ঢাকা , সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ
আলিয়া-দীপিকাকে নিয়ে কী বললেন রাধিকা? তনুশ্রী দত্তের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা ভালো ছিল না, অভিযোগ অভিনেত্রী হেতল যাদবের টানা ১০ দিনের ছুটি শেষে আজ খুলছে স্কুল-মাদ্রাসা, কলেজে ক্লাস ১ নভেম্বর সাভার-আশুলিয়ায় ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৩ সাভার বিএনপি সভাপতি সাইফুলকে নিয়ে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ, ক্ষুব্ধ তৃণমূল আমিনবাজারে সরকারি ডিজেল পাচারের অভিযোগ, ট্রাকচালক আটক পিএইচপিতে এআইয়ের সহায়তায় শনাক্ত গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি, ঝুঁকিতে কোটি কোটি ওয়েবসাইট সাভারে হাসপাতালে শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ, স্বজনদের ভাঙচুর পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন ইশরাক হোসেন, দুপুর ২টায় সংবাদ সম্মেলন দিল্লি সফর বাদ দিয়ে মুম্বাইয়ে বৈঠক, রুবিওর ভারত সফর ঘিরে কূটনৈতিক বিতর্ক
অ্যাপার্টমেন্ট’ ছবির শুটিং ঘিরে পুরোনো অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে আনলেন হেতল, তনুশ্রীর আচরণকে বললেন ‘অপেশাদার’

তনুশ্রী দত্তের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা ভালো ছিল না, অভিযোগ অভিনেত্রী হেতল যাদবের

বলিউড অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্তের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন অভিনেত্রী হেতল যাদব। ২০১০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলারধর্মী চলচ্চিত্র ‘অ্যাপার্টমেন্ট’-এ তনুশ্রী দত্তের সঙ্গে কাজ করেছিলেন হেতল। দীর্ঘ সময় পর সেই ছবির শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তনুশ্রীর পেশাগত আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। হেতলের অভিযোগ, শুটিংয়ের সময় তনুশ্রীর আচরণ তাঁর কাছে মোটেও পেশাদার বলে মনে হয়নি।

সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে হেতল দাবি করেন, ছবির শুটিং চলাকালে বিভিন্ন সময়ে পরিচালকের নির্দেশনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করতেন তনুশ্রী। কোনো দৃশ্য নির্দিষ্টভাবে অভিনয় করার পরামর্শ দেওয়া হলে তিনি বিরক্ত হতেন বলেও অভিযোগ করেন হেতল। তাঁর মতে, চলচ্চিত্র নির্মাণের মতো সম্মিলিত কাজের ক্ষেত্রে পরিচালকের নির্দেশনা অনুসরণ করা এবং সহকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

হেতলের এই বক্তব্য সামনে আসার পর পুরোনো ছবির শুটিং ঘিরে বলিউডের কর্মপরিবেশ ও পেশাদার সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে তনুশ্রী দত্তের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ সম্পর্কে তাঁর কোনো পাল্টা বক্তব্য এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

‘অ্যাপার্টমেন্ট’-এর শুটিংয়ে কী ঘটেছিল?

২০১০ সালে মুক্তি পাওয়া ‘অ্যাপার্টমেন্ট’ ছিল মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার ঘরানার একটি চলচ্চিত্র। ছবিটিতে অভিনয়ের পাশাপাশি একাধিক গানের কাজেও যুক্ত ছিলেন হেতল যাদব। তাঁর দাবি, শুটিংয়ের বিভিন্ন পর্যায়ে এমন কিছু পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যা কাজের স্বাভাবিক পরিবেশকে ব্যাহত করেছিল।

সাক্ষাৎকারে নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে হেতল বলেন, তনুশ্রী দত্তের সঙ্গে কাজ করে তিনি সন্তুষ্ট হতে পারেননি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সহকর্মী হিসেবে তনুশ্রীর আচরণ তাঁর কাছে অপেশাদার বলে মনে হয়েছিল।

হেতলের অভিযোগ, পরিচালকের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যের অভিনয় বা উপস্থাপনা নিয়ে নির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হলে তা সব সময় ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা হতো না। ফলে পরিকল্পনা অনুযায়ী দৃশ্য ধারণের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতো বলে তিনি মনে করেন।

তবে এসব বক্তব্য হেতল যাদবের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও অভিযোগের ভিত্তিতে দেওয়া। সংশ্লিষ্ট ঘটনার স্বাধীন সত্যতা যাচাইয়ের তথ্য এখানে পাওয়া যায়নি।

রোম্যান্টিক গানের শুটিং নিয়েও অভিযোগ

ছবির একটি রোম্যান্টিক গানের শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেও কথা বলেছেন হেতল যাদব। তাঁর দাবি, ওই গানের দৃশ্য ধারণের সময় শারীরিক স্পর্শের কয়েকটি নির্দিষ্ট ধরন নিয়ে তনুশ্রী দত্ত আপত্তি জানিয়েছিলেন।

হেতলের বক্তব্য অনুযায়ী, এ ধরনের পরিস্থিতির কারণে শুটিংয়ের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। তিনি আরও দাবি করেন, বারবার এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় ছবির প্রযোজক ও পরিচালকেরাও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন।

চলচ্চিত্রের কোনো রোম্যান্টিক দৃশ্য ধারণের ক্ষেত্রে অভিনয়শিল্পীদের সম্মতি, দৃশ্যের পূর্বপরিকল্পনা এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে পরিচালকের পরিকল্পনা ও অভিনয়শিল্পীদের ব্যক্তিগত সীমারেখার মধ্যে সমন্বয় রাখাও নির্মাণপ্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। হেতল তাঁর অভিজ্ঞতার আলোকে শুটিংয়ের সময় পেশাদার সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।

পরিচালকের নির্দেশনা ও পেশাদারিত্ব নিয়ে হেতলের বক্তব্য

হেতল যাদবের মতে, একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ কখনোই শুধু অভিনেতাদের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করে না। এর সঙ্গে যুক্ত থাকেন পরিচালক, চিত্রগ্রাহক, শব্দগ্রহণকারী, আলোকসজ্জাকর্মীসহ বহু পেশাজীবী। নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করতে হলে প্রত্যেকের সহযোগিতা প্রয়োজন।

তাঁর বক্তব্য, কোনো দৃশ্য কীভাবে ধারণ করা হবে, তা নিয়ে পরিচালকের একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকে। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অভিনয়শিল্পীদের সহযোগিতা না থাকলে পুরো ইউনিটের কাজ ব্যাহত হতে পারে। এ কারণে একজন অভিনেতার প্রতিভার পাশাপাশি তাঁর পেশাদার মনোভাবও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন হেতল।

তাঁর অভিযোগের মূল বিষয় ছিল, শুটিংয়ের সময় পরিচালকের নির্দেশনা গ্রহণ এবং সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে তিনি প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাননি। তবে এ বিষয়ে তনুশ্রী দত্তের বক্তব্য জানা না যাওয়ায় ঘটনাটির অন্য দিক সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

কেরিয়ার থেকে কাজ হারানোর দাবি নিয়েও মন্তব্য

সাক্ষাৎকারে তনুশ্রী দত্তের কেরিয়ার নিয়েও কথা বলেছেন হেতল যাদব। এর আগে তনুশ্রী দাবি করেছিলেন, তাঁর হাত থেকে একাধিক কাজ চলে গিয়েছিল এবং প্রযোজকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে তাঁকে বিভিন্ন প্রকল্প থেকে বাদ দিতে বাধ্য করা হয়েছিল।

তনুশ্রীর সেই বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে হেতল নিজের মতামত তুলে ধরেন। তাঁর মতে, একজন শিল্পীর দীর্ঘমেয়াদি কেরিয়ার গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে প্রতিভার পাশাপাশি কাজের প্রতি সততা, দায়িত্বশীলতা এবং পেশাদার আচরণও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

হেতলের বক্তব্য, কোনো অভিনেতা যদি মনে করেন তাঁর কেরিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাহলে সেই পরিস্থিতির পেছনের কারণগুলোও বিবেচনা করা প্রয়োজন। তবে তাঁর এই মন্তব্য ব্যক্তিগত মূল্যায়ন হিসেবে দেখা উচিত; তনুশ্রীর কেরিয়ার থেকে কাজ হারানোর কারণ সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো সিদ্ধান্ত হিসেবে নয়।

নিজের কেরিয়ারের বাধার কথাও স্বীকার করলেন হেতল

শুধু তনুশ্রী দত্তকে নিয়ে মন্তব্য করেই থেমে থাকেননি হেতল যাদব। নিজের কর্মজীবনেও যে তাঁকে বিভিন্ন বাধা ও প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে, সেটিও স্বীকার করেছেন তিনি।

তবে তাঁর মতে, কোনো একটি কাজ হাতছাড়া হওয়া মানেই একজন অভিনেতার কেরিয়ার শেষ হয়ে যাওয়া নয়। চলচ্চিত্রজগতে কাজের সুযোগ তৈরি হওয়া ও হারিয়ে যাওয়ার পেছনে একাধিক বিষয় ভূমিকা রাখতে পারে। তাই একটি প্রকল্পে সুযোগ না পাওয়া দিয়ে কোনো শিল্পীর সম্পূর্ণ কর্মজীবনের মূল্যায়ন করা উচিত নয় বলে তাঁর বক্তব্য থেকে ধারণা পাওয়া যায়।

এ প্রসঙ্গে বলিউড অভিনেতা গোবিন্দের উদাহরণও তুলে ধরেন হেতল। তাঁর মতে, বিপুল জনপ্রিয়তা ও অভিনয়প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও একজন শিল্পীর ব্যক্তিগত অভ্যাস ও সিদ্ধান্ত তাঁর কর্মজীবনে ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

গোবিন্দকে ঘিরে তাঁর এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে হেতল বোঝাতে চেয়েছেন, প্রতিভা একজন শিল্পীর সাফল্যের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলেও দীর্ঘদিন সেই সাফল্য ধরে রাখতে পেশাদারিত্ব ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তেরও ভূমিকা রয়েছে।

পুরোনো অভিজ্ঞতা ঘিরে নতুন আলোচনা

‘অ্যাপার্টমেন্ট’ ছবির মুক্তির ১৬ বছর পর হেতল যাদবের এই বক্তব্য সামনে আসায় পুরোনো শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বলিউডে অভিনয়শিল্পীদের পারস্পরিক সম্পর্ক, পরিচালকের নির্দেশনা এবং পেশাদার আচরণের গুরুত্ব আবারও আলোচনায় এসেছে।

তবে এ ধরনের বিষয়ে একপক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়। হেতল যাদব তাঁর অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে, তনুশ্রী দত্তের পাল্টা বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও পূর্ণাঙ্গভাবে বোঝা সম্ভব হবে।

সব মিলিয়ে, দীর্ঘদিন আগের একটি চলচ্চিত্রের শুটিং নিয়ে হেতল যাদবের মন্তব্য বলিউডের কর্মপরিবেশ ও পেশাদার সম্পর্কের বিষয়টি সামনে এনেছে। একই সঙ্গে একজন শিল্পীর প্রতিভার পাশাপাশি দায়িত্বশীলতা, পারস্পরিক সম্মান এবং কাজের প্রতি নিষ্ঠা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেই প্রশ্নও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

আলিয়া-দীপিকাকে নিয়ে কী বললেন রাধিকা?

অ্যাপার্টমেন্ট’ ছবির শুটিং ঘিরে পুরোনো অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে আনলেন হেতল, তনুশ্রীর আচরণকে বললেন ‘অপেশাদার’

তনুশ্রী দত্তের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা ভালো ছিল না, অভিযোগ অভিনেত্রী হেতল যাদবের

আপডেট সময়: এক ঘন্টা আগে

বলিউড অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্তের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন অভিনেত্রী হেতল যাদব। ২০১০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলারধর্মী চলচ্চিত্র ‘অ্যাপার্টমেন্ট’-এ তনুশ্রী দত্তের সঙ্গে কাজ করেছিলেন হেতল। দীর্ঘ সময় পর সেই ছবির শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তনুশ্রীর পেশাগত আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। হেতলের অভিযোগ, শুটিংয়ের সময় তনুশ্রীর আচরণ তাঁর কাছে মোটেও পেশাদার বলে মনে হয়নি।

সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে হেতল দাবি করেন, ছবির শুটিং চলাকালে বিভিন্ন সময়ে পরিচালকের নির্দেশনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করতেন তনুশ্রী। কোনো দৃশ্য নির্দিষ্টভাবে অভিনয় করার পরামর্শ দেওয়া হলে তিনি বিরক্ত হতেন বলেও অভিযোগ করেন হেতল। তাঁর মতে, চলচ্চিত্র নির্মাণের মতো সম্মিলিত কাজের ক্ষেত্রে পরিচালকের নির্দেশনা অনুসরণ করা এবং সহকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

হেতলের এই বক্তব্য সামনে আসার পর পুরোনো ছবির শুটিং ঘিরে বলিউডের কর্মপরিবেশ ও পেশাদার সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে তনুশ্রী দত্তের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ সম্পর্কে তাঁর কোনো পাল্টা বক্তব্য এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

‘অ্যাপার্টমেন্ট’-এর শুটিংয়ে কী ঘটেছিল?

২০১০ সালে মুক্তি পাওয়া ‘অ্যাপার্টমেন্ট’ ছিল মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার ঘরানার একটি চলচ্চিত্র। ছবিটিতে অভিনয়ের পাশাপাশি একাধিক গানের কাজেও যুক্ত ছিলেন হেতল যাদব। তাঁর দাবি, শুটিংয়ের বিভিন্ন পর্যায়ে এমন কিছু পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যা কাজের স্বাভাবিক পরিবেশকে ব্যাহত করেছিল।

সাক্ষাৎকারে নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে হেতল বলেন, তনুশ্রী দত্তের সঙ্গে কাজ করে তিনি সন্তুষ্ট হতে পারেননি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সহকর্মী হিসেবে তনুশ্রীর আচরণ তাঁর কাছে অপেশাদার বলে মনে হয়েছিল।

হেতলের অভিযোগ, পরিচালকের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যের অভিনয় বা উপস্থাপনা নিয়ে নির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হলে তা সব সময় ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা হতো না। ফলে পরিকল্পনা অনুযায়ী দৃশ্য ধারণের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতো বলে তিনি মনে করেন।

✒️ আরও পড়ুন 📖  খোলামেলা পোশাকে সমালোচনার কেন্দ্রে মডেল আঁখি

তবে এসব বক্তব্য হেতল যাদবের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও অভিযোগের ভিত্তিতে দেওয়া। সংশ্লিষ্ট ঘটনার স্বাধীন সত্যতা যাচাইয়ের তথ্য এখানে পাওয়া যায়নি।

রোম্যান্টিক গানের শুটিং নিয়েও অভিযোগ

ছবির একটি রোম্যান্টিক গানের শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেও কথা বলেছেন হেতল যাদব। তাঁর দাবি, ওই গানের দৃশ্য ধারণের সময় শারীরিক স্পর্শের কয়েকটি নির্দিষ্ট ধরন নিয়ে তনুশ্রী দত্ত আপত্তি জানিয়েছিলেন।

হেতলের বক্তব্য অনুযায়ী, এ ধরনের পরিস্থিতির কারণে শুটিংয়ের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। তিনি আরও দাবি করেন, বারবার এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় ছবির প্রযোজক ও পরিচালকেরাও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন।

চলচ্চিত্রের কোনো রোম্যান্টিক দৃশ্য ধারণের ক্ষেত্রে অভিনয়শিল্পীদের সম্মতি, দৃশ্যের পূর্বপরিকল্পনা এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে পরিচালকের পরিকল্পনা ও অভিনয়শিল্পীদের ব্যক্তিগত সীমারেখার মধ্যে সমন্বয় রাখাও নির্মাণপ্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। হেতল তাঁর অভিজ্ঞতার আলোকে শুটিংয়ের সময় পেশাদার সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।

পরিচালকের নির্দেশনা ও পেশাদারিত্ব নিয়ে হেতলের বক্তব্য

হেতল যাদবের মতে, একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ কখনোই শুধু অভিনেতাদের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করে না। এর সঙ্গে যুক্ত থাকেন পরিচালক, চিত্রগ্রাহক, শব্দগ্রহণকারী, আলোকসজ্জাকর্মীসহ বহু পেশাজীবী। নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করতে হলে প্রত্যেকের সহযোগিতা প্রয়োজন।

তাঁর বক্তব্য, কোনো দৃশ্য কীভাবে ধারণ করা হবে, তা নিয়ে পরিচালকের একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকে। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অভিনয়শিল্পীদের সহযোগিতা না থাকলে পুরো ইউনিটের কাজ ব্যাহত হতে পারে। এ কারণে একজন অভিনেতার প্রতিভার পাশাপাশি তাঁর পেশাদার মনোভাবও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন হেতল।

তাঁর অভিযোগের মূল বিষয় ছিল, শুটিংয়ের সময় পরিচালকের নির্দেশনা গ্রহণ এবং সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে তিনি প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাননি। তবে এ বিষয়ে তনুশ্রী দত্তের বক্তব্য জানা না যাওয়ায় ঘটনাটির অন্য দিক সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

কেরিয়ার থেকে কাজ হারানোর দাবি নিয়েও মন্তব্য

✒️ আরও পড়ুন 📖  “ফ্লোরাল ড্রেসে মোহনীয় দীঘি, সোশ্যাল মিডিয়ায় মাতালেন ভক্তদের”

সাক্ষাৎকারে তনুশ্রী দত্তের কেরিয়ার নিয়েও কথা বলেছেন হেতল যাদব। এর আগে তনুশ্রী দাবি করেছিলেন, তাঁর হাত থেকে একাধিক কাজ চলে গিয়েছিল এবং প্রযোজকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে তাঁকে বিভিন্ন প্রকল্প থেকে বাদ দিতে বাধ্য করা হয়েছিল।

তনুশ্রীর সেই বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে হেতল নিজের মতামত তুলে ধরেন। তাঁর মতে, একজন শিল্পীর দীর্ঘমেয়াদি কেরিয়ার গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে প্রতিভার পাশাপাশি কাজের প্রতি সততা, দায়িত্বশীলতা এবং পেশাদার আচরণও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

হেতলের বক্তব্য, কোনো অভিনেতা যদি মনে করেন তাঁর কেরিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাহলে সেই পরিস্থিতির পেছনের কারণগুলোও বিবেচনা করা প্রয়োজন। তবে তাঁর এই মন্তব্য ব্যক্তিগত মূল্যায়ন হিসেবে দেখা উচিত; তনুশ্রীর কেরিয়ার থেকে কাজ হারানোর কারণ সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো সিদ্ধান্ত হিসেবে নয়।

নিজের কেরিয়ারের বাধার কথাও স্বীকার করলেন হেতল

শুধু তনুশ্রী দত্তকে নিয়ে মন্তব্য করেই থেমে থাকেননি হেতল যাদব। নিজের কর্মজীবনেও যে তাঁকে বিভিন্ন বাধা ও প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে, সেটিও স্বীকার করেছেন তিনি।

তবে তাঁর মতে, কোনো একটি কাজ হাতছাড়া হওয়া মানেই একজন অভিনেতার কেরিয়ার শেষ হয়ে যাওয়া নয়। চলচ্চিত্রজগতে কাজের সুযোগ তৈরি হওয়া ও হারিয়ে যাওয়ার পেছনে একাধিক বিষয় ভূমিকা রাখতে পারে। তাই একটি প্রকল্পে সুযোগ না পাওয়া দিয়ে কোনো শিল্পীর সম্পূর্ণ কর্মজীবনের মূল্যায়ন করা উচিত নয় বলে তাঁর বক্তব্য থেকে ধারণা পাওয়া যায়।

এ প্রসঙ্গে বলিউড অভিনেতা গোবিন্দের উদাহরণও তুলে ধরেন হেতল। তাঁর মতে, বিপুল জনপ্রিয়তা ও অভিনয়প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও একজন শিল্পীর ব্যক্তিগত অভ্যাস ও সিদ্ধান্ত তাঁর কর্মজীবনে ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

গোবিন্দকে ঘিরে তাঁর এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে হেতল বোঝাতে চেয়েছেন, প্রতিভা একজন শিল্পীর সাফল্যের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলেও দীর্ঘদিন সেই সাফল্য ধরে রাখতে পেশাদারিত্ব ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তেরও ভূমিকা রয়েছে।

✒️ আরও পড়ুন 📖  সেলিনা জেটলির নতুন অভিযোগ, বিচ্ছেদ নিয়ে তোলপাড়

পুরোনো অভিজ্ঞতা ঘিরে নতুন আলোচনা

‘অ্যাপার্টমেন্ট’ ছবির মুক্তির ১৬ বছর পর হেতল যাদবের এই বক্তব্য সামনে আসায় পুরোনো শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বলিউডে অভিনয়শিল্পীদের পারস্পরিক সম্পর্ক, পরিচালকের নির্দেশনা এবং পেশাদার আচরণের গুরুত্ব আবারও আলোচনায় এসেছে।

তবে এ ধরনের বিষয়ে একপক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়। হেতল যাদব তাঁর অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে, তনুশ্রী দত্তের পাল্টা বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও পূর্ণাঙ্গভাবে বোঝা সম্ভব হবে।

সব মিলিয়ে, দীর্ঘদিন আগের একটি চলচ্চিত্রের শুটিং নিয়ে হেতল যাদবের মন্তব্য বলিউডের কর্মপরিবেশ ও পেশাদার সম্পর্কের বিষয়টি সামনে এনেছে। একই সঙ্গে একজন শিল্পীর প্রতিভার পাশাপাশি দায়িত্বশীলতা, পারস্পরিক সম্মান এবং কাজের প্রতি নিষ্ঠা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেই প্রশ্নও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।