ঢাকা , রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ
ইয়াবা ও হেরোইনসহ ৭ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ধামরাইয়ে ৯ মামলার আসামি ছিনতাইকারী গ্রেফতার সাভারের ভাঙচুর মামলায় জামিনে মুক্ত ছাত্রদল নেতা রেজাউল করিম জুয়েল ঢাকা জেলায় মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, গ্রেফতার ৪ ব্যবসায়ী ধামরাইয়ে অবৈধ সীসা কারখানায় অভিযান, জরিমানা ৫০ হাজার টাকা নিয়ম না মানায় অপপ্রচার: সাভার সাব-রেজিস্ট্রারের অভিযোগ গাঁজাসহ আশুলিয়ায় ৪ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার আশুলিয়ায় ডিবি পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২৬ গ্রাম হেরোইনসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার সারা দেশে শুরু প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫, প্রথম দিনে বাংলা আশুলিয়ায় ডিবির অভিযানে বিদেশি অস্ত্রসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেফতার
লাইফস্টাইল ডেস্ক

খেজুর দিয়ে ইফতার: সুন্নত, বরকত ও তাকওয়ার অনুশীলন

রমজান মাস আত্মসংযম, তাকওয়া ও আনুগত্যের অনন্য প্রশিক্ষণ। সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও নফসের চাহিদা থেকে বিরত থেকে একজন মুমিন আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করেন। সারাদিনের সিয়াম সাধনার পর সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে ইফতার— রোজাদারের জন্য এক বিশেষ ও আবেগঘন মুহূর্ত।

এ সময়টিতে কী দিয়ে ইফতার করা উত্তম— এ প্রশ্ন অনেকের মনেই আসে। বিশেষ করে খেজুর দিয়ে ইফতার করার বিষয়টি সুন্নত হিসেবে পরিচিত। কুরআন ও হাদিসের আলোকে এ বিষয়ে রয়েছে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা।

ইফতার অর্থ রোজা ভাঙা। রমজান বা অন্য সময় রোজা রাখার পর কিছু খেয়ে রোজা সম্পন্ন করাকেই ইফতার বলা হয়। রোজা শেষে বিলম্ব না করে দ্রুত ইফতার করা প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নত।
হাদিসে এসেছে—
لاَ يَزَالُ النَّاسُ بِخَيْرٍ مَا عَجَّلُوا الْفِطْرَ
“যতদিন মানুষ তাড়াতাড়ি ইফতার করবে, ততদিন তারা কল্যাণের মধ্যে থাকবে।”
— সহিহ সহিহ বুখারি ১৯৫৭; সহিহ মুসলিম ১০৯৮

এ হাদিস থেকে স্পষ্ট হয়, সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করা বরকত ও কল্যাণের কারণ। অযথা বিলম্ব করা সুন্নতের পরিপন্থী।

পানি বা যে কোনো হালাল খাবার দিয়ে ইফতার করা যায়। খেজুর খেয়েই ইফতার করতে হবে— এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তবে আরবের সহজলভ্য ফল হিসেবে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইফতারে খেজুর গ্রহণ করতেন এবং সাহাবিদেরও তা দিয়ে ইফতার করতে উৎসাহ দিয়েছেন।

হাদিসে বর্ণিত হয়েছে—
إِذَا أَفْطَرَ أَحَدُكُمْ فَلْيُفْطِرْ عَلَى تَمْرٍ فَإِنَّهُ بَرَكَةٌ فَإِنْ لَمْ يَجِدْ فَلْيُفْطِرْ عَلَى مَاءٍ فَإِنَّهُ طَهُورٌ
“তোমাদের কেউ যখন ইফতার করবে, সে যেন খেজুর দিয়ে ইফতার করে। নিশ্চয়ই এতে বরকত রয়েছে। যদি খেজুর না পায়, তবে পানি দিয়ে ইফতার করবে। কেননা পানি পবিত্র।”
— জামি আত-তিরমিজি ৬৫৪

এ হাদিস থেকে বোঝা যায়—খেজুর দিয়ে ইফতার করা সুন্নত, এতে বরকত রয়েছে, খেজুর না থাকলে পানি দিয়ে ইফতার করাও সুন্নতসম্মত।

পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন আবহাওয়া ও মাটির কারণে নানা ধরনের ফল-ফসল জন্মে। আমাদের দেশে খেজুর তুলনামূলক কম উৎপন্ন হলেও বর্তমানে বিভিন্ন আরব দেশ থেকে খেজুর আমদানি হওয়ায় তা সহজলভ্য হয়েছে।

যার সামর্থ্য আছে, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নত অনুসরণ করে খেজুর দিয়ে ইফতার করতে পারেন। পাশাপাশি আমাদের দেশে সহজলভ্য ও পুষ্টিকর ফল— যেমন কলা, পেয়ারা, তরমুজ, আনারস প্রভৃতি দিয়েও ইফতার করা যায়। সব ফল-ফসলই আল্লাহর নেয়ামত ও তাঁর অসীম কুদরতের নিদর্শন।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন—
“আর তিনিই আসমান থেকে বর্ষণ করেছেন বৃষ্টি… নিশ্চয় এতে নিদর্শন রয়েছে এমন কওমের জন্য যারা ঈমান আনে।”
— সুরা আল-আনআম, আয়াত ৯৯

এ আয়াতে খেজুরসহ নানা ফলকে আল্লাহর নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ইফতারে ফল গ্রহণ করা কেবল শারীরিক উপকারই নয়, বরং স্রষ্টার নেয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করে।

খেজুর দিয়ে ইফতার করা ফরজ নয়, তবে তা সুন্নত ও বরকতময় আমল। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অনুসরণে খেজুর দিয়ে ইফতার করা উত্তম; আর খেজুর না থাকলে পানি দিয়েও ইফতার করা যথেষ্ট।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করা, অহেতুক বিলম্ব না করা, আল্লাহর নেয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা, রমজানের চেতনাকে জীবনে ধারণ করা।

রমজানের প্রতিটি ইফতার যেন সুন্নতের অনুসরণ, কৃতজ্ঞতা ও তাকওয়ার চর্চার মাধ্যমে আমাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে বরকত বয়ে আনে— এটাই হোক আমাদের প্রত্যাশা।

সর্বাধিক পঠিত

ইয়াবা ও হেরোইনসহ ৭ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

লাইফস্টাইল ডেস্ক

খেজুর দিয়ে ইফতার: সুন্নত, বরকত ও তাকওয়ার অনুশীলন

আপডেট সময়: ০৩:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রমজান মাস আত্মসংযম, তাকওয়া ও আনুগত্যের অনন্য প্রশিক্ষণ। সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও নফসের চাহিদা থেকে বিরত থেকে একজন মুমিন আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করেন। সারাদিনের সিয়াম সাধনার পর সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে ইফতার— রোজাদারের জন্য এক বিশেষ ও আবেগঘন মুহূর্ত।

এ সময়টিতে কী দিয়ে ইফতার করা উত্তম— এ প্রশ্ন অনেকের মনেই আসে। বিশেষ করে খেজুর দিয়ে ইফতার করার বিষয়টি সুন্নত হিসেবে পরিচিত। কুরআন ও হাদিসের আলোকে এ বিষয়ে রয়েছে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা।

ইফতার অর্থ রোজা ভাঙা। রমজান বা অন্য সময় রোজা রাখার পর কিছু খেয়ে রোজা সম্পন্ন করাকেই ইফতার বলা হয়। রোজা শেষে বিলম্ব না করে দ্রুত ইফতার করা প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নত।
হাদিসে এসেছে—
لاَ يَزَالُ النَّاسُ بِخَيْرٍ مَا عَجَّلُوا الْفِطْرَ
“যতদিন মানুষ তাড়াতাড়ি ইফতার করবে, ততদিন তারা কল্যাণের মধ্যে থাকবে।”
— সহিহ সহিহ বুখারি ১৯৫৭; সহিহ মুসলিম ১০৯৮

এ হাদিস থেকে স্পষ্ট হয়, সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করা বরকত ও কল্যাণের কারণ। অযথা বিলম্ব করা সুন্নতের পরিপন্থী।

পানি বা যে কোনো হালাল খাবার দিয়ে ইফতার করা যায়। খেজুর খেয়েই ইফতার করতে হবে— এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তবে আরবের সহজলভ্য ফল হিসেবে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইফতারে খেজুর গ্রহণ করতেন এবং সাহাবিদেরও তা দিয়ে ইফতার করতে উৎসাহ দিয়েছেন।

হাদিসে বর্ণিত হয়েছে—
إِذَا أَفْطَرَ أَحَدُكُمْ فَلْيُفْطِرْ عَلَى تَمْرٍ فَإِنَّهُ بَرَكَةٌ فَإِنْ لَمْ يَجِدْ فَلْيُفْطِرْ عَلَى مَاءٍ فَإِنَّهُ طَهُورٌ
“তোমাদের কেউ যখন ইফতার করবে, সে যেন খেজুর দিয়ে ইফতার করে। নিশ্চয়ই এতে বরকত রয়েছে। যদি খেজুর না পায়, তবে পানি দিয়ে ইফতার করবে। কেননা পানি পবিত্র।”
— জামি আত-তিরমিজি ৬৫৪

এ হাদিস থেকে বোঝা যায়—খেজুর দিয়ে ইফতার করা সুন্নত, এতে বরকত রয়েছে, খেজুর না থাকলে পানি দিয়ে ইফতার করাও সুন্নতসম্মত।

পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন আবহাওয়া ও মাটির কারণে নানা ধরনের ফল-ফসল জন্মে। আমাদের দেশে খেজুর তুলনামূলক কম উৎপন্ন হলেও বর্তমানে বিভিন্ন আরব দেশ থেকে খেজুর আমদানি হওয়ায় তা সহজলভ্য হয়েছে।

যার সামর্থ্য আছে, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নত অনুসরণ করে খেজুর দিয়ে ইফতার করতে পারেন। পাশাপাশি আমাদের দেশে সহজলভ্য ও পুষ্টিকর ফল— যেমন কলা, পেয়ারা, তরমুজ, আনারস প্রভৃতি দিয়েও ইফতার করা যায়। সব ফল-ফসলই আল্লাহর নেয়ামত ও তাঁর অসীম কুদরতের নিদর্শন।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন—
“আর তিনিই আসমান থেকে বর্ষণ করেছেন বৃষ্টি… নিশ্চয় এতে নিদর্শন রয়েছে এমন কওমের জন্য যারা ঈমান আনে।”
— সুরা আল-আনআম, আয়াত ৯৯

এ আয়াতে খেজুরসহ নানা ফলকে আল্লাহর নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ইফতারে ফল গ্রহণ করা কেবল শারীরিক উপকারই নয়, বরং স্রষ্টার নেয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করে।

খেজুর দিয়ে ইফতার করা ফরজ নয়, তবে তা সুন্নত ও বরকতময় আমল। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অনুসরণে খেজুর দিয়ে ইফতার করা উত্তম; আর খেজুর না থাকলে পানি দিয়েও ইফতার করা যথেষ্ট।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করা, অহেতুক বিলম্ব না করা, আল্লাহর নেয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা, রমজানের চেতনাকে জীবনে ধারণ করা।

রমজানের প্রতিটি ইফতার যেন সুন্নতের অনুসরণ, কৃতজ্ঞতা ও তাকওয়ার চর্চার মাধ্যমে আমাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে বরকত বয়ে আনে— এটাই হোক আমাদের প্রত্যাশা।