধে গুলশানে অবৈধ সিসা বার পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে।

জাতীয় দৈনিক যুগান্তর-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘দ্য কোর্ট ইয়ার্ড বাজার’ নামের ওই সিসা লাউঞ্জটি বুশরার স্বামীর মালিকানাধীন। প্রতিষ্ঠানটিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও গুলশান থানার যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ সিসা, হুক্কা, মাদকদ্রব্য এবং নগদ অর্থ জব্দ করা হয়।

🚔 অভিযানের বিবরণ:
গত ১৯ আগস্ট রাত সাড়ে ১২টার দিকে গুলশান থানা পুলিশ উক্ত সিসা লাউঞ্জে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে প্রায় চার কেজি সিসা, একাধিক হুক্কা সেটআপ, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মাদকদ্রব্য এবং নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়।

ওসি হাফিজুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, “জায়গাটি মূলত ক্যাটারিং ব্যবসার জন্য ভাড়া নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু অনুমোদন ছাড়াই পরবর্তীতে রেস্টুরেন্ট ও সিসা বার হিসেবে চালু করা হয়।”


ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে আটক করা হয় এবং বুশরার স্বামী শরিফ আল জাওয়াদ, লাউঞ্জ পরিচালক আফরোজা বিনতে এনায়েতসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।

⚖️ রাজনৈতিক প্রভাব ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ:
যুগান্তর ও অন্যান্য গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়, রাজধানীর গুলশান-বনানী এলাকায় একাধিক সিসা বার রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল।

এক সময় সেলসিয়াসএক্সোটিক নামের দুটি সিসা বার আওয়ামী লীগ সরকারের সময় পুলিশ প্রহরায় চলত বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব বারের পেছনে ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসকের ছেলে আসিফ মোহাম্মদ নূর। সরকার পরিবর্তনের পর এসব বার বন্ধ হয়ে গেলেও, সম্প্রতি সেগুলো পুনরায় চালুর তদবির চলছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

🧠 বিশ্লেষণ:
রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর অনেক সিসা বার নতুন মালিকানায় “দখল” হয়ে যাচ্ছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের দাবি, এই ব্যবসার সঙ্গে কিছু প্রভাবশালী রাজনীতিক, সরকারি কর্মকর্তা, আইনজীবী ও তথাকথিত সাংবাদিকদের সিন্ডিকেট জড়িত।

তাদের মতে, “এভাবে তদবির ও প্রভাবের মাধ্যমে অবৈধ সিসা বারের ব্যবসা চিরতরে বন্ধ করা সম্ভব হবে কিনা— সেটি নিয়েই এখন প্রশ্ন।”