সার নিয়ে আতঙ্ক ছড়ানো, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, মজুদদারি এবং নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি বন্ধে মানিকগঞ্জে সার ডিলারদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছে জেলা প্রশাসন। সভায় জেলার সার সরবরাহ, মজুদ ও বিতরণ পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে কৃষকদের হয়রানি না করা এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রির বিষয়ে ডিলারদের কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
সভা শেষে নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি, কৃত্রিম সংকট তৈরি না করা এবং সার কিনতে আসা কৃষকদের কোনো ধরনের হয়রানি না করার অঙ্গীকার করেন ডিলাররা। এ সময় তারা হাত তুলে শপথ নেন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভাটি পরিচালনা করেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শাজাহান সিরাজ।
সভায় মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বিসিআইসি, বিএডিসি ও খুচরা সার ডিলাররা অংশ নেন। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, প্রশাসনের প্রতিনিধি, কৃষক প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সার সরবরাহ ও মজুদ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা
মতবিনিময় সভায় জেলার সার ব্যবস্থাপনার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে বিভিন্ন ধরনের সারের বরাদ্দ, ডিলারদের মজুদ, সরবরাহ ব্যবস্থা, কৃষকদের মধ্যে বিতরণ এবং বাজার পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়।
সভায় কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর মানিকগঞ্জ জেলায় সারের বরাদ্দ বেশি রয়েছে। ফলে বর্তমানে জেলায় সার সংকটের কোনো কারণ নেই। তবে কৃষকদের চাহিদা ও মৌসুমের প্রয়োজন বিবেচনায় আরও অতিরিক্ত সার বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
কৃষকদের মধ্যে সার নিয়ে যাতে অযথা আতঙ্ক তৈরি না হয়, সে বিষয়েও সভায় গুরুত্ব দেওয়া হয়। অন্য কোনো জেলার সারসংক্রান্ত খবর বা গুজবের ভিত্তিতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সার কিনে মজুদ না করার জন্য কৃষকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
বেশি দামে সার বিক্রি করলে কঠোর ব্যবস্থা
সভায় ডিলারদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, সরকার নির্ধারিত মূল্যের বাইরে কোনোভাবেই সার বিক্রি করা যাবে না। কোনো ডিলার অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করলে কিংবা কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ছাড়া কোনো কৃষককে নির্দিষ্ট একটি ধরনের সার কিনতে বাধ্য করা যাবে না বলেও স্পষ্টভাবে জানানো হয়। কৃষকের প্রয়োজন অনুযায়ী সার পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে ডিলারদের নির্দেশ দেওয়া হয়।
সার কিনতে এসে কৃষকরা যাতে কোনো ধরনের হয়রানি, ভোগান্তি বা অনিয়মের শিকার না হন, সে বিষয়েও ডিলারদের সতর্ক করা হয়।
কৃষকদের অযথা সার মজুদ না করার আহ্বান
সভায় জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, মানিকগঞ্জে বর্তমানে সারের কোনো সংকট নেই। অন্য জেলার সারসংক্রান্ত খবরের ওপর ভিত্তি করে কৃষকদের প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত সার কিনে মজুদ করার প্রয়োজন নেই।
তিনি বলেন, কৃষকদের কোনো নির্দিষ্ট ধরনের সার কিনতে বাধ্য করা যাবে না। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি কিংবা সার বিক্রির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ডিলারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক ডিলারদের কৃষকদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সার বিতরণ করার আহ্বান জানান।
আরও সার বরাদ্দের উদ্যোগ
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শাজাহান সিরাজ বলেন, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর মানিকগঞ্জে সারের বরাদ্দ বেশি রয়েছে। কৃষকদের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজন হলে আরও অতিরিক্ত বরাদ্দ চাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি সার সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থায় যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা কৃত্রিম সংকট তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
সভায় যারা বক্তব্য দেন
মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মৌসুমী নাসরিন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুম ভূঁইয়া, জেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম বাদল, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি গোলাম আবেদিন কায়সার, কৃষক প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান খান দোলন এবং বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন খান শামীম।
সভায় বক্তারা কৃষকদের কাছে সারের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করা, বাজারে অস্থিতিশীলতা রোধ এবং নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মতবিনিময় শেষে ডিলাররা সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না করা এবং সার কিনতে আসা কৃষকদের সঙ্গে কোনো ধরনের হয়রানিমূলক আচরণ না করার অঙ্গীকার করেন।

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি 











