দুর্গাপূজা মানেই বাঙালির কাছে উৎসব, আনন্দ, নতুন পোশাক, প্যান্ডেল ঘোরা আর পুরোনো স্মৃতির পাতায় ফিরে যাওয়া। শৈশব থেকে কৈশোর—পূজার দিনগুলো অনেকের জীবনেই তৈরি করে নানা রঙিন স্মৃতি। সময়ের সঙ্গে মানুষের জীবন বদলালেও সেই স্মৃতিগুলো থেকে যায় হৃদয়ের গভীরে। টালিউড অভিনেত্রী কৌশানি মুখার্জিও তার ব্যতিক্রম নন।
দুর্গাপূজাকে ঘিরে এবার কৌশানি মুখার্জির আনন্দের মাত্রা যেন আরও একটু বেশি। কারণ, এবারের পূজায় মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে তার নতুন সিনেমা ‘বহুরূপী : দ্য গোল্ডেন ডাকু’। সিনেমাটিকে ঘিরে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে প্রচারণা। ফলে পূজার আগে অভিনেত্রীকে ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে সিনেমার প্রচার নিয়েও।
জানা গেছে, সপ্তমী পর্যন্ত সিনেমার প্রচারণামূলক বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকবেন কৌশানি। এরপর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পূজার আনন্দে সময় কাটানোর পরিকল্পনা রয়েছে তার।
প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ঘোরার দিনগুলোর স্মৃতি
অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার আগে পূজার সময়টা কেমন কাটত—এমন প্রশ্নের জবাবে এক সাক্ষাৎকারে নিজের পুরোনো দিনের স্মৃতি তুলে ধরেন কৌশানি।
তিনি জানান, তখন পূজার মণ্ডপে সাধারণ দর্শনার্থীদের মতোই লাইনে দাঁড়িয়ে প্রতিমা দর্শন করতেন। অর্থাৎ তার ভাষায়, তখন তিনি ছিলেন ‘দড়ির ওপারে’—যেখানে সাধারণ মানুষ ভিড় করে প্রতিমা দেখতে আসতেন।
কৌশানির কাছে পূজার পুরোনো স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা এবং তরুণ বয়সের প্রেমের নানা গল্পও। পূজার প্যান্ডেলে আয়োজিত সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা তার স্মৃতিতে এখনও বেশ উজ্জ্বল।
পূজার ‘সেরা সুন্দরী’ হওয়ার স্মৃতি
কৌশানি জানান, পূজার মণ্ডপে আয়োজিত সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় একবার তাকে পছন্দ করে নেওয়া হয়েছিল। এরপর সেই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে জয়ীও হন তিনি।
তার কাছে বিষয়টি ছিল বেশ আনন্দের। পূজার সময় বন্ধু-স্বজনদের সঙ্গে ঘুরতে বেরিয়ে কোনো পুরস্কার নিয়ে বাড়ি ফেরার অনুভূতিকে তিনি বিশেষ বলে উল্লেখ করেছেন।
অভিনেত্রীর কথায়, সেই সময় ‘পূজার সেরা সুন্দরী’ তকমা পাওয়া তার কাছে ছিল বড় আনন্দের বিষয়। বাড়ি ফেরার পর ভাইবোনেরাও বিষয়টি নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত হতেন। বোনের এমন অর্জন নিয়ে তারা গর্ব করতেন বলেও জানান কৌশানি।
পূজার প্রেম—যা টিকত উৎসবের কয়েক দিন
কৌশানির পূজার স্মৃতিতে প্রেমের গল্পও রয়েছে। পূজার প্যান্ডেলে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে পরিচয় ও ভালো লাগার বিষয়টি নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে অভিনেত্রী জানান, পূজার কয়েক দিনের প্রেমের আলাদা এক ধরনের আনন্দ ছিল।
তবে সেই সময়ের প্রেমগুলো যে দীর্ঘস্থায়ী হতো না, সেটিও হাস্যরসের সঙ্গে জানিয়েছেন তিনি। তার ভাষায়, পূজার কয়েক দিনের যে প্রেম, সেটি অনেক সময় পূজার কয়েক দিন শেষ হওয়ার সঙ্গেই শেষ হয়ে যেত।
এই স্মৃতিচারণে বোঝা যায়, কৌশানির কাছে দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়; বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে কৈশোর-যৌবনের নানা আনন্দ, বন্ধুত্ব, ঘোরাঘুরি ও ভালো লাগার মুহূর্ত।
এবারও পূজার পরিকল্পনায় বনি সেনগুপ্ত
বর্তমানে কৌশানি মুখার্জির পূজার পরিকল্পনার বড় একটি অংশজুড়েই রয়েছেন অভিনেতা ও তার প্রেমিক বনি সেনগুপ্ত।
সাক্ষাৎকারে কৌশানি জানান, তার পূজার পরিকল্পনায় বনির উপস্থিতি থাকেই। একসঙ্গে প্রতিমা দর্শন, ঘোরাঘুরি, আড্ডা ও পার্টি—সবকিছুই প্রিয় মানুষের সঙ্গে উপভোগ করতে চান তিনি।
অভিনেত্রীর কথায়, পূজার দিনগুলোতে একসঙ্গে ঠাকুর দেখা থেকে শুরু করে রোম্যান্স ও পার্টি—সবকিছুর পরিকল্পনাই থাকে বনিকে ঘিরে।
বদলে যায় কৌশানির দৈনন্দিন রুটিন
পূজার কয়েক দিন তার স্বাভাবিক জীবনযাপনও পুরোপুরি বদলে যায় বলে জানিয়েছেন কৌশানি।
সাধারণ সময়ের তুলনায় পূজার দিনগুলোতে অনেক রাত পর্যন্ত বাইরে থাকার অভ্যাস তৈরি হয় তার। কখনও দুপুরের দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে ভোররাতে বাড়ি ফেরার মতো ব্যস্ত সময় কাটে। এরপর দিনের বাকি সময়টা ঘুমিয়ে কাটানোর কথাও জানিয়েছেন তিনি।
সব মিলিয়ে এবারের দুর্গাপূজা কৌশানি মুখার্জির জন্য হতে যাচ্ছে আনন্দ ও ব্যস্ততায় ভরা। একদিকে নতুন সিনেমার প্রচারণা ও মুক্তি, অন্যদিকে পরিবার ও প্রিয়জনের সঙ্গে উৎসব উদযাপন—দুই দিক মিলিয়েই পূজাকে ঘিরে তার পরিকল্পনা বেশ জমজমাট।

বিনোদন ডেস্ক 









