ঢাকার আশুলিয়ায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৫৪৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মোঃ জাকির হোসেন (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছেন ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) উত্তর। এ সময় ইয়াবা তৈরির কাজে ব্যবহৃত লোহার ডায়েস (ছাঁচ), বিভিন্ন রঙের ক্যাপেইন, একটি হাতুড়ি ও দুটি স্টিলের ছোট চামচ উদ্ধারের দাবি করেছে পুলিশ।
ঢাকা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের নির্দেশনায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর)–এর অফিসার ইনচার্জ সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে এসআই (নিঃ) মোঃ আঃ মুত্তালিবসহ পুলিশের একটি দল আশুলিয়া এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাত ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে আশুলিয়া থানাধীন শ্রীপুর তাহফিজুল কোরআন মাদ্রাসার সামনে অবস্থানকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, দক্ষিণ ভাদাইল এলাকার একটি বসতবাড়ির বারান্দার কক্ষে মাদকদ্রব্য তৈরি ও বিক্রির কার্যক্রম চলছে।
সংবাদ পাওয়ার পর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করে পুলিশের দলটি ওই বাড়ির দিকে রওনা হয়। পরে রাত ১১টা ৫ মিনিটের দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান চালানো হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
অভিযানে দক্ষিণ ভাদাইল এলাকার বাসিন্দা মোঃ জাকির হোসেন (৫০)–কে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ বলছে, তাঁর কাছ থেকে মোট ৫৪৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা ইয়াবার মোট ওজন ৫৪.৭ গ্রাম এবং এর আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৬৪ হাজার ১০০ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ছাড়া অভিযানে ইয়াবা ট্যাবলেট তৈরির কাজে ব্যবহৃত একটি লোহার তৈরি ডায়েস বা ছাঁচ উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। পাশাপাশি সাদা রঙের ক্যাপেইন ২৭৫ গ্রাম, হালকা গোলাপি রঙের ক্যাপেইন ২৭৫ গ্রাম এবং লাল গোলাপি রঙের ক্যাপেইন ৮২ গ্রাম উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযান থেকে আরও একটি হাতুড়ি এবং দুটি স্টিলের তৈরি ছোট চামচ জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা জেলা ডিবি।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার জাকির হোসেন দীর্ঘদিন ধরে নিজ বসতঘরে ইয়াবা তৈরি করে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বিক্রি করে আসছিলেন। পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে এর আগে একটি সিআর মামলা রয়েছে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে অভিযানের সময় জাকির হোসেনের সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করা মোঃ ইকরান শেখ (৩৩) কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর) জানিয়েছে, মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদক উৎপাদন, সরবরাহ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার জন্য অভিযান পরিচালনা করা হবে।

বাংলাদেশ খবর ডেস্ক 







