যশোরের বেনাপোলের ইছামতি নদীর ধারে কুড়িয়ে পাওয়া সেই অসহায় নবজাতক অবশেষে পেল নতুন বাবা–মা। মানবিকতার অসাধারণ উদাহরণ সৃষ্টি করে শিশুটির অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেছেন যশোরের বাঘারপাড়ার বাসিন্দা ব্যবসায়ী সানাউর রহমান ও তাঁর স্ত্রী। নিঃসন্তান এই দম্পতির দায়িত্ব গ্রহণে শিশুটির জীবন নতুন আলোয় আলোকিত হলো।
মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) দুপুরে শার্শা উপজেলা প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক দত্তক প্রক্রিয়া শেষে সানাউর রহমানের স্ত্রী নবজাতকটিকে কোলে তুলে নেন। মুহূর্তটি ছিল আবেগঘন—সন্তানটি কোলে নিতেই চোখে জল এসে যায় তাঁদের। তারা বলেন, “কোলে নেওয়ার পর মনে হলো—আমাদেরই সন্তান।”
শার্শা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তোহিদুল ইসলাম জানান, সানাউর দম্পতি দীর্ঘদিন ধরে নিঃসন্তান ছিলেন। তাদের আনুষ্ঠানিক আবেদন পর্যালোচনা করে আর্থিক সচ্ছলতা, সামাজিক অবস্থান, লালন-পালনের সক্ষমতাসহ বিভিন্ন বিষয় যাচাইয়ের পর শিশুটিকে দত্তক দেওয়া হয়।
দত্তক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা গুলশান আরা ও শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল আলীম।
এর আগে বুধবার (১২ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে গাজীপুর ও নামাজ গ্রামের মাঝামাঝি হাকড় নদীর তীরে নবজাতকটিকে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর ছড়িয়ে পড়লে নদীর পাড়ে ভিড় জমে যায়। পরে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বেনাপোল পৌর প্রশাসক ডা. নাজিব হাসান ঘটনাস্থলে পৌঁছে নবজাতকটিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এ ধরনের ঘটনা এলাকায় বিরল। নবজাতকটি নিরাপদ আশ্রয় পাওয়ায় তারা স্বস্তি প্রকাশ করেন। শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার পর প্রশাসন ও স্থানীয়রা সানাউর দম্পতির মানবিকতার প্রশংসা করেন।

শহিদুল ইসলাম শার্শা প্রতিনিধি 
