মুক্তির আগেই প্রযুক্তিগত দিক থেকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে দক্ষিণ ভারতীয় তারকা অল্লু অর্জুন ও বলিউড অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘রাকা’। সিনেমাটির নির্মাণে একসঙ্গে ৩৭ জন শিল্পীকে নিয়ে মোশন ক্যাপচার শুটিংয়ের উদ্যোগ নতুন এক নজির তৈরি করেছে বলে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে।
সিনেমাটির পরিচালক অ্যাটলি এবং অল্লু অর্জুনের এই বিশেষ প্রজেক্টে আধুনিক চলচ্চিত্র প্রযুক্তির এমন ব্যবহার ভারতীয় সিনেমায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একই সঙ্গে বড় পরিসরে মোশন ক্যাপচার প্রযুক্তির প্রয়োগকে ঘিরে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রাঙ্গনেও তৈরি হয়েছে আগ্রহ।
‘রাকা’র সবচেয়ে আলোচিত দিকগুলোর একটি হলো একসঙ্গে ৩৭ জন শিল্পীকে নিয়ে মোশন ক্যাপচার শুটিং। এ ধরনের প্রযুক্তিতে অভিনেতাদের শরীরের নড়াচড়া ও অভিনয়ের বিভিন্ন অভিব্যক্তি বিশেষ সেন্সরের মাধ্যমে ধারণ করে পরবর্তী সময়ে তা ডিজিটাল চরিত্র বা দৃশ্য নির্মাণে ব্যবহার করা হয়।
এর আগে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন বড় চলচ্চিত্র ও স্টুডিও প্রযোজনায় সীমিতসংখ্যক শিল্পীকে একসঙ্গে নিয়ে মোশন ক্যাপচার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। তবে ‘রাকা’য় ৩৭ জন শিল্পীকে একই সময়ে এই প্রযুক্তির আওতায় আনার উদ্যোগকে নির্মাণ দলের বড় প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নির্মাণসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, এই বিশেষ প্রযুক্তিগত অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে সিনেমাটির টিম গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম তুলেছে। তবে এ ধরনের রেকর্ডের নির্দিষ্ট ক্যাটাগরি, রেকর্ডের শিরোনাম ও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে এলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।
যদি রেকর্ডটির তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়, তাহলে ভারতীয় সিনেমার প্রযুক্তিনির্ভর নির্মাণের ক্ষেত্রে এটি উল্লেখযোগ্য একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
‘রাকা’কে সায়েন্স ফিকশন, অ্যাকশন ও ফ্যান্টাসির সমন্বয়ে নির্মিত বড় বাজেটের সিনেমা হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। সিনেমাটির ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস বা ভিএফএক্সের পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে বলে নির্মাণসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সিনেমাটির মোট বাজেট প্রায় ৮০০ কোটি টাকা এবং এর মধ্যে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে স্পেশাল এফেক্টস ও ভিএফএক্সের কাজে।
হলিউডের বিভিন্ন বড় প্রজেক্টে কাজ করা লোলা ভিএফএক্স সিনেমাটির ভিজ্যুয়াল ইফেক্টসের দায়িত্বে রয়েছে বলে জানা গেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রযুক্তিবিদদের একটি বড় দল হায়দরাবাদে এসে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সেটআপ তৈরিতে কাজ করছে।
সিনেমাটির নির্মাণকে আরও উন্নত করতে পরিচালক অ্যাটলি নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় একটি বিশেষ মোশন ক্যাপচার স্টুডিও তৈরি করেছেন বলে জানা গেছে। সেখানে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে অভিনেতাদের পারফরম্যান্স ধারণ করা হচ্ছে।
একসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক শিল্পীকে নিয়ে মোশন ক্যাপচার শুটিং পরিচালনার জন্য সমন্বয়, ক্যামেরা প্রযুক্তি, সেন্সর, আলো এবং সফটওয়্যার ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নিখুঁত পরিকল্পনা প্রয়োজন। ‘রাকা’র টিম সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশেষ প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
‘রাকা’র সিনেমাটোগ্রাফির দায়িত্বে রয়েছেন জি কে বিষ্ণু। এর আগে ‘মারসাল’, ‘বিজিল’ ও ‘জওয়ান’-এর মতো আলোচিত সিনেমায় কাজ করেছেন তিনি।
অ্যাটলির সঙ্গে তার পূর্বের কাজের অভিজ্ঞতাও ‘রাকা’র ভিজ্যুয়াল নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে সায়েন্স ফিকশন ও ফ্যান্টাসিনির্ভর গল্পে বাস্তব দৃশ্যের সঙ্গে ডিজিটাল ভিজ্যুয়ালের সমন্বয় সিনেমাটির অন্যতম আকর্ষণ হতে পারে।
‘রাকা’র ভিজ্যুয়াল নির্মাণে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাও কাজে লাগানো হচ্ছে। ‘গার্ডিয়ানস অব দ্য গ্যালাক্সি’, ‘দ্য ম্যান্ডালোরিয়ান’ এবং ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’-এর মতো বড় প্রজেক্টে কাজ করা প্রস্থেটিক মেকআপ আর্টিস্ট কার্লটন কোলম্যান অ্যাটলির দলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এর ফলে সিনেমাটির চরিত্র নির্মাণ, মেকআপ এবং বিশেষ ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনায় আন্তর্জাতিক মানের কাজ দেখার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
‘রাকা’র গল্পের অন্যতম আকর্ষণীয় দিক হতে পারে অল্লু অর্জুনের একাধিক চরিত্রে অভিনয়। নির্মাতাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, একটি পরিবারের বংশপরম্পরার চারটি পৃথক প্রজন্মের চার চরিত্রকে একই সময়ের গল্পে উপস্থাপন করা হবে। আর চার চরিত্রেই অভিনয় করবেন অল্লু অর্জুন।
গল্পে বাস্তবতা, ইলিউশন ও রহস্যের সমন্বয় রাখার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে সিনেমাটির গল্প বলার ধরন এবং ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা দর্শকদের জন্য ভিন্ন অভিজ্ঞতা তৈরি করতে পারে।
‘রাকা’ অল্লু অর্জুনের ক্যারিয়ারের ২২তম সিনেমা হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। অন্যদিকে পরিচালক অ্যাটলির পরিচালিত সিনেমার তালিকায় এটি ষষ্ঠ প্রজেক্ট।
দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় তারকা অল্লু অর্জুন এবং সফল পরিচালক অ্যাটলির এই প্রথম বড় পরিসরের যৌথ প্রজেক্ট হওয়ায় সিনেমাটিকে ঘিরে শুরু থেকেই দর্শকদের আগ্রহ রয়েছে। তার সঙ্গে দীপিকা পাড়ুকোনের মতো তারকার উপস্থিতি প্রত্যাশাকে আরও বাড়িয়েছে।
তবে সিনেমাটির চূড়ান্ত সাফল্য নির্ভর করবে গল্প, অভিনয়, নির্মাণ, ভিএফএক্স এবং দর্শক প্রতিক্রিয়ার ওপর। প্রযুক্তিগত আয়োজন যতই বড় হোক, মুক্তির পর দর্শকরা সিনেমাটিকে কীভাবে গ্রহণ করেন—সেটিই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে ‘রাকা’র অবস্থান।
বড় বাজেটের পাশাপাশি অত্যাধুনিক মোশন ক্যাপচার, ভিএফএক্স ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রযুক্তিগত টিমের সমন্বয়ে ‘রাকা’ ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছে। একসঙ্গে ৩৭ জন শিল্পীকে নিয়ে মোশন ক্যাপচার শুটিংয়ের উদ্যোগ সফল হওয়া ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাণে প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হতে পারে।
সিনেমাটি মুক্তির পর এর গল্প ও অভিনয়ের পাশাপাশি দর্শকদের বিশেষ নজর থাকবে এর ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস এবং মোশন ক্যাপচার প্রযুক্তির ব্যবহারের দিকে। এখন অপেক্ষা—বড় পর্দায় এই বিশাল আয়োজন কতটা সফলভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারেন অ্যাটলি ও তার দল।

বাংলাদেশ খবর ডেস্ক 








