ঢাকা , রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ
কুমিল্লায় কিশোরী জান্নাতুল তাজমীন হত্যা: আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, গ্রেপ্তার অটোরিকশাচালক প্রথম রানেই ব্যাট তুলে উদযাপন, চার শূন্যের চাপ কাটিয়ে লিটনের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার বিতর্ক পেছনে ফেলে আল নাসরের জার্সিতে ফিরেই গোল, রোনালদোর ক্যারিয়ারে ৯৮০তম মাইলফলক মুকেশ আম্বানিকে ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী’ বলে কটাক্ষ ইলন মাস্কের, স্টারলিংক নিয়ে নতুন বিতর্ক সাভারে ডিবি পুলিশের অভিযান: ১৩০ পিস ইয়াবাসহ দুইজন গ্রেপ্তার জুমার দিন দুই খুতবার মাঝে যেসব দোয়া পড়বেন কক্সবাজারে হোটেলকক্ষে কুলসুমা হত্যা: সাত দিন পর রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে অভিযুক্ত ইরফান গ্রেফতার রোগ প্রতিরোধে সহায়ক ১০ ধরনের খাবার, সুস্থ থাকতে রাখুন প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় উৎসবের আগে ত্বক উজ্জ্বল ও সতেজ রাখতে খাদ্যতালিকায় রাখুন যেসব খাবার
সাধারণ সেবাগ্রহীতার সারিতে দাঁড়িয়ে নামজারি ও সরকারি ফি সম্পর্কে নিলেন খোঁজ, দেখলেন ভূমিসেবার বাস্তব চিত্র

বোরকা-মাস্কে ছদ্মবেশে উত্তরখান ভূমি অফিসে ঢাকার ডিসি ফরিদা খানম

সরকারি ভূমি অফিসে সাধারণ মানুষ কীভাবে সেবা পাচ্ছেন, নামজারি বা মিউটেশন করতে গিয়ে কোনো ধরনের ভোগান্তি, বিলম্ব কিংবা হয়রানির শিকার হচ্ছেন কি না—তা সরাসরি জানতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফরিদা খানম। পরিচয় গোপন রেখে বোরকা ও মাস্ক পরে সাধারণ সেবাগ্রহীতার বেশে উত্তরখান ইউনিয়ন ভূমি অফিসে আকস্মিক পরিদর্শনে যান তিনি।

সম্প্রতি ওই পরিদর্শনের সময় জেলা প্রশাসককে প্রথমে সাধারণ একজন সেবাগ্রহীতা হিসেবেই দেখেন অফিসে উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অন্য সেবাপ্রত্যাশীরা। তিনি অন্যদের সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়ে ভূমিসেবা গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে সরাসরি খোঁজখবর নেন। বিশেষ করে জমির নামজারি বা মিউটেশন করতে কী ধরনের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয় এবং এ জন্য সরকারি ফি কত—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের কাছ থেকে তথ্য নেন।

জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারি অফিসে সাধারণ নাগরিকরা বাস্তবে কী ধরনের সেবা পাচ্ছেন, তা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতেই পরিচয় গোপন রেখে এই আকস্মিক পরিদর্শন করা হয়। অফিসের নিয়মিত কার্যক্রম সম্পর্কে প্রতিবেদন, নথি বা অভিযোগের পাশাপাশি একজন সাধারণ সেবাগ্রহীতার দৃষ্টিকোণ থেকেও পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করেন জেলা প্রশাসক।

উত্তরখান ইউনিয়ন ভূমি অফিসে প্রবেশের সময় সেখানে অন্য দিনের মতোই সেবাগ্রহীতাদের উপস্থিতি ছিল। কেউ জমির নামজারি করতে এসেছিলেন, কেউ এসেছিলেন ভূমিসেবা সংক্রান্ত তথ্য জানতে। তাদেরই একজনের মতো বোরকা ও মাস্ক পরে অফিসে প্রবেশ করেন ফরিদা খানম।

পরিচয় জানতে চাইলে তিনি নিজেকে ভূমিসেবা নিতে আসা একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে পরিচয় দেন। এরপর অন্য সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে অবস্থান করে অফিসের সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন।

এ সময় তিনি সরাসরি সংশ্লিষ্ট কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং নামজারি আবেদনের প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় তথ্য, সরকারি ফি ও সেবা পাওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চান।

পরিদর্শনের সময় জেলা প্রশাসক শুধু অফিসের কর্মীদের কাছ থেকেই তথ্য নেননি; উপস্থিত সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গেও কথা বলেন। ভূমিসেবা নিতে এসে তারা কোনো সমস্যায় পড়ছেন কি না, সেবা পেতে কতটা সময় লাগছে এবং অফিসের কার্যক্রম সম্পর্কে তাদের অভিজ্ঞতা কেমন—এসব বিষয় জানার চেষ্টা করেন তিনি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি সেবা ব্যবস্থার প্রকৃত চিত্র জানতে সরাসরি সেবাগ্রহীতাদের অভিজ্ঞতা জানা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অফিসের নিয়মিত নথি বা প্রতিবেদনে যে চিত্র পাওয়া যায়, বাস্তবে একজন নাগরিকের সেবা গ্রহণের অভিজ্ঞতা তার সঙ্গে সবসময় একরকম নাও হতে পারে।

পরিদর্শনের সময় ভূমি অফিসের সার্বিক কার্যক্রমও পর্যবেক্ষণ করেন জেলা প্রশাসক। সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আচরণ, সেবা গ্রহণের ধাপ, তথ্য প্রদানের পদ্ধতি এবং সাধারণ মানুষের জন্য প্রক্রিয়াটি কতটা সহজ—এসব বিষয় তার পর্যবেক্ষণের মধ্যে ছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বিশেষ করে একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে পরিচয় গোপন রেখে অফিসে অবস্থান করায় তিনি কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি ছাড়াই সেবা ব্যবস্থার বাস্তব অভিজ্ঞতা নেওয়ার সুযোগ পান।

পরিদর্শন শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাধারণ মানুষের জন্য ভূমিসেবা আরও সহজ ও দ্রুত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম।

সেবাগ্রহীতারা যাতে অপ্রয়োজনীয়ভাবে হয়রানি বা ভোগান্তির শিকার না হন এবং সরকারি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় থাকে, সেদিকেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।

জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলেন, নাগরিকদের জন্য সরকারি সেবা আরও কার্যকর করতে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। শুধু অফিসে বসে প্রতিবেদন বা অভিযোগের ওপর নির্ভর না করে সরাসরি সেবাগ্রহীতাদের অভিজ্ঞতা জানলে সেবা ব্যবস্থার বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সহজ হয়।

জেলা প্রশাসকের বোরকা ও মাস্ক পরে সাধারণ সেবাগ্রহীতার বেশে ভূমি অফিস পরিদর্শনের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

সাধারণ মানুষের সারিতে দাঁড়িয়ে একজন জেলা প্রশাসকের ভূমিসেবা গ্রহণের প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণের ঘটনাকে প্রশাসনের মাঠপর্যায়ের তদারকির একটি ভিন্নধর্মী দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হিসেবে উঠে এসেছে—ভূমি অফিসে আগত প্রতিটি নাগরিক যেন নিয়ম অনুযায়ী সহজে, দ্রুত ও হয়রানিমুক্তভাবে সরকারি সেবা পান। এ ধরনের সরেজমিন পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সেবার ক্ষেত্রে কোনো ঘাটতি থাকলে তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

ভূমি সংক্রান্ত সেবা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। জমির নামজারি, খতিয়ান, ভূমি উন্নয়ন করসহ বিভিন্ন সেবা নিতে নাগরিকদের ভূমি অফিসে যেতে হয়। ফলে এসব সেবা সহজ, স্বচ্ছ ও নাগরিকবান্ধব রাখার ওপর প্রশাসনের নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের আকস্মিক এই পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে মাঠপর্যায়ের ভূমিসেবা ব্যবস্থার বাস্তব চিত্র আরও কাছ থেকে দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

কুমিল্লায় কিশোরী জান্নাতুল তাজমীন হত্যা: আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, গ্রেপ্তার অটোরিকশাচালক

সাধারণ সেবাগ্রহীতার সারিতে দাঁড়িয়ে নামজারি ও সরকারি ফি সম্পর্কে নিলেন খোঁজ, দেখলেন ভূমিসেবার বাস্তব চিত্র

বোরকা-মাস্কে ছদ্মবেশে উত্তরখান ভূমি অফিসে ঢাকার ডিসি ফরিদা খানম

আপডেট সময়: ০৪:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সরকারি ভূমি অফিসে সাধারণ মানুষ কীভাবে সেবা পাচ্ছেন, নামজারি বা মিউটেশন করতে গিয়ে কোনো ধরনের ভোগান্তি, বিলম্ব কিংবা হয়রানির শিকার হচ্ছেন কি না—তা সরাসরি জানতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফরিদা খানম। পরিচয় গোপন রেখে বোরকা ও মাস্ক পরে সাধারণ সেবাগ্রহীতার বেশে উত্তরখান ইউনিয়ন ভূমি অফিসে আকস্মিক পরিদর্শনে যান তিনি।

সম্প্রতি ওই পরিদর্শনের সময় জেলা প্রশাসককে প্রথমে সাধারণ একজন সেবাগ্রহীতা হিসেবেই দেখেন অফিসে উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অন্য সেবাপ্রত্যাশীরা। তিনি অন্যদের সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়ে ভূমিসেবা গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে সরাসরি খোঁজখবর নেন। বিশেষ করে জমির নামজারি বা মিউটেশন করতে কী ধরনের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয় এবং এ জন্য সরকারি ফি কত—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের কাছ থেকে তথ্য নেন।

জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারি অফিসে সাধারণ নাগরিকরা বাস্তবে কী ধরনের সেবা পাচ্ছেন, তা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতেই পরিচয় গোপন রেখে এই আকস্মিক পরিদর্শন করা হয়। অফিসের নিয়মিত কার্যক্রম সম্পর্কে প্রতিবেদন, নথি বা অভিযোগের পাশাপাশি একজন সাধারণ সেবাগ্রহীতার দৃষ্টিকোণ থেকেও পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করেন জেলা প্রশাসক।

উত্তরখান ইউনিয়ন ভূমি অফিসে প্রবেশের সময় সেখানে অন্য দিনের মতোই সেবাগ্রহীতাদের উপস্থিতি ছিল। কেউ জমির নামজারি করতে এসেছিলেন, কেউ এসেছিলেন ভূমিসেবা সংক্রান্ত তথ্য জানতে। তাদেরই একজনের মতো বোরকা ও মাস্ক পরে অফিসে প্রবেশ করেন ফরিদা খানম।

পরিচয় জানতে চাইলে তিনি নিজেকে ভূমিসেবা নিতে আসা একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে পরিচয় দেন। এরপর অন্য সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে অবস্থান করে অফিসের সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন।

এ সময় তিনি সরাসরি সংশ্লিষ্ট কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং নামজারি আবেদনের প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় তথ্য, সরকারি ফি ও সেবা পাওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চান।

পরিদর্শনের সময় জেলা প্রশাসক শুধু অফিসের কর্মীদের কাছ থেকেই তথ্য নেননি; উপস্থিত সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গেও কথা বলেন। ভূমিসেবা নিতে এসে তারা কোনো সমস্যায় পড়ছেন কি না, সেবা পেতে কতটা সময় লাগছে এবং অফিসের কার্যক্রম সম্পর্কে তাদের অভিজ্ঞতা কেমন—এসব বিষয় জানার চেষ্টা করেন তিনি।

✒️ আরও পড়ুন 📖  নিউইয়র্কে ড. ইউনূসের স্যুটে বিশ্বনেতাদের সমাগম

সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি সেবা ব্যবস্থার প্রকৃত চিত্র জানতে সরাসরি সেবাগ্রহীতাদের অভিজ্ঞতা জানা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অফিসের নিয়মিত নথি বা প্রতিবেদনে যে চিত্র পাওয়া যায়, বাস্তবে একজন নাগরিকের সেবা গ্রহণের অভিজ্ঞতা তার সঙ্গে সবসময় একরকম নাও হতে পারে।

পরিদর্শনের সময় ভূমি অফিসের সার্বিক কার্যক্রমও পর্যবেক্ষণ করেন জেলা প্রশাসক। সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আচরণ, সেবা গ্রহণের ধাপ, তথ্য প্রদানের পদ্ধতি এবং সাধারণ মানুষের জন্য প্রক্রিয়াটি কতটা সহজ—এসব বিষয় তার পর্যবেক্ষণের মধ্যে ছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বিশেষ করে একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে পরিচয় গোপন রেখে অফিসে অবস্থান করায় তিনি কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি ছাড়াই সেবা ব্যবস্থার বাস্তব অভিজ্ঞতা নেওয়ার সুযোগ পান।

পরিদর্শন শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাধারণ মানুষের জন্য ভূমিসেবা আরও সহজ ও দ্রুত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম।

সেবাগ্রহীতারা যাতে অপ্রয়োজনীয়ভাবে হয়রানি বা ভোগান্তির শিকার না হন এবং সরকারি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় থাকে, সেদিকেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।

জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলেন, নাগরিকদের জন্য সরকারি সেবা আরও কার্যকর করতে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। শুধু অফিসে বসে প্রতিবেদন বা অভিযোগের ওপর নির্ভর না করে সরাসরি সেবাগ্রহীতাদের অভিজ্ঞতা জানলে সেবা ব্যবস্থার বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সহজ হয়।

জেলা প্রশাসকের বোরকা ও মাস্ক পরে সাধারণ সেবাগ্রহীতার বেশে ভূমি অফিস পরিদর্শনের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

সাধারণ মানুষের সারিতে দাঁড়িয়ে একজন জেলা প্রশাসকের ভূমিসেবা গ্রহণের প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণের ঘটনাকে প্রশাসনের মাঠপর্যায়ের তদারকির একটি ভিন্নধর্মী দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হিসেবে উঠে এসেছে—ভূমি অফিসে আগত প্রতিটি নাগরিক যেন নিয়ম অনুযায়ী সহজে, দ্রুত ও হয়রানিমুক্তভাবে সরকারি সেবা পান। এ ধরনের সরেজমিন পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সেবার ক্ষেত্রে কোনো ঘাটতি থাকলে তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

✒️ আরও পড়ুন 📖  বৃষ্টি ও শৈত্যপ্রবাহ নিয়ে নতুন বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস

ভূমি সংক্রান্ত সেবা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। জমির নামজারি, খতিয়ান, ভূমি উন্নয়ন করসহ বিভিন্ন সেবা নিতে নাগরিকদের ভূমি অফিসে যেতে হয়। ফলে এসব সেবা সহজ, স্বচ্ছ ও নাগরিকবান্ধব রাখার ওপর প্রশাসনের নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের আকস্মিক এই পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে মাঠপর্যায়ের ভূমিসেবা ব্যবস্থার বাস্তব চিত্র আরও কাছ থেকে দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।