বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার রয়েছে উল্লেখ করে বাগআঁচড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেছেন, “হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির কেন আমাদের পাহারা দিতে হবে? বাংলাদেশ সবার। এ দেশে আপনাদের যতটুকু অধিকার, আমাদেরও ততটুকু অধিকার আছে।”
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া ও সামটা এলাকার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে নিজ অর্থায়নে নতুন শাড়ি বিতরণ করেন।
শুক্রবার আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীরা উপস্থিত ছিলেন।
পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ। এ দেশের মাটি ও মানুষের সঙ্গে সব ধর্মের মানুষের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, প্রত্যেক ধর্মের মানুষ স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করবেন—এটাই বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও সামাজিক সম্প্রীতির পরিচয়। একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তুলতে হলে সব ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি সবসময় সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তায় বিশ্বাস করে। কোনো ধর্মের মানুষ যেন নিজেদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন না থাকেন, সে জন্য সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা জরুরি।
দুর্গাপূজাকে শুধু একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উৎসব হিসেবে না দেখে সামাজিক সম্প্রীতি ও মিলনমেলার উপলক্ষ হিসেবে দেখার আহ্বান জানান জাহাঙ্গীর হোসেন।
তিনি বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা এখন সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। এ উৎসবকে আনন্দমুখর ও শান্তিপূর্ণ করতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। পারস্পরিক সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রেখে সবাইকে উৎসব উদযাপন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করবেন এবং একে অপরের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়াবেন—এটাই হওয়া উচিত সবার প্রত্যাশা। ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করতে হবে।
পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের পাশাপাশি জাহাঙ্গীর হোসেন নিজ অর্থায়নে অসহায় ও দুস্থ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে নতুন শাড়ি বিতরণ করেন। এ সময় তিনি পূজামণ্ডপে উপস্থিত মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানান।
স্থানীয় পর্যায়ে ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সহযোগিতার পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও বস্ত্র বিতরণের মধ্য দিয়ে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সম্প্রীতির সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।
পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন শার্শা উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি জামাল উদ্দিন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বাবু, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক মিকাইল হোসেন মনা, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক কবির, স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক তৌহিদ হোসেন।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন শার্শা উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক নীল কমল সিংহ, বাগআঁচড়া পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি গোবিন্দ চ্যাটার্জি, সাধারণ সম্পাদক গোবিন্দ মজুমদার ও সাংগঠনিক সম্পাদক জৌতি মল্লিকসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং পূজা উদযাপন কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সব নাগরিকের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার আহ্বানের মধ্য দিয়ে বাগআঁচড়া ও সামটা এলাকার পূজামণ্ডপ পরিদর্শন কর্মসূচি সম্পন্ন হয়।

হুমায়ন কবির মিরাজ, বেনাপোল প্রতিনিধি 







