
ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক অভিযানে দুই যাত্রীর কাছ থেকে শুল্কমুক্ত সীমার অতিরিক্ত বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। পৃথক দুটি ঘটনায় মোট ৮১ দশমিক ৫০ লিটার বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিদেশি মদ আটক করা হয়েছে। জব্দ করা মদের আনুমানিক বাজারমূল্য ১৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে।
দুবাইফেরত যাত্রীর ব্যাগে ৭৮.৫০ লিটার মদ
এনবিআরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত সার্কেল, এয়ারপোর্টের এ-শিফটের কর্মকর্তারা হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের গ্রিন চ্যানেলসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সতর্ক অবস্থান নেন।
এ সময় দুবাই থেকে ঢাকায় আসা এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটের যাত্রী রোমান মিকাইলভ গ্রিন চ্যানেল দিয়ে বিমানবন্দর ত্যাগের চেষ্টা করেন। সন্দেহের ভিত্তিতে তার সঙ্গে থাকা ব্যাগেজ স্ক্যান করা হয়।
স্ক্যানিংয়ে সন্দেহজনক তথ্য পাওয়ার পর তার ব্যাগেজে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির একপর্যায়ে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোট ৭৮ দশমিক ৫০ লিটার বিদেশি মদ পাওয়া যায়।
কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই যাত্রী বিদেশি পাসপোর্টধারী হওয়ায় প্রচলিত ব্যাগেজ বিধিমালা অনুযায়ী তার জন্য ১ লিটার মদ শুল্কমুক্তভাবে আমদানির সুযোগ ছিল। তবে নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত ৭৭ দশমিক ৫০ লিটার মদ আটক করা হয়।
তুর্কিশ এয়ারলাইনসের যাত্রীর কাছ থেকেও মদ উদ্ধার
অন্যদিকে, ২৯ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে তুর্কিশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় আসা আরেক যাত্রীর ব্যাগেজেও বিদেশি মদের সন্ধান পায় কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।
বিমানবন্দরের গ্রিন চ্যানেল অতিক্রমের সময় যাত্রী সামিউল ইসলাম-এর ব্যাগেজ স্ক্যান করা হয়। স্ক্যানিংয়ের পর ব্যাগেজে তল্লাশি চালিয়ে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের আরও ৪ লিটার বিদেশি মদ পাওয়া যায়। পরে সেগুলো আটক করা হয়।
মোট ৮১.৫০ লিটার মদ আটক
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অভিযানে দুই ঘটনায় শুল্কমুক্তভাবে অনুমোদিত ১ লিটার বাদ দিয়ে মোট ৮১ দশমিক ৫০ লিটার বিদেশি মদ আটক করা হয়েছে। এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, জব্দ করা মদের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা।
কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, বিমানবন্দরে বিদেশ থেকে আগত যাত্রীদের ব্যাগেজের ক্ষেত্রে নির্ধারিত শুল্ক ও বিধিবিধান অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ। নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত পণ্য বহনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইনি ও শুল্কসংক্রান্ত বিধান প্রযোজ্য হয়।
গোপন তথ্য ও যাত্রী প্রোফাইলিংয়ে নজরদারি
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের গ্রিন চ্যানেলসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে তাদের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
গোপন তথ্য সংগ্রহ, যাত্রী প্রোফাইলিং, ব্যাগেজ স্ক্যানিং এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে চোরাচালান প্রতিরোধে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ব্যাগেজ সুবিধার অপব্যবহার রোধেও কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা নিয়মিত তৎপরতা চালাচ্ছেন।
কর্তৃপক্ষ বলছে, বিমানবন্দরকে ব্যবহার করে শুল্ক ফাঁকি, চোরাচালান কিংবা ব্যাগেজ সুবিধার অপব্যবহারের যেকোনো চেষ্টা শনাক্ত হলে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Web: bdkhabor.com. call : +8801823218888. Email: infobdkhabar@gmail.com
▶️ youtube.com/@bdkhabortv 📸 instagram.com/bdkhabar 📘 facebook.com/bdkhabor1 🐦 x.com/b_khabor 🎵 tiktok.com/@sagarbd_official