দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত দুটি সার্ভিস সেতু। দুই লেনবিশিষ্ট প্রতিটি সেতুর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ দশমিক ১৭ কিলোমিটার।
বুধবার সকালে আশুলিয়ার ধউর এলাকায় ফিতা কেটে সেতু দুটির উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের পরপরই যানবাহন চলাচলের জন্য সেতু দুটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ যান চলাচলের জন্য চালু করা হয়েছে। গত কয়েক মাসে প্রকল্পের নির্মাণকাজে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। আগামী বছরের মধ্যে পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।
যানজট কমার প্রত্যাশা
সার্ভিস সেতু দুটি চালু হওয়ায় আশুলিয়া, সাভার, ধউর ও বাইপাইলসহ আশপাশের এলাকার মানুষের যাতায়াতে স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে রাজধানী ও আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলের মধ্যে প্রতিদিন চলাচলকারী বিপুলসংখ্যক যানবাহনের জন্য এ সড়ক যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন বাবু ও ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন বক্তব্য দেন। তাঁরা প্রকল্পের অংশবিশেষ যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ায় সরকারের প্রতি ধন্যবাদ জানান এবং দ্রুত পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
এ সময় সিএমসি প্রেসিডেন্ট কিউ আই ইয়ি, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আব্দুর রউফ, সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম এবং ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
টোল ছাড়াই সার্ভিস লেন ব্যবহারের সুযোগ
প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, তুরাগ নদের পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে আশুলিয়া বাজার থেকে ধউর বেড়িবাঁধ পর্যন্ত বিদ্যমান সড়কের একটি অংশ পরিবর্তন করা হচ্ছে। এর পরিবর্তে সার্ভিস লেনের মাধ্যমে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
ফলে সংশ্লিষ্ট অংশে টোল ছাড়াই সার্ভিস লেন ব্যবহার করে যানবাহন চলাচল করতে পারবে। একই সঙ্গে তুরাগ নদের পানিপ্রবাহ যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
স্বস্তি চালক-স্থানীয়দের
সার্ভিস সেতু চালুর পর স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহন চালকদের মধ্যে স্বস্তি দেখা গেছে। দীর্ঘদিনের যানজট, ধীরগতির যান চলাচল এবং সড়ক ভোগান্তি কিছুটা কমবে বলে প্রত্যাশা করছেন তাঁরা।
স্থানীয়দের আশা, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পুরো প্রকল্প চালু হলে রাজধানী থেকে আশুলিয়া হয়ে দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ আরও দ্রুত ও সহজ হবে।
২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এক্সপ্রেসওয়ে
রাজধানীর সঙ্গে দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের দ্রুত যোগাযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে। এটি রাজধানীর দ্বিতীয় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প।
একনেকে অনুমোদনের প্রায় পাঁচ বছর পর ২০২২ সালের ১২ নভেম্বর প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। তবে বিভিন্ন জটিলতার কারণে দীর্ঘ সময় প্রকল্পের কাজ ধীরগতিতে চলায় আশুলিয়া ও সাভার অঞ্চলের মানুষের ভোগান্তি বেড়ে যায়।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই পর্যন্ত প্রকল্পটির সার্বিক অগ্রগতি প্রায় ৭২ শতাংশ। বর্তমানে প্রকল্পের বিভিন্ন অংশে নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে।
প্রকল্প ব্যয় ২৭ হাজার কোটি টাকার বেশি
প্রকল্পটির দ্বিতীয় সংশোধনের পর নির্মাণ ব্যয় আগের তুলনায় প্রায় ৫৪ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। সংশোধিত হিসাবে বর্তমানে প্রকল্পটির নির্মাণ ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৭ হাজার ৪৫ দশমিক ৬৭ কোটি টাকা।
সংশোধিত প্রকল্পে ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন, ভূগর্ভস্থ বৈদ্যুতিক লাইন স্থাপন এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের সঙ্গে এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগ স্থাপনের মতো কাজ যুক্ত হয়েছে।
এ ছাড়া বাইপাইলে নির্মাণ করা হবে তৃতীয় তলা ট্রাম্পেট ইন্টারচেঞ্জ। এসব অবকাঠামো যুক্ত হলে ঢাকা-আশুলিয়া করিডোরে যান চলাচলের গতি বাড়বে এবং রাজধানীর সঙ্গে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ খবর ডেস্ক 




