ঢাকা , রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ
ইয়াবা ও হেরোইনসহ ৭ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ধামরাইয়ে ৯ মামলার আসামি ছিনতাইকারী গ্রেফতার সাভারের ভাঙচুর মামলায় জামিনে মুক্ত ছাত্রদল নেতা রেজাউল করিম জুয়েল ঢাকা জেলায় মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, গ্রেফতার ৪ ব্যবসায়ী ধামরাইয়ে অবৈধ সীসা কারখানায় অভিযান, জরিমানা ৫০ হাজার টাকা নিয়ম না মানায় অপপ্রচার: সাভার সাব-রেজিস্ট্রারের অভিযোগ গাঁজাসহ আশুলিয়ায় ৪ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার আশুলিয়ায় ডিবি পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২৬ গ্রাম হেরোইনসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার সারা দেশে শুরু প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫, প্রথম দিনে বাংলা আশুলিয়ায় ডিবির অভিযানে বিদেশি অস্ত্রসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেফতার
প্রাথমিক মনোনয়ন পাওয়ার পর চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়ায় শার্শা উপজেলা স্টেডিয়ামে বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভ; সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি

মফিকুল হাসান তৃপ্তির মনোনয়ন বহালের দাবিতে শার্শায় বিক্ষোভ

প্রাথমিকভাবে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়ায় কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য মফিকুল হাসান তৃপ্তির মনোনয়ন বহালের দাবিতে যশোরের শার্শা উপজেলায় বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকাল সাড়ে ৩টায় শার্শা উপজেলা স্টেডিয়াম চত্বরে অনুষ্ঠিত এ প্রতিবাদ সমাবেশে বিএনপির বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী ও সমর্থক অংশ নেন।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আবেগঘন বক্তব্য রাখেন মফিকুল হাসান তৃপ্তি। তিনি বলেন, “বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজে আমাকে ফোন করে নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে মাঠে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে দলের মহাসচিব যশোর-১ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করলে সেখানে আমার নামই ছিল। এরপর আমি উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে সভা-সমাবেশ করেছি, দলকে সংগঠিত করেছি।”

তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, “কিছু মনোনয়ন প্রত্যাশী খালেদা জিয়ার দোয়া অনুষ্ঠানের নামে বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়েছে। আমি কখনো তাদের বিষয়ে কোনো নেতিবাচক মন্তব্য করিনি, আজও করব না। আমি শুধু জানতে চাই—কোন অশুভ শক্তির কারণে আমার মনোনয়ন পরিবর্তন হলো?”

দলের দুঃসময়ে নিজের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “শার্শায় দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছি। যশোর, খুলনা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের প্রতিটি কর্মসূচিতে লোকজন নিয়ে উপস্থিত থেকেছি, হরতাল পালন করেছি। তবুও কেন আমাকে বাদ দেওয়া হলো—এ প্রশ্নের জবাব চাই।” এ সময় তিনি তার মনোনয়ন বহালের জন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

সমাবেশে বক্তৃতায় জামাল উদ্দীন নামে এক সমর্থক বলেন, “শার্শা আসনের দীর্ঘদিনের ত্যাগী, পরীক্ষিত ও জনপ্রিয় নেতা মফিকুল হাসান তৃপ্তিকে পরিকল্পিতভাবে বাদ দিয়ে দলীয় মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় চরম অবিচার করা হয়েছে। যিনি মনোনয়ন পেয়েছেন, তাকে তৃণমূল কখনো সক্রিয় নেতা হিসেবে দেখেনি বা চেনেনি।”

অন্যান্য বক্তারা বলেন, “বিগত বছরগুলোতে হাজার হাজার নেতা-কর্মী জেল খেটেছেন, পরিবার-পরিজন ছেড়ে পালিয়ে থাকতে হয়েছে। সেই কঠিন সময়ে তাদের একমাত্র ভরসা ছিলেন মফিকুল হাসান তৃপ্তি। সেই ত্যাগী নেতৃত্বকে বাদ দিয়ে ‘পাখির মতো উড়ে এসে বসা’ কাউকে তারা মেনে নেবেন না।” তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ত্যাগ, সংগ্রাম ও সাংগঠনিক সম্পর্কহীন কাউকে মনোনয়ন বহাল রাখলে তৃণমূল নেতা-কর্মীরা ভোটকেন্দ্রে যাবেন না।”

দ্রুত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে তৃপ্তির মতো ত্যাগী ও জনপ্রিয় নেতাকে মনোনয়ন ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রতি জোর দাবি জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য কাজ করলেও মফিকুল হাসান তৃপ্তির সাংগঠনিক অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। অবিলম্বে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি জানান তারা।

উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য মফিকুল হাসান তৃপ্তিকে প্রাথমিকভাবে যশোর-১ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়। এরপর তিনি এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ ও সভা-সমাবেশ চালান।

তবে তার বিপরীতে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন শার্শা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হাসান জহির, সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটন ও সাবেক সভাপতি বর্তমান প্রধান উপদেষ্টা খায়রুজ্জামান মধু।
প্রথম থেকেই এই মনোনয়ন প্রত্যাশীরা একাট্টা হয়ে মফিকুল হাসান তৃপ্তির প্রার্থিতা বাতিলের দাবিতে অবস্থান নেন। তাদের অভিযোগ ছিল, দলের দুঃসময়ে তৃপ্তি এলাকায় সক্রিয় ছিলেন না এবং তৃণমূলের ত্যাগীদের যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি।

সর্বাধিক পঠিত

ইয়াবা ও হেরোইনসহ ৭ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

প্রাথমিক মনোনয়ন পাওয়ার পর চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়ায় শার্শা উপজেলা স্টেডিয়ামে বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভ; সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি

মফিকুল হাসান তৃপ্তির মনোনয়ন বহালের দাবিতে শার্শায় বিক্ষোভ

আপডেট সময়: ০৬:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫

প্রাথমিকভাবে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়ায় কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য মফিকুল হাসান তৃপ্তির মনোনয়ন বহালের দাবিতে যশোরের শার্শা উপজেলায় বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকাল সাড়ে ৩টায় শার্শা উপজেলা স্টেডিয়াম চত্বরে অনুষ্ঠিত এ প্রতিবাদ সমাবেশে বিএনপির বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী ও সমর্থক অংশ নেন।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আবেগঘন বক্তব্য রাখেন মফিকুল হাসান তৃপ্তি। তিনি বলেন, “বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজে আমাকে ফোন করে নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে মাঠে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে দলের মহাসচিব যশোর-১ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করলে সেখানে আমার নামই ছিল। এরপর আমি উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে সভা-সমাবেশ করেছি, দলকে সংগঠিত করেছি।”

তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, “কিছু মনোনয়ন প্রত্যাশী খালেদা জিয়ার দোয়া অনুষ্ঠানের নামে বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়েছে। আমি কখনো তাদের বিষয়ে কোনো নেতিবাচক মন্তব্য করিনি, আজও করব না। আমি শুধু জানতে চাই—কোন অশুভ শক্তির কারণে আমার মনোনয়ন পরিবর্তন হলো?”

দলের দুঃসময়ে নিজের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “শার্শায় দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছি। যশোর, খুলনা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের প্রতিটি কর্মসূচিতে লোকজন নিয়ে উপস্থিত থেকেছি, হরতাল পালন করেছি। তবুও কেন আমাকে বাদ দেওয়া হলো—এ প্রশ্নের জবাব চাই।” এ সময় তিনি তার মনোনয়ন বহালের জন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

সমাবেশে বক্তৃতায় জামাল উদ্দীন নামে এক সমর্থক বলেন, “শার্শা আসনের দীর্ঘদিনের ত্যাগী, পরীক্ষিত ও জনপ্রিয় নেতা মফিকুল হাসান তৃপ্তিকে পরিকল্পিতভাবে বাদ দিয়ে দলীয় মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় চরম অবিচার করা হয়েছে। যিনি মনোনয়ন পেয়েছেন, তাকে তৃণমূল কখনো সক্রিয় নেতা হিসেবে দেখেনি বা চেনেনি।”

অন্যান্য বক্তারা বলেন, “বিগত বছরগুলোতে হাজার হাজার নেতা-কর্মী জেল খেটেছেন, পরিবার-পরিজন ছেড়ে পালিয়ে থাকতে হয়েছে। সেই কঠিন সময়ে তাদের একমাত্র ভরসা ছিলেন মফিকুল হাসান তৃপ্তি। সেই ত্যাগী নেতৃত্বকে বাদ দিয়ে ‘পাখির মতো উড়ে এসে বসা’ কাউকে তারা মেনে নেবেন না।” তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ত্যাগ, সংগ্রাম ও সাংগঠনিক সম্পর্কহীন কাউকে মনোনয়ন বহাল রাখলে তৃণমূল নেতা-কর্মীরা ভোটকেন্দ্রে যাবেন না।”

দ্রুত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে তৃপ্তির মতো ত্যাগী ও জনপ্রিয় নেতাকে মনোনয়ন ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রতি জোর দাবি জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য কাজ করলেও মফিকুল হাসান তৃপ্তির সাংগঠনিক অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। অবিলম্বে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি জানান তারা।

উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য মফিকুল হাসান তৃপ্তিকে প্রাথমিকভাবে যশোর-১ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়। এরপর তিনি এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ ও সভা-সমাবেশ চালান।

তবে তার বিপরীতে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন শার্শা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হাসান জহির, সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটন ও সাবেক সভাপতি বর্তমান প্রধান উপদেষ্টা খায়রুজ্জামান মধু।
প্রথম থেকেই এই মনোনয়ন প্রত্যাশীরা একাট্টা হয়ে মফিকুল হাসান তৃপ্তির প্রার্থিতা বাতিলের দাবিতে অবস্থান নেন। তাদের অভিযোগ ছিল, দলের দুঃসময়ে তৃপ্তি এলাকায় সক্রিয় ছিলেন না এবং তৃণমূলের ত্যাগীদের যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি।