রাজধানীর দক্ষিণ গুলশানে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নুর ইসলামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চারটি ওয়্যারহাউস সিলগালা করেছে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো। ‘অননুমোদিত’ ওয়্যারহাউসে শুল্কমুক্ত মদ রাখার অভিযোগের পর বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) গভীর রাতে যৌথ অভিযান চালিয়ে এসব ওয়্যারহাউস সিলগালা করা হয়।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
জানা গেছে, দক্ষিণ গুলশানের ‘টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেড’-এ অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। অভিযানে অংশ নেয় কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি), মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।
প্রাথমিক তদন্তে ‘গুরুতর অসঙ্গতি’
এনবিআরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অভিযানের সময় সংশ্লিষ্ট ওয়্যারহাউসগুলোতে প্রাথমিকভাবে ‘গুরুতর অসঙ্গতি’ পাওয়া যায়। এসব অসঙ্গতির প্রকৃতি ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র অধিকতর যাচাই-বাছাই করার জন্য চারটি ওয়্যারহাউস সিলগালা করা হয়েছে।
তবে প্রাথমিক পর্যায়ের এই পদক্ষেপকে চূড়ান্ত অপরাধের প্রমাণ হিসেবে দেখানো হয়নি। সরকারি সংস্থাগুলোর যাচাই ও তদন্তের পরই বিষয়টির বিস্তারিত চিত্র পরিষ্কার হবে।
কী নিয়ে অভিযান
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মূল অভিযোগের বিষয় হলো—শুল্কমুক্ত মদ রাখার ক্ষেত্রে ওয়্যারহাউস ব্যবহারের অনুমোদন ও সেখানে পণ্য সংরক্ষণের নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না।
বন্ডেড বা শুল্কমুক্ত পণ্যের ক্ষেত্রে আমদানি, সংরক্ষণ ও ব্যবহারের বিষয়ে নির্দিষ্ট নিয়ম ও নথিপত্র থাকে। ফলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ওয়্যারহাউসের অনুমোদন, পণ্যের মজুত, আমদানি-সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং অন্যান্য নথি যাচাই করছে বলে জানা গেছে।
এনবিআরের নথিতে দেখা যায়, টস বন্ড (প্রা.) লিমিটেডের নামে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ১৩ লাখ মার্কিন ডলারের বার্ষিক আমদানি প্রাপ্যতা নির্ধারণের বিষয়েও নথি রয়েছে।
চার ওয়্যারহাউস সিলগালা
যৌথ অভিযানের পর সংশ্লিষ্ট চারটি ওয়্যারহাউস সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, অধিকতর যাচাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত এসব ওয়্যারহাউসের কার্যক্রম সম্পর্কে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এখন মূলত সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন, ওয়্যারহাউসে থাকা পণ্যের হিসাব, আমদানি ও সংরক্ষণসংক্রান্ত নথি এবং শুল্কমুক্ত পণ্য ব্যবস্থাপনার নিয়ম যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কি না—এসব বিষয় যাচাই করা হবে।
তদন্তে বেরিয়ে আসতে পারে আরও তথ্য
চারটি ওয়্যারহাউস সিলগালা করার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী তদন্তের দিকে নজর রয়েছে। বিশেষ করে ওয়্যারহাউসগুলোতে থাকা মদ ও অন্যান্য পণ্যের পরিমাণ, নথিপত্রের সঙ্গে বাস্তব মজুদের সামঞ্জস্য, অনুমোদিত সীমা এবং পণ্য সংরক্ষণের বৈধতা—এসব বিষয় তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে চূড়ান্তভাবে উল্লেখ করা সমীচীন নয়। কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও যাচাই শেষে প্রকৃত তথ্য এবং আইনগত অবস্থান স্পষ্ট হবে।
সালমান মুক্তাদিরের নাম কেন আলোচনায়
সম্প্রতি বিভিন্ন ঘটনায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এর মধ্যেই তাঁর শ্বশুর শেখ নুর ইসলামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে উল্লেখ করা চারটি ওয়্যারহাউস সিলগালা করার খবর নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তবে ওয়্যারহাউস সিলগালা করার ঘটনাটি সালমান মুক্তাদিরের ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড বা দায়ের প্রমাণ নয়। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অভিযানটি সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওয়্যারহাউস ও শুল্কমুক্ত পণ্য সংরক্ষণসংক্রান্ত বিষয় যাচাইয়ের অংশ।
এর আগে শেখ নুর ইসলামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান টস বন্ড (প্রা.) লিমিটেড-এর নাম বিভিন্ন রাজস্ব ও আদালত-সংক্রান্ত নথিতেও দেখা যায়।
এখন নজর তদন্তের পরবর্তী ধাপে
চারটি ওয়্যারহাউস সিলগালা করার মধ্য দিয়ে বিষয়টি এখন অধিকতর যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর তদন্তে কী ধরনের অসঙ্গতি পাওয়া গেছে, শুল্কমুক্ত পণ্য সংরক্ষণে কোনো নিয়ম লঙ্ঘন হয়েছিল কি না এবং পরবর্তী সময়ে কী ধরনের আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়—তা এখন দেখার বিষয়।
কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রতিবেদন বা পরবর্তী কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত পাওয়া গেলে ঘটনাটির প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।

অনলাইন ডেস্ক 






