মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করতে ঢাকা জেলা পুলিশের ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে ঢাকা জেলার গোয়েন্দা শাখা (ডিবি-উত্তর) পৃথক দুইটি বিশেষ অভিযানে মোট ১১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তিনজন পেশাদার মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে।
ঢাকা জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার শামীমা পারভিন-এর নির্দেশনায় পরিচালিত এ বিশেষ অভিযানে ডিবি (উত্তর) সদস্যরা সাভার মডেল থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব মাদক কারবারিকে আটক করেন। অভিযানে উদ্ধার করা ইয়াবা ট্যাবলেটগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ৩৩ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রথম অভিযানে দুই নারী গ্রেপ্তার
পুলিশ জানায়, গত ২০ জুলাই ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটে ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর)-এর অফিসার ইনচার্জ সাইদুল ইসলাম-এর নেতৃত্বে এসআই (নিঃ) মো. আ. মুত্তালিব সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সসহ সাভার মডেল থানার বক্তারপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানকালে দুইজন পেশাদার মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন—
মোসাঃ ললিতা আক্তার (৩০), পিতা: মৃত কামাল হোসেন, স্বামী: মো. মহর আলী ওরফে আরমান, সাং: বক্তারপুর বেদেপল্লী, সাভার, ঢাকা।
মোসাঃ খায়রুন নেছা (২০), পিতা: মৃত নূর ইসলাম, স্বামী: মো. শাকিল, সাং: বক্তারপুর (করিম পালোয়ানের বাড়ির ভাড়াটিয়া), সাভার, ঢাকা।
গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে ৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবার মোট ওজন প্রায় ৬ গ্রাম এবং আনুমানিক মূল্য ১৮ হাজার টাকা।
পৃথক অভিযানে আরও একজন আটক
একই দিন সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে ডিবি (উত্তর)-এর এসআই (নিঃ) মো. শাহাদাৎ হোসেন সঙ্গীয় ফোর্সসহ সাভার মডেল থানার শোভাপুর রাজফুলবাড়িয়া এলাকায় আরেকটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন।
এ সময় মো. আলী হোসেন (৩৩) নামে এক পেশাদার মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার পিতা মো. সেলিম, মাতা পারভীন বেগম। তার বাড়ি সাভার মডেল থানার কলমা উত্তরপাড়া এলাকায়।
গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার ওজন প্রায় ৫ গ্রাম এবং আনুমানিক বাজারমূল্য ১৫ হাজার টাকা।
পুলিশের বক্তব্য
ঢাকা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, মাদক নির্মূল ও সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে নিয়মিত বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক চক্রের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতেও বহাল থাকবে।
মামলা ও আদালতে প্রেরণ
গ্রেপ্তারকৃত তিন আসামির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ খবর ডেস্ক 



