ঢাকার আশুলিয়া ও ধামরাইয়ে পৃথক অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি-উত্তর)। অভিযানে মোট ৫ হাজার ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৫০ পুরিয়া হেরোইন এবং ৬ রাউন্ড আগ্নেয়াস্ত্রের গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
ঢাকা জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার শামীমা পারভিনের নির্দেশনায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর) এর অফিসার ইনচার্জ সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে পৃথক এসব অভিযান পরিচালিত হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২২ আগস্ট ২০২৬ রাত ৭টা ৪৫ মিনিটে আশুলিয়া থানাধীন বারইপাড়া এলাকায় অভিযান চালায় ডিবির একটি দল। অভিযানে মোঃ দিলদার মিয়া (৩৫) ও মোঃ সুমন তালুকদার (২৮) নামে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার দিলদার মিয়া কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থানার জালিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা। অপর আসামি সুমন তালুকদার মাদারীপুর জেলার রাজৈর থানার মাঝ নাগরদী এলাকার বাসিন্দা।
তাদের কাছ থেকে ৫ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক ওজন ৫০০ গ্রাম এবং বাজারমূল্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এরপর একই রাতে রাত ১০টা ১০ মিনিটে ধামরাই থানাধীন বালিথা এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ অভিযানে মোঃ মাসুম মিয়া ওরফে মাজু (২৪) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবার ওজন প্রায় ৫ গ্রাম এবং আনুমানিক মূল্য ১৫ হাজার টাকা বলে জানানো হয়।
অন্যদিকে, রাত ১১টা ৪০ মিনিটে আশুলিয়া থানাধীন নবীনগর এলাকায় আরেকটি অভিযান চালায় ডিবি। এ সময় জান্নাত হোসেন সোহাগ (২৯) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তার কাছ থেকে ৬ রাউন্ড আগ্নেয়াস্ত্রের গুলি এবং ৫০ পুরিয়া হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত হেরোইনের ওজন প্রায় ৫ গ্রাম এবং আনুমানিক মূল্য ১৫ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের তথ্যমতে, গ্রেপ্তার হওয়া দিলদার মিয়ার বিরুদ্ধে এর আগে দুটি মাদক মামলা, সুমন তালুকদারের বিরুদ্ধে একটি মাদক মামলা এবং জান্নাত হোসেন সোহাগের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দুটি মামলা রয়েছে।
ঢাকা জেলা পুলিশ জানায়, পৃথক অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য: পুলিশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।

বাংলাদেশ খবর ডেস্ক 



