ঢাকার সাভারে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) উত্তর। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর ২০২৬) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সাভার মডেল থানাধীন সিন্ধুরিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, উদ্ধার করা ইয়াবার ওজন প্রায় ১৩ গ্রাম এবং এর আনুমানিক বাজারমূল্য ৩৯ হাজার টাকা।
ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের নির্দেশনায় পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ডিবি (উত্তর)-এর অফিসার ইনচার্জ সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অংশ নেয়। অভিযানে নেতৃত্বদানকারী দলের সদস্য হিসেবে উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শাহাদাৎ হোসেনসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. গিয়াস উদ্দিন (৩২) এবং মো. নজরুল ইসলাম (৩৫)।
গিয়াস উদ্দিনের পিতার নাম মো. মনু মিয়া এবং মাতার নাম মোছা. পেয়ারা বেগম। তাঁর স্থায়ী ঠিকানা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা থানার কালতা, দিঘিরপাড় এলাকায়। তিনি বর্তমানে সাভার মডেল থানাধীন বক্তারপুর বেদেপাড়া এলাকায় বসবাস করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
অপর গ্রেপ্তার ব্যক্তি মো. নজরুল ইসলামের পিতার নাম মৃত নিয়ামত আলী এবং মাতার নাম মোছা. নুরজাহান। তাঁর বাড়ি ঢাকার ধামরাই থানার সোমভাগ ইউনিয়নের ফুকুটিয়া এলাকায়।
ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর) পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সিন্ধুরিয়া এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনার সময় ওই দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ১৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যের মোট ওজন আনুমানিক ১৩ গ্রাম বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ৩৯ হাজার টাকা। তবে মাদকদ্রব্যের প্রকৃত বাজারমূল্য স্থান, সময় ও অন্যান্য পরিস্থিতি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে এর আগে চারটি মাদকসংক্রান্ত মামলা রয়েছে। অন্যদিকে নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে একটি পূর্বের মামলা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
তবে পূর্বের মামলা থাকা মানেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়। এসব মামলার বর্তমান অবস্থা বা আদালতের রায় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পুলিশের সরবরাহ করা বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়নি।
মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ বেচাকেনা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে থাকে। সাভার ও আশপাশের এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার অংশ হিসেবেই এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে বলে পুলিশের দেওয়া তথ্য থেকে জানা যায়।
মাদক ব্যবসা ও মাদকদ্রব্যের অবৈধ সরবরাহ সমাজ, পরিবার এবং তরুণ প্রজন্মের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মামলার পরবর্তী কার্যক্রম আদালতের আইনানুগ প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি হবে। অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণ করবেন আদালত।
সংবাদসূত্র: ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর) পুলিশের দেওয়া তথ্য।
প্রকাশ-সংক্রান্ত নোট: এ সংবাদে উল্লিখিত অভিযোগ ও পূর্বের মামলার তথ্য পুলিশের সরবরাহ করা বিবৃতির ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দোষী সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই প্রযোজ্য।

বাংলাদেশ খবর ডেস্ক 






