ঢাকা , রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ
কুমিল্লায় কিশোরী জান্নাতুল তাজমীন হত্যা: আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, গ্রেপ্তার অটোরিকশাচালক প্রথম রানেই ব্যাট তুলে উদযাপন, চার শূন্যের চাপ কাটিয়ে লিটনের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার বিতর্ক পেছনে ফেলে আল নাসরের জার্সিতে ফিরেই গোল, রোনালদোর ক্যারিয়ারে ৯৮০তম মাইলফলক মুকেশ আম্বানিকে ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী’ বলে কটাক্ষ ইলন মাস্কের, স্টারলিংক নিয়ে নতুন বিতর্ক সাভারে ডিবি পুলিশের অভিযান: ১৩০ পিস ইয়াবাসহ দুইজন গ্রেপ্তার জুমার দিন দুই খুতবার মাঝে যেসব দোয়া পড়বেন কক্সবাজারে হোটেলকক্ষে কুলসুমা হত্যা: সাত দিন পর রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে অভিযুক্ত ইরফান গ্রেফতার রোগ প্রতিরোধে সহায়ক ১০ ধরনের খাবার, সুস্থ থাকতে রাখুন প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় উৎসবের আগে ত্বক উজ্জ্বল ও সতেজ রাখতে খাদ্যতালিকায় রাখুন যেসব খাবার
কুতুপালংয়ের মধুরছড়া এলাকা থেকে এপিবিএনের সহায়তায় গ্রেফতার; হোটেলের ওয়াশরুম থেকে তরুণীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত চলছে, হত্যার কারণ এখনো নিশ্চিত নয়।

কক্সবাজারে হোটেলকক্ষে কুলসুমা হত্যা: সাত দিন পর রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে অভিযুক্ত ইরফান গ্রেফতার

কক্সবাজার শহরের একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষে কুলসুমা আক্তার (২২) হত্যার ঘটনায় মামলার প্রধান অভিযুক্ত মো. ইরফানকে (২৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার সাত দিন পর বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে উখিয়ার কুতুপালংয়ের মধুরছড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকা থেকে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সহায়তায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, গোপন তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে ইরফানকে আটক করা হয়েছে। তাঁকে আদালতে হাজির করার পর জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনের চেষ্টা করা হবে।

গ্রেফতার ইরফান কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৪-এর বাসিন্দা। তিনি মৃত লেদু হোসেন ও জরিনা খাতুনের ছেলে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

হোটেলের ওয়াশরুমে মিলেছিল কুলসুমার মরদেহ

পুলিশ ও মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার সদর মডেল থানার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার স্ট্যান্ড পার্ক রিসোর্টের তৃতীয় তলার ৩০২ নম্বর কক্ষের ওয়াশরুম থেকে কুলসুমা আক্তারের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

হোটেল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইরফান ও কুলসুমা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে দুই বছরের একটি শিশুসহ ওই কক্ষে উঠেছিলেন। পরে হোটেলের পরিচ্ছন্নতাকর্মী মমতাজ বেগম শিশুর কান্নার শব্দ শুনতে পেয়ে কক্ষে প্রবেশ করেন। এ সময় ওয়াশরুমে কুলসুমার রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান তিনি।

বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে হোটেল কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তদন্ত শুরু করে।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। একজন তরুণীর এমন নির্মম মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান স্থানীয়রা।

ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তকে খুঁজছিল পুলিশ

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই ইরফানকে গ্রেফতারের জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। এর মধ্যে ১ অক্টোবর নিহতের পরিবারের সদস্যরা ইরফানকে প্রধান আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। পরবর্তী সময়ে গোপন তথ্য সংগ্রহ ও প্রযুক্তিগত সহায়তার ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ইরফানকে গ্রেফতার করা হয়।

তবে এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না, হত্যাকাণ্ডে একাধিক ব্যক্তির সম্পৃক্ততা ছিল কি না এবং কী কারণে কুলসুমাকে হত্যা করা হয়েছে—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

আদালতের মামলার শুনানিতে কক্সবাজারে এসেছিলেন কুলসুমা

নিহত কুলসুমা আক্তার কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার পূর্ব চান্দেরঘোনা এলাকার মোহাম্মদ আলমের মেয়ে।

পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ঈদগাঁওয়ের চাক্কার দোকান এলাকার হারুনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তবে দাম্পত্য জীবনে বনিবনা না হওয়ায় স্বামীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছিলেন কুলসুমা।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই মামলার শুনানির তারিখ ছিল ৩০ সেপ্টেম্বর। সে কারণে তিনি সেদিন ঈদগাঁও থেকে কক্সবাজার শহরে আসেন। ওই দিনই শহরের একটি আবাসিক হোটেল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

আদালতের মামলার শুনানিতে অংশ নিতে এসে এমন ঘটনার শিকার হওয়ার বিষয়টি নিহতের পরিবারের জন্য গভীর শোক ও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে স্থানীয় সূত্রের দাবি

স্থানীয় একটি সূত্রের দাবি, স্বামীর সঙ্গে বিরোধের পর ইরফানের সঙ্গে কুলসুমার সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। পরে অন্য এক যুবকের সঙ্গে কুলসুমার সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পেরে ইরফান ক্ষুব্ধ ছিলেন বলেও ওই সূত্র দাবি করেছে।

সূত্রটির আরও দাবি, ঘটনার দিন হোটেলকক্ষে মোবাইল ফোনে আসা একটি কলকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়।

তবে এসব তথ্য এখনো তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছে বলে জানা যায়নি। ফলে ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েনকে হত্যাকাণ্ডের নিশ্চিত কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশি তদন্ত, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং অন্যান্য প্রমাণের মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ।

তদন্তে হত্যার কারণ উদ্‌ঘাটনের চেষ্টা

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী অভিযুক্ত ইরফানকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ইরফানকে আদালতে হাজির করার পর জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের কারণ জানার চেষ্টা করা হবে।

তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা, হত্যার পেছনের উদ্দেশ্য এবং ঘটনার আগে ও পরে কী ঘটেছিল, সে সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা

কুলসুমা আক্তার হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে শুধু গ্রেফতারই মামলার শেষ ধাপ নয়। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নির্ধারণ, প্রমাণ সংগ্রহ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাই এবং আদালতে অভিযোগ প্রমাণের বিষয়গুলোও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

নিহত তরুণীর পরিবার যাতে ন্যায়বিচার পায়, সে জন্য নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি আইন অনুযায়ী বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া প্রয়োজন।

প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হয়নি। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হওয়া সাপেক্ষে তাঁর দায় নির্ধারিত হবে।

কুমিল্লায় কিশোরী জান্নাতুল তাজমীন হত্যা: আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, গ্রেপ্তার অটোরিকশাচালক

কুতুপালংয়ের মধুরছড়া এলাকা থেকে এপিবিএনের সহায়তায় গ্রেফতার; হোটেলের ওয়াশরুম থেকে তরুণীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত চলছে, হত্যার কারণ এখনো নিশ্চিত নয়।

কক্সবাজারে হোটেলকক্ষে কুলসুমা হত্যা: সাত দিন পর রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে অভিযুক্ত ইরফান গ্রেফতার

আপডেট সময়: ১১:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

কক্সবাজার শহরের একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষে কুলসুমা আক্তার (২২) হত্যার ঘটনায় মামলার প্রধান অভিযুক্ত মো. ইরফানকে (২৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার সাত দিন পর বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে উখিয়ার কুতুপালংয়ের মধুরছড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকা থেকে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সহায়তায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, গোপন তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে ইরফানকে আটক করা হয়েছে। তাঁকে আদালতে হাজির করার পর জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনের চেষ্টা করা হবে।

গ্রেফতার ইরফান কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৪-এর বাসিন্দা। তিনি মৃত লেদু হোসেন ও জরিনা খাতুনের ছেলে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

হোটেলের ওয়াশরুমে মিলেছিল কুলসুমার মরদেহ

পুলিশ ও মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার সদর মডেল থানার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার স্ট্যান্ড পার্ক রিসোর্টের তৃতীয় তলার ৩০২ নম্বর কক্ষের ওয়াশরুম থেকে কুলসুমা আক্তারের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

হোটেল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইরফান ও কুলসুমা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে দুই বছরের একটি শিশুসহ ওই কক্ষে উঠেছিলেন। পরে হোটেলের পরিচ্ছন্নতাকর্মী মমতাজ বেগম শিশুর কান্নার শব্দ শুনতে পেয়ে কক্ষে প্রবেশ করেন। এ সময় ওয়াশরুমে কুলসুমার রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান তিনি।

বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে হোটেল কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তদন্ত শুরু করে।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। একজন তরুণীর এমন নির্মম মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান স্থানীয়রা।

ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তকে খুঁজছিল পুলিশ

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই ইরফানকে গ্রেফতারের জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। এর মধ্যে ১ অক্টোবর নিহতের পরিবারের সদস্যরা ইরফানকে প্রধান আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

✒️ আরও পড়ুন 📖  আশুলিয়ায় ডিবি পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২৬ গ্রাম হেরোইনসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। পরবর্তী সময়ে গোপন তথ্য সংগ্রহ ও প্রযুক্তিগত সহায়তার ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ইরফানকে গ্রেফতার করা হয়।

তবে এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না, হত্যাকাণ্ডে একাধিক ব্যক্তির সম্পৃক্ততা ছিল কি না এবং কী কারণে কুলসুমাকে হত্যা করা হয়েছে—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

আদালতের মামলার শুনানিতে কক্সবাজারে এসেছিলেন কুলসুমা

নিহত কুলসুমা আক্তার কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার পূর্ব চান্দেরঘোনা এলাকার মোহাম্মদ আলমের মেয়ে।

পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ঈদগাঁওয়ের চাক্কার দোকান এলাকার হারুনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তবে দাম্পত্য জীবনে বনিবনা না হওয়ায় স্বামীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছিলেন কুলসুমা।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই মামলার শুনানির তারিখ ছিল ৩০ সেপ্টেম্বর। সে কারণে তিনি সেদিন ঈদগাঁও থেকে কক্সবাজার শহরে আসেন। ওই দিনই শহরের একটি আবাসিক হোটেল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

আদালতের মামলার শুনানিতে অংশ নিতে এসে এমন ঘটনার শিকার হওয়ার বিষয়টি নিহতের পরিবারের জন্য গভীর শোক ও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে স্থানীয় সূত্রের দাবি

স্থানীয় একটি সূত্রের দাবি, স্বামীর সঙ্গে বিরোধের পর ইরফানের সঙ্গে কুলসুমার সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। পরে অন্য এক যুবকের সঙ্গে কুলসুমার সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পেরে ইরফান ক্ষুব্ধ ছিলেন বলেও ওই সূত্র দাবি করেছে।

সূত্রটির আরও দাবি, ঘটনার দিন হোটেলকক্ষে মোবাইল ফোনে আসা একটি কলকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়।

তবে এসব তথ্য এখনো তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছে বলে জানা যায়নি। ফলে ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েনকে হত্যাকাণ্ডের নিশ্চিত কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশি তদন্ত, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং অন্যান্য প্রমাণের মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ।

তদন্তে হত্যার কারণ উদ্‌ঘাটনের চেষ্টা

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী অভিযুক্ত ইরফানকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

✒️ আরও পড়ুন 📖  গুলশানে সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের ৪ মদের গুদাম সিলগালা

তিনি জানান, ইরফানকে আদালতে হাজির করার পর জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের কারণ জানার চেষ্টা করা হবে।

তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা, হত্যার পেছনের উদ্দেশ্য এবং ঘটনার আগে ও পরে কী ঘটেছিল, সে সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা

কুলসুমা আক্তার হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে শুধু গ্রেফতারই মামলার শেষ ধাপ নয়। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নির্ধারণ, প্রমাণ সংগ্রহ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাই এবং আদালতে অভিযোগ প্রমাণের বিষয়গুলোও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

নিহত তরুণীর পরিবার যাতে ন্যায়বিচার পায়, সে জন্য নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি আইন অনুযায়ী বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া প্রয়োজন।

প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হয়নি। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হওয়া সাপেক্ষে তাঁর দায় নির্ধারিত হবে।