খুলনায় দীর্ঘ ২৭ বছর আত্মগোপনে থাকা যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এক পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৬ ও এসআরবি-৮-এর যৌথ আভিযানিক দল। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম জয়নাল সরদার (৫৫)। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, তিনি খুলনার আলোচিত সন্ত্রাসী এরশাদ শিকদারের অন্যতম সহযোগী ছিলেন।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা মডেল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানটি পরিচালনা করা হয় বলে জানিয়েছে এসআরবি।
গ্রেপ্তার জয়নাল সরদার বরিশাল জেলার গৌরনদী থানার বংকুরা গ্রামের মৃত আহম্মদ আলী সরদারের ছেলে। তিনি খুলনার রূপসা থানায় ১৯৯৯ সালে দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এসআরবি সূত্রের তথ্যমতে, ১৯৯৯ সালে রূপসা থানায় দায়ের হওয়া ওই হত্যা মামলায় জয়নাল সরদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়। পরে আদালত তাকে হত্যার অপরাধে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন।
অর্থদণ্ড পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাকে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে আদালতের রায়ে উল্লেখ রয়েছে।
এ ছাড়া একই মামলায় মরদেহ গুমের অভিযোগে তাকে আরও পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। ওই অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, আদালতের রায় ঘোষণার পর থেকেই জয়নাল সরদার গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্নভাবে অবস্থান পরিবর্তন করে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে চলছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর এসআরবি-৬ ও এসআরবি-৮-এর সদস্যরা সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনা করেন।
শনিবার রাতে সোনাডাঙ্গা মডেল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় যৌথ আভিযানিক দল।
এসআরবি সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা সাজাপ্রাপ্ত ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি এবং চাঞ্চল্যকর হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান চালানো হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং দীর্ঘদিনের পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তিগত নজরদারিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
গ্রেপ্তারের পর জয়নাল সরদারকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
তার বিরুদ্ধে আদালতের রায় ও সংশ্লিষ্ট মামলার নথিপত্র অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

বরিশাল জেলা প্রতিনিধি 







