ভারতের স্বঘোষিত ধর্মগুরু স্বামী চৈত্রনানন্দ সরস্বতী ওরফে ‘দিল্লি বাবা’কে অবশেষে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। যৌন নিপীড়ন ও প্রতারণার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয় গত আগস্টে। দীর্ঘ প্রায় দুই মাস পলাতক থাকার পর রবিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে আগ্রার তাজগঞ্জ এলাকার একটি হোটেল থেকে তাকে আটক করা হয়।
হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ফাঁস
গ্রেফতারের পর পুলিশের হাতে আসে তার একাধিক মোবাইল ফোন ও আইপ্যাড। সেখান থেকে উদ্ধার হওয়া হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে উঠে এসেছে ভয়ঙ্কর সব তথ্য। দেখা গেছে, তরুণী ছাত্রীদের অসামাজিক কাজে উৎসাহ দিতেন চৈত্রনানন্দ। এমনকি, এক কথোপকথনে তিনি সরাসরি এক ছাত্রীর কাছে জানতে চান—
“একজন দুবাই শেখ সেক্স পার্টনার খুঁজছেন, তোমার কি কোনো ভালো বন্ধু আছে?”
এছাড়া, ছাত্রীদের শিশুসুলভ সম্বোধনে বারবার ‘সুইটি বেবি ডটার ডল’, ‘বেবিইইই’ লিখে আবেশপূর্ণ বার্তা পাঠাতেন। কখনও রাত ১১:৫৯ মিনিটে লিখেছেন— “বেবি তুমি কোথায়?”, আবার দুপুর ১২:৪০ মিনিটে পাঠিয়েছেন— “গুড মর্নিং বেবি”।
এক চ্যাটে আরও স্পষ্টভাবে লিখেছেন:
“তুমি কি আমার সঙ্গে ঘুমাবে না?”
ছাত্রীরা ভুক্তভোগী
দিল্লির একটি বেসরকারি ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটের ১৭ জন ছাত্রী চৈত্রনানন্দের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনেন। অভিযোগে বলা হয়, তিনি শুধু ছাত্রীদের টার্গেট করতেন না, বরং হোস্টেলের সিসিটিভি ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণ করতেন দূর থেকে, যাতে তাদের ব্যক্তিগত মুহূর্ত পর্যবেক্ষণ করতে পারেন।
গ্রেফতারের সময় জব্দকৃত সরঞ্জাম
গ্রেফতারের সময় পুলিশের হাতে আসে—
একটি আইপ্যাড
তিনটি মোবাইল ফোন
ভুয়া ভিজিটিং কার্ড (জাতিসঙ্ঘ ও ব্রিকসের নামে ভুয়া পরিচয়)
দুটি পাসপোর্ট (যেখানে জন্মস্থান ও পিতা-মাতার নাম নিয়ে অসংগতি)
এ ছাড়া, তদন্তে জানা গেছে তিনি ভুয়া নথি ব্যবহার করে ৫০ লাখ রুপি তুলেছেন এবং তার ৮ কোটি রুপির সম্পত্তি ইতিমধ্যে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক 



