ঢাকা , সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
চাকরিজীবীদের দাবিতে রাস্তায় নামা ও বেকারদের অবহেলিত বাস্তবতা—সমাজে অন্যায়ের নতুন প্রতিচ্ছবি

বেতনভোগী শ্রেণির আন্দোলন ও বেকারদের নীরব আর্তনাদ

বর্তমান সমাজে এক উদ্বেগজনক প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে—বেতনভোগী শ্রেণি তাদের বেতন-ভাতা ও সুবিধা বৃদ্ধির দাবিতে রাস্তায় নামছেন, অফিস-আদালত বন্ধ করে আন্দোলনে যাচ্ছেন। সম্প্রতি দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের শিক্ষিকারা ক্লাস বন্ধ রেখে রাস্তায় অবস্থান নিয়েছেন, অথচ নভেম্বর মাস—শিশুদের বার্ষিক পরীক্ষার প্রস্তুতির সময়।

এমন সময়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম স্থবির করে দেওয়া নিঃসন্দেহে অমানবিক আচরণ। শিশুদের ভবিষ্যৎকে জিম্মি করে যারা নিজেদের দাবি আদায়ের চেষ্টা করেন, তারা শিক্ষকতার মহৎ পেশার মর্যাদা ক্ষুণ্ন করছেন।

অন্যদিকে, সমাজে রয়েছে লক্ষ লক্ষ শিক্ষিত বেকার তরুণ—যাদের নেই নির্দিষ্ট কোনো আয়, নেই জীবিকার নিশ্চয়তা। তারা কোথায় যাবে, কাকে বলবে তাদের দুঃখের কথা? তারা রাস্তায় নামলে কেউ খবর নেয় না, সংবাদপত্রে স্থান মেলে না, সরকারি সহানুভূতি তো দূরের কথা—তাদের অস্তিত্বই যেন অদৃশ্য।

এই বৈষম্যমূলক পরিস্থিতি আমাদের সমাজে অন্যায়ের এক গভীর চিত্র তুলে ধরে। যারা আগে থেকেই সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন, তারা আরও বেশি পাওয়ার জন্য আন্দোলন করছেন; আর যারা কিছুই পাননি, তারা নীরবে ক্ষুধা ও হতাশার সঙ্গে লড়াই করছেন।

রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব হওয়া উচিত এই ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা। চাকরিজীবীদের উচিত কিছুটা সংযম দেখানো, আর সরকারের দায়িত্ব নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা—যাতে বেকার তরুণদের জীবনে আশার আলো জ্বলে।

সবশেষে বলা যায়, আন্দোলন তখনই অর্থবহ হবে যখন তা ব্যক্তিগত স্বার্থ ছাড়িয়ে সামাজিক দায়িত্ববোধের জায়গায় দাঁড়াবে। কারণ, বেতন বাড়ালে একদল মানুষ উপকৃত হয়, কিন্তু কর্মসংস্থান বাড়ালে উপকৃত হয় গোটা জাতি।

সর্বাধিক পঠিত

সাভার-আশুলিয়ায় ডিবির পৃথক অভিযান: ১৫০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৪

চাকরিজীবীদের দাবিতে রাস্তায় নামা ও বেকারদের অবহেলিত বাস্তবতা—সমাজে অন্যায়ের নতুন প্রতিচ্ছবি

বেতনভোগী শ্রেণির আন্দোলন ও বেকারদের নীরব আর্তনাদ

আপডেট সময়: ০৭:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫

বর্তমান সমাজে এক উদ্বেগজনক প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে—বেতনভোগী শ্রেণি তাদের বেতন-ভাতা ও সুবিধা বৃদ্ধির দাবিতে রাস্তায় নামছেন, অফিস-আদালত বন্ধ করে আন্দোলনে যাচ্ছেন। সম্প্রতি দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের শিক্ষিকারা ক্লাস বন্ধ রেখে রাস্তায় অবস্থান নিয়েছেন, অথচ নভেম্বর মাস—শিশুদের বার্ষিক পরীক্ষার প্রস্তুতির সময়।

এমন সময়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম স্থবির করে দেওয়া নিঃসন্দেহে অমানবিক আচরণ। শিশুদের ভবিষ্যৎকে জিম্মি করে যারা নিজেদের দাবি আদায়ের চেষ্টা করেন, তারা শিক্ষকতার মহৎ পেশার মর্যাদা ক্ষুণ্ন করছেন।

অন্যদিকে, সমাজে রয়েছে লক্ষ লক্ষ শিক্ষিত বেকার তরুণ—যাদের নেই নির্দিষ্ট কোনো আয়, নেই জীবিকার নিশ্চয়তা। তারা কোথায় যাবে, কাকে বলবে তাদের দুঃখের কথা? তারা রাস্তায় নামলে কেউ খবর নেয় না, সংবাদপত্রে স্থান মেলে না, সরকারি সহানুভূতি তো দূরের কথা—তাদের অস্তিত্বই যেন অদৃশ্য।

এই বৈষম্যমূলক পরিস্থিতি আমাদের সমাজে অন্যায়ের এক গভীর চিত্র তুলে ধরে। যারা আগে থেকেই সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন, তারা আরও বেশি পাওয়ার জন্য আন্দোলন করছেন; আর যারা কিছুই পাননি, তারা নীরবে ক্ষুধা ও হতাশার সঙ্গে লড়াই করছেন।

রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব হওয়া উচিত এই ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা। চাকরিজীবীদের উচিত কিছুটা সংযম দেখানো, আর সরকারের দায়িত্ব নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা—যাতে বেকার তরুণদের জীবনে আশার আলো জ্বলে।

সবশেষে বলা যায়, আন্দোলন তখনই অর্থবহ হবে যখন তা ব্যক্তিগত স্বার্থ ছাড়িয়ে সামাজিক দায়িত্ববোধের জায়গায় দাঁড়াবে। কারণ, বেতন বাড়ালে একদল মানুষ উপকৃত হয়, কিন্তু কর্মসংস্থান বাড়ালে উপকৃত হয় গোটা জাতি।

✒️ আরও পড়ুন 📖  কিশোরগঞ্জে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ৩০০ পরিবারকে সহায়তা দিল রেড ক্রিসেন্ট