ঢাকার সাভারে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি উত্তর) বিশেষ অভিযানে চোরাই মালামাল কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে তিনটি তিন চাকার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা অটোরিকশাগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) ভোর ৪টার দিকে সাভার মডেল থানাধীন আমিনবাজার ২০ শয্যা হাসপাতালের সামনে মহাসড়কের লোকাল লেনে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ঢাকা জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের নির্দেশনায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছিল। এ সময় ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি উত্তর) অফিসার ইনচার্জ সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে এসআই মো. মতিউর রহমান সঙ্গীয় কর্মকর্তা ও ফোর্সসহ সাভার মডেল থানা এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলেন।
অভিযান চলাকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, আমিনবাজার এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তি চোরাই মালামাল কেনাবেচা করছেন। খবরের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার পর ঘটনাস্থলে অভিযান চালানো হয়।
এ সময় সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করে তাঁদের হেফাজত থেকে তিনটি তিন চাকার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে উদ্ধার করা অটোরিকশাসহ প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—
১. মেহেদী হাসান মুন্না (২৮): তাঁর পৈতৃক বাড়ি নড়াইল জেলার কালিয়া থানার বিল বাউছ এলাকায়। বর্তমানে তিনি ঢাকার দারুস সালাম থানাধীন টোলারবাগ এলাকায় বসবাস করতেন।
২. মো. সোহেল (৩২): তাঁর পৈতৃক বাড়ি ভোলা সদর থানার পশ্চিম ইলিশা এলাকায়। বর্তমানে তিনি ঢাকার দারুস সালাম থানাধীন মাজার রোডের লালকুঠি এলাকায় বসবাস করতেন।
৩. মো. মুছা হাওলাদার (৩৮): তাঁর পৈতৃক বাড়ি ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর থানার পশ্চিম ফলুহার এলাকায়। বর্তমানে তিনি ঢাকার দারুস সালাম থানাধীন লালকুঠি এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন।
অভিযানে উদ্ধার হওয়া তিনটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মোট আনুমানিক মূল্য ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ। এসব অটোরিকশার প্রকৃত মালিকানা, চুরির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং কেনাবেচার বিষয়ে তদন্তের বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় পেনাল কোডের ৪১৩ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পরে তাঁদের বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়।
চোরাই যানবাহন উদ্ধার এবং এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বাংলাদেশ খবর ডেস্ক 










