জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ শেষে পাঁচ দিনের নিউইয়র্ক সফর শেষ করে ঢাকায় ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ইকে-৫৮২ ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
সকাল ৮টা ২১ মিনিটে ফ্লাইটটি বিমানবন্দরে পৌঁছায়। এর মধ্য দিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফরের সমাপ্তি ঘটে।
জাতিসংঘে প্রথমবার ভাষণ
নিউইয়র্ক সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ছিল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথমবারের মতো ভাষণ দেওয়া। স্থানীয় সময় ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ হলে বাংলাদেশের পক্ষে বাংলায় বক্তব্য দেন।
ভাষণে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা, বহুপাক্ষিকতা, টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা, বাংলাদেশের স্বার্থ এবং সমসাময়িক বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যু তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘের এবারের অধিবেশনের প্রতিপাদ্য ছিল—‘রিস্টোরিং ট্রাস্ট, ম্যানেজিং ট্রান্সফরমেশন: অ্যা ইউনাইটেড নেশনস দ্যাট ডেলিভারস ফর অল’।
এ ছাড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বায়োটেকনোলজিসহ উদীয়মান প্রযুক্তির সম্ভাবনা নিয়েও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী।
ব্যস্ত ছিল নিউইয়র্কের কর্মসূচি
প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরজুড়ে ছিল একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও অনুষ্ঠান। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সফরের কর্মসূচিতে মোট ৩০টি সরকারি কার্যক্রম ছিল।
এর মধ্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ-সংশ্লিষ্ট আটটি কর্মসূচি, অধিবেশনের সাইডলাইনে চারটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান এবং ১১টি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ছিল।
বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে এসব বৈঠকে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
১১ দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক
দ্বিপক্ষীয় বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট, স্বাস্থ্য, জলবায়ু পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক শান্তিসহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পায়।
সরকারি পর্যায়ের এসব আলোচনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যান্য দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্পর্ক আরও জোরদারের বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় আসে।
রোহিঙ্গা সংকট ও জলবায়ু ইস্যুতে গুরুত্ব
নিউইয়র্ক সফরে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকটও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও জনশক্তি রপ্তানির বিষয়গুলোও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন ডা. জুবাইদা রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানও নিউইয়র্ক সফরে বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচিতে অংশ নেন।
সফরকালে তিনি আটটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন এবং এর মধ্যে চারটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। তাঁর অংশ নেওয়া কর্মসূচির মধ্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ‘প্ল্যাটফর্ম অব উইমেন লিডার্স’, ‘ফার্স্ট স্পাউসেস’ ডায়ালগ এবং মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য ও মিডওয়াইফারি বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান ছিল।
নারীর নেতৃত্ব, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য এবং স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এসব অনুষ্ঠানে আলোচনায় আসে।
২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক ছাড়েন
নিউইয়র্কে ধারাবাহিক কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৫ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১১টার দিকে নিউইয়র্ক ত্যাগ করেন। এরপর তিনি দেশে ফেরার পথে যাত্রা করেন। রোববার সকালে ঢাকায় পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে তাঁর পাঁচ দিনের নিউইয়র্ক সফর শেষ হয়।
জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব, প্রথমবারের মতো সাধারণ বিতর্কে ভাষণ এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ধারাবাহিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের মধ্য দিয়ে এবারের সফর শেষ করলেন প্রধানমন্ত্রী।
জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশন ২০২৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছে এবং ২০২৭ সালের ৭ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এ অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের খলিলুর রহমান দায়িত্ব পালন করছেন।

অনলাইন ডেস্ক 









