একজন শিক্ষার্থীর হাতে লেখা চিঠিকে গুরুত্ব দিয়ে তার প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব আমান উল্লাহ আমান। শুধু প্রশাসনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েই থেমে থাকেননি তিনি; শিক্ষার্থীর প্রতি আন্তরিকতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ব্যক্তিগত পক্ষ থেকেও একটি উপহার পাঠিয়েছেন।
জনপ্রতিনিধির এমন মানবিক ও শিক্ষাবান্ধব উদ্যোগে তেঁতুলঝোড়া কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তারা মনে করছেন, একজন সাধারণ শিক্ষার্থীর চিঠিকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত সাড়া দেওয়ার ঘটনা শিক্ষার্থীদের প্রতি জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।
গত ২৫ আগস্ট ঢাকার সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন পরিষদে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেন ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আমান উল্লাহ আমান।
কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়ের একপর্যায়ে তেঁতুলঝোড়া কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী আলো এমপি আমান উল্লাহ আমানের সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় নিজের হাতে লেখা একটি চিঠি তার হাতে তুলে দেন ওই শিক্ষার্থী।
শিক্ষার্থীর কাছ থেকে চিঠিটি গ্রহণের পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেন আমান উল্লাহ আমান। চিঠিতে শিক্ষার্থীর প্রয়োজন ও প্রত্যাশার বিষয়গুলো জানতে পেরে তিনি দ্রুত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ নেন।
চিঠিটি পাওয়ার পর এমপি আমান উল্লাহ আমান তেঁতুলঝোড়া কলেজের সভাপতি অ্যাডভোকেট মেহেদী হাসান এবং কলেজের অধ্যক্ষ ইউনুস স্যার-এর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন।
এ সময় শিক্ষার্থী আলোর প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে কলেজ কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ শিক্ষা ও প্রয়োজনের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন কলেজ সংশ্লিষ্টরা।
শিক্ষার্থীর চিঠিকে গুরুত্ব দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার ঘটনায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যেও উৎসাহ তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, শিক্ষার্থীদের কথা শোনা এবং তাদের সমস্যার বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাদের আস্থা আরও বাড়বে।
শিক্ষার্থীর প্রয়োজনের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার পাশাপাশি আমান উল্লাহ আমান ব্যক্তিগত পক্ষ থেকেও আলোর জন্য একটি উপহার পাঠান।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) এমপি মহোদয়ের পক্ষ থেকে পাঠানো সেই উপহার শিক্ষার্থী আলোর হাতে তুলে দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তেঁতুলঝোড়া কলেজের নবনির্বাচিত সভাপতি অ্যাডভোকেট মেহেদী হাসান, কলেজের অধ্যক্ষ ইউনুস স্যারসহ শিক্ষকরা।
উপহার হাতে পাওয়ার পর শিক্ষার্থী আলোর মধ্যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস দেখা যায়। কলেজের শিক্ষকরা জানান, একজন জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে পাওয়া এমন উৎসাহ একজন শিক্ষার্থীর আত্মবিশ্বাস বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তেঁতুলঝোড়া কলেজের সভাপতি অ্যাডভোকেট মেহেদী হাসান এমপি আমান উল্লাহ আমানের এ উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, একজন শিক্ষার্থীর হাতে লেখা চিঠিকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি যেভাবে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছেন, তা প্রশংসার দাবিদার।
তিনি বলেন, “একজন শিক্ষার্থীর চিঠিকে গুরুত্ব দিয়ে এমপি মহোদয় যেভাবে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি অত্যন্ত আন্তরিক ও শিক্ষাবান্ধব।”
মেহেদী হাসান আরও বলেন, “এমন একজন শিক্ষাবান্ধব এমপি পাওয়া প্রত্যেক শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের জন্য অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ গঠনে জনপ্রতিনিধিদের এ ধরনের ইতিবাচক ভূমিকা অন্যদেরও উৎসাহিত করবে।”
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে তারা আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারবে।
কলেজ সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান অর্জন করলেই তাদের দায়িত্ব শেষ হয় না। তাদের শিক্ষা, মানসিক বিকাশ, সামাজিক সচেতনতা এবং ভবিষ্যৎ গঠনে পরিবার, শিক্ষক ও সমাজের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদেরও ইতিবাচক ভূমিকা রয়েছে।
তাদের ভাষ্য, কোনো শিক্ষার্থী যখন নিজের সমস্যা, প্রয়োজন বা প্রত্যাশার কথা সরাসরি একজন জনপ্রতিনিধির কাছে তুলে ধরার সুযোগ পায় এবং সেখান থেকে ইতিবাচক সাড়া পায়, তখন তা ওই শিক্ষার্থীর মধ্যে আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করে।
আলোর হাতে লেখা চিঠিতে সাড়া দেওয়ার ঘটনাটিও তেমন একটি উদাহরণ হিসেবে দেখছেন তারা। তাদের মতে, একজন শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়ানোর এমন একটি ঘটনা একই সঙ্গে অন্য শিক্ষার্থীদেরও তাদের সমস্যা ও প্রয়োজনের কথা যথাযথভাবে তুলে ধরতে উৎসাহিত করবে।
তেঁতুলঝোড়া কলেজে আলোর হাতে এমপি আমান উল্লাহ আমানের পক্ষ থেকে উপহার তুলে দেওয়ার ঘটনাকে ঘিরে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জনপ্রতিনিধিরা যদি নিয়মিতভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নেন, তাদের সমস্যা ও প্রয়োজনের কথা শোনেন এবং সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তার উদ্যোগ নেন, তাহলে এর সুফল ব্যক্তি শিক্ষার্থীর পাশাপাশি পুরো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও পেতে পারে।
একজন শিক্ষার্থীর হাতে লেখা একটি চিঠি থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় এবং শিক্ষার্থীর হাতে ব্যক্তিগত উপহার পৌঁছে দেওয়ার মধ্য দিয়ে নতুন মাত্রা পেয়েছে।
শিক্ষার্থী আলোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলেজ সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও কল্যাণে জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ একসঙ্গে কাজ করবেন। এতে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ইতিবাচক ও সহায়ক পরিবেশ তৈরি হবে এবং তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে এগিয়ে যেতে পারবে।

বাংলাদেশ খবর ডেস্ক 



