ঢাকা জেলার সাভারে বিশেষ অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি-উত্তর)। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তাররা পেশাদার ছিনতাইকারী ও ডাকাত দলের সদস্য। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে চাপাতি, ছোরা, সুইচ গিয়ার, খুর ও চাকুসহ পাঁচটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট ) রাত দেড়টার দিকে সাভার মডেল থানাধীন পাকিজা জামে মসজিদের সামনের এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ঢাকা জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের নির্দেশনায় পরিচালিত বিশেষ অভিযানে নেতৃত্ব দেন ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর) এর অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইদুল ইসলাম। অভিযানে এসআই (নিঃ) মো. মতিউর রহমানসহ ডিবি পুলিশের সদস্যরা অংশ নেন।
যেভাবে গ্রেপ্তার
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে ডিবি পুলিশের একটি দল পাকিজা জামে মসজিদের সামনের এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সন্দেহভাজন কয়েকজনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের পর অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের তল্লাশি করে বিভিন্ন ধরনের ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন—সাভার মডেল থানার মজিদপুর এলাকার মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে মো. সুজন হোসেন (৩০), কাতলাপুর এলাকার নিতাই কর্মকারের ছেলে নির্মল ওরফে পিচ্চি নির্মল (২৬), রাজবাড়ী সদর থানার কাচরন্দ্র এলাকার মৃত মোহন সরদারের ছেলে মো. সজিব (৩৬), সাভারের বনপুকুর এলাকার মৃত শফিউল্লাহর ছেলে মো. রনি (৩৫) এবং গাইবান্ধার ফুলছড়ি থানার হরিচন্দ্রি এলাকার মৃত সেলিমের ছেলে খায়রুল হক (২২)।
পুলিশ জানায়, খায়রুল হক বর্তমানে ঢাকার আশুলিয়া থানাধীন জামগড়া এলাকায় রোমান ভূঁইয়ার বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন।
উদ্ধার হয়েছে পাঁচ ধরনের ধারালো অস্ত্র
অভিযানের সময় গ্রেপ্তারদের হেফাজত থেকে পাঁচটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে—একটি স্টিলের তৈরি ধারালো চাপাতি, একটি লোহার তৈরি ধারালো ছোরা, একটি স্টিলের তৈরি ধারালো সুইচ গিয়ার, একটি স্টিলের তৈরি ধারালো খুর এবং একটি স্টিলের তৈরি ধারালো চাকু।
পুলিশের ভাষ্য, এসব অস্ত্র অপরাধ সংঘটনের কাজে ব্যবহারের জন্য রাখা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে তদন্তের পর বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এক আসামির বিরুদ্ধে ১০ মামলা
ঢাকা জেলা পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার মো. সুজন হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে মোট ১০টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে চারটি ডাকাতির প্রস্তুতির মামলা, দুটি দস্যুতার মামলা, একটি অন্যান্য মামলা এবং তিনটি মাদক মামলা রয়েছে।
অন্যদিকে নির্মল ওরফে পিচ্চি নির্মলের বিরুদ্ধে চুরির দুটি এবং মাদকের দুটি মামলাসহ মোট চারটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার মো. সজিবের বিরুদ্ধে একটি মাদক মামলা এবং মো. রনির বিরুদ্ধে একটি ডাকাতির প্রস্তুতির মামলা রয়েছে।
তবে এসব মামলার অভিযোগ আদালতে বিচারাধীন এবং সংশ্লিষ্ট মামলায় আসামিদের অপরাধ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তারা আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান
ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, সাভার ও আশপাশের এলাকায় ছিনতাই, ডাকাতি এবং অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত নজরদারি ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় পাকিজা জামে মসজিদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, অপরাধপ্রবণ এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে ঢাকা জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
ডাকাতির প্রস্তুতি মামলা, আদালতে প্রেরণ
গ্রেপ্তার পাঁচজনের বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় ডাকাতির প্রস্তুতির মামলা করা হয়েছে। মামলার প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ঢাকা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ছিনতাই-ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বাংলাদেশ খবর ডেস্ক 



