ঢাকার সাভারে বিশেষ অভিযান চালিয়ে চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য সন্দেহে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তর বিভাগ। এ সময় তাঁদের হেফাজত থেকে একটি প্রাইভেটকার উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার (২৫ অক্টোবর ) দুপুর ১টা ৫ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত সাভার মডেল থানা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের নির্দেশনায় ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর) বিভাগের অফিসার ইনচার্জ সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়। এতে এসআই (নিঃ) মো. রাশেদ মিয়াসহ ডিবি পুলিশের একটি দল অংশ নেয়।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—
১. মো. সোহেল ওরফে বুস সোহেল (৪০)। তাঁর স্থায়ী ঠিকানা ঢাকার সাভার উপজেলার আমিনবাজারের ঝাউনারটেক এলাকার বেগুনবাড়ী গ্রাম।
২. মো. শাহিন গাজী (৩০)। তাঁর স্থায়ী ঠিকানা খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার সরল এলাকায়। তিনি সাভারের আমিনবাজারের সালেপুর এলাকায় জনৈক খালেক মহাজনের বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
৩. মো. সুমন মিয়া (৩৩)। তাঁর স্থায়ী ঠিকানা জামালপুর জেলার ইসলামপুর থানার ভেঙ্গারগড় গ্রাম। তিনি সাভারের আমিনবাজারের সালেপুর দক্ষিণপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন।
৪. সিদ্দিক (৩৬)। তাঁর স্থায়ী ঠিকানা শেরপুর জেলার শ্রীবরদী থানার বটপুর গ্রাম। তিনি সাভারের আমিনবাজারের ডিবিটি টেক এলাকায় জনৈক জহুর মিয়ার বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন বলে জানা গেছে।
ঢাকা জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দেশের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে। তাঁদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পূর্ববর্তী অপরাধসংক্রান্ত তথ্য বা পিসিপিআর (পুলিশ ক্লিয়ারেন্স/অপরাধের রেকর্ডসংক্রান্ত তথ্য) পর্যালোচনা করে মো. সোহেল ওরফে বুস সোহেলের বিরুদ্ধে মাদক ও চুরিসহ মোট পাঁচটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। অপরদিকে, মো. শাহিন গাজীর বিরুদ্ধে একটি মাদক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অন্য দুই গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে পূর্ববর্তী মামলার বিষয়ে দেওয়া তথ্যে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।
পুলিশ আরও জানায়, সাভার মডেল থানার এফআইআর নম্বর ৮১, তারিখ ২৩ অক্টোবর ২০২৬, দণ্ডবিধির ৪৫৭/৩৮০ ধারায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার চারজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাঁদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
উদ্ধার করা প্রাইভেটকারটির সঙ্গে মামলার সংশ্লিষ্টতা এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সাভারসহ ঢাকা জেলার বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অপরাধে জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের শনাক্ত করা, তাঁদের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ তদন্ত করা এবং অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আলামত উদ্ধারের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ।
গ্রেপ্তার চারজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্ত ও আদালতের পরবর্তী আদেশের ওপর নির্ভর করবে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আইন অনুযায়ী নির্দোষ বলে গণ্য করার অধিকার রয়েছে।

বাংলাদেশ খবর ডেস্ক 



