![]()
ঢাকার সাভার, ধামরাই ও আশুলিয়ায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ২১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) উত্তর শাখা।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের নির্দেশনায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর) শাখার অফিসার ইনচার্জ সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে পৃথক অভিযানগুলো পরিচালিত হয়।
সাভারের আক্রাইন বাজারে অভিযান
পুলিশ জানায়, গত ২৮ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের দিকে সাভার মডেল থানাধীন আক্রাইন বাজার এলাকায় অভিযান চালায় ডিবির একটি দল।
এ সময় মো. সিয়াম হোসেন হৃদয় (১৯) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ভোলা জেলার লালমোহন থানার নয়আনী গ্রাম পশ্চিমপাড়া (বিলপাড়া) এলাকার মৃত জসীম উদ্দীনের ছেলে। বর্তমানে সাভার মডেল থানাধীন আইঠোর রাস্তা এলাকায় আয়শার বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
অভিযানে তার কাছ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পুলিশের হিসাবে উদ্ধার করা ইয়াবার ওজন প্রায় ৫ গ্রাম এবং আনুমানিক মূল্য ১৫ হাজার টাকা।
ধামরাইয়ে ১১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার
এরপর ২৯ আগস্ট রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে ধামরাই থানাধীন গোপাল কৃষ্ণপুর এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে মো. ফরহাদ হোসেন শুভ (৪২) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ধামরাই থানার দাইরা (গোপাল কৃষ্ণপুর) এলাকার মো. আঃ কাদেরের ছেলে।
পুলিশের দাবি, তার কাছ থেকে ১১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার ওজন প্রায় ১১ গ্রাম এবং আনুমানিক বাজারমূল্য ৩৩ হাজার টাকা।
পুলিশ জানিয়েছে, ফরহাদ হোসেন শুভর বিরুদ্ধে পূর্বে একটি মাদক মামলা রয়েছে।
বাইপাইলে গ্রেপ্তার আরও ৫
একই রাতে রাত ১টা ৩০ মিনিটের দিকে আশুলিয়া থানাধীন বাইপাইল এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে ডিবি পুলিশ।
এ অভিযানে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন মো. নজরুল (৩৮), শাহীন (২৩), ফেরদৌস (২২), আইয়ুব হোসেন রনি (২৫) ও ইসমাইল (২৬)।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে মোট ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা ইয়াবার ওজন প্রায় ৫ গ্রাম এবং আনুমানিক মূল্য ১৫ হাজার টাকা।
গ্রেপ্তার মো. নজরুল ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা থানার সোনারগাঁও এলাকার মৃত রজব আলীমের ছেলে। বর্তমানে তিনি আশুলিয়ার পলাশবাড়ী এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন।
শাহীন মাদারীপুরের কালকিনি থানার কাচারীকান্দি এলাকার হান্নানের ছেলে। তিনিও আশুলিয়ার পলাশবাড়ী এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ফেরদৌস ঢাকার ধামরাই থানার সৈলান এলাকার মুন্সি আব্দুর সবুরের ছেলে। বর্তমানে তিনি আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় থাকতেন।
আইয়ুব হোসেন রনি নেত্রকোনার কলমাকান্দা থানার সাকুয়া ইন্দ্রপুর এলাকার মো. বুলবুল আহমেদের ছেলে। তিনি আশুলিয়ার বাইপাইল ইউনিক এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন।
অপর গ্রেপ্তার ইসমাইল বাগেরহাট জেলার মোংলা থানার দক্ষিণ চিলা এলাকার মৃত আলতাফের ছেলে। বর্তমানে তিনি আশুলিয়ার বটতলা এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন।
দুইজনের বিরুদ্ধে আগের মামলা
ঢাকা জেলা পুলিশের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, গ্রেপ্তার ফরহাদ হোসেন শুভর বিরুদ্ধে একটি মাদক মামলা রয়েছে। এছাড়া ফেরদৌসের বিরুদ্ধে একটি সিআর মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত
ঢাকা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক বিক্রি, সরবরাহ ও এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে।
পৃথক অভিযানে গ্রেপ্তার সাতজনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযানকে আরও জোরদার করা হবে এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত থাকবে।
Web: bdkhabor.com. call : +8801823218888. Email: infobdkhabar@gmail.com
▶️ youtube.com/@bdkhabortv 📸 instagram.com/bdkhabar 📘 facebook.com/bdkhabor1 🐦 x.com/b_khabor 🎵 tiktok.com/@sagarbd_official