ঢাকার আশুলিয়ায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) উত্তর শাখা। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার তিনজনই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
রোববার (৩০ আগস্ট ) রাত আড়াইটার দিকে আশুলিয়া থানাধীন পলাশবাড়ী এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক ওজন ১০ গ্রাম এবং বাজারমূল্য প্রায় ৩০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঢাকা জেলা পুলিশের অভিভাবক ও পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের নির্দেশনায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর) শাখার অফিসার ইনচার্জ সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে এসআই (নিঃ) মো. মতিউর রহমান সঙ্গীয় কর্মকর্তা ও ফোর্স নিয়ে অভিযানে অংশ নেন।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মাদারীপুরের কালকিনী থানার ইছাগুড়া এলাকার মো. ধলু ব্যাপারী (৪০), একই এলাকার মো. সাব্বির (২০) এবং কালকিনী থানার খাকান্দি এলাকার মো. মোস্তফা সরদার (২৮)।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার তিনজনই আশুলিয়ার পলাশবাড়ী বিজয়নগর এলাকায় মো. ইকবাল হোসেনের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন।
ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর) পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানকালে গ্রেপ্তার তিনজনের কাছ থেকে মোট ১০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবার ওজন আনুমানিক ১০ গ্রাম এবং এর মূল্য প্রায় ৩০ হাজার টাকা।
পুলিশের দাবি, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পলাশবাড়ী এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের একপর্যায়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি করে ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে জানা গেছে, গ্রেপ্তার মো. ধলু ব্যাপারীর বিরুদ্ধে এর আগেও তিনটি মাদক মামলা রয়েছে। পুলিশ বলছে, মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে তার গতিবিধির ওপর নজর রাখা হচ্ছিল।
তবে আগের মামলাগুলোর বিস্তারিত তথ্য এবং সেগুলোর বর্তমান আইনি অবস্থার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।
অভিযানে গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মামলার পর তাদের বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঢাকা জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক ব্যবসা ও মাদক সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শিল্পাঞ্চল ও ঘনবসতিপূর্ণ আশুলিয়া এলাকায় মাদক নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখা জরুরি। একই সঙ্গে মাদকের উৎস, সরবরাহকারী ও বিক্রয়চক্র শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিবেদকের নোট: গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মামলার তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রমাণিত হওয়ার বিষয়। আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তারা আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।

বাংলাদেশ খবর ডেস্ক 



