![]()
রাখিবন্ধনের একটি বিজ্ঞাপনকে কেন্দ্র করে কয়েক বছর আগে তুমুল বিতর্কে জড়িয়েছিলেন বলিউড অভিনেত্রী কৃতি শ্যানন। বিজ্ঞাপনে তার পরনের পোশাক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। একপর্যায়ে বিতর্কের মুখে বিজ্ঞাপনটি সরিয়ে নেওয়া হয়। দীর্ঘ সময় পর সেই পুরোনো ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী।
সম্প্রতি অভিনেত্রী কারিনা কাপুর খানের সঙ্গে এক কথোপকথনে কৃতি শ্যানন ওই বিতর্কের প্রসঙ্গ তুলে নিজের বিস্ময়ের কথা জানান। তার বক্তব্য অনুযায়ী, একটি পোশাকের অংশকে ঘিরে এত ব্যাপক আলোচনা হতে পারে—বিষয়টি তিনি এখনো পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারেন না।
কৃতি বলেন, তার পরনের চোলি নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় আলোচনা হওয়াই তাকে সবচেয়ে বেশি অবাক করেছিল। কারিনা কাপুর খানও তার কথার সঙ্গে একমত প্রকাশ করেন।
বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল একটি গহনা প্রতিষ্ঠানের রাখিবন্ধন উপলক্ষে তৈরি বিজ্ঞাপনকে কেন্দ্র করে। বিজ্ঞাপনে কৃতি শ্যাননকে তার ভাইয়ের হাতে রাখি বাঁধতে দেখা যায়। একই সঙ্গে নিজের পোষ্য কুকুরকেও রাখি পরানোর দৃশ্য ছিল বিজ্ঞাপনটিতে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপনটি প্রকাশের পর দর্শকদের একটি অংশ অভিনেত্রীর পোশাক নিয়ে আপত্তি তোলে। তাদের অভিযোগ ছিল, রাখিবন্ধনের মতো ঐতিহ্যবাহী একটি উৎসবকে কেন্দ্র করে তৈরি বিজ্ঞাপনে কৃতির পোশাক যথাযথ হয়নি।
তবে সমালোচনার পাশাপাশি বিজ্ঞাপনটি নিয়ে ভিন্নমতও দেখা যায়। অনেকে প্রশ্ন তোলেন, একজন নারীর পোশাককে কেন্দ্র করে কেন এতটা আলোচনা বা বিতর্ক তৈরি হবে।
শুধু কৃতির পোশাক নয়, বিজ্ঞাপনে পোষ্য কুকুরকে রাখি পরানোর বিষয়টিও কিছু মানুষের সমালোচনার কারণ হয়ে ওঠে। রাখিবন্ধনের ঐতিহ্য ও প্রচলিত রীতির সঙ্গে পোষ্যকে যুক্ত করার বিষয়টি নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন মতামত প্রকাশ করা হয়।
ফলে বিজ্ঞাপনটি ঘিরে একাধিক বিষয়ে আলোচনা তৈরি হয়। পোশাক, উৎসবের উপস্থাপন এবং পোষ্যকে রাখি পরানো—সব মিলিয়ে বিজ্ঞাপনটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনায় উঠে আসে।
তৎকালীন বিতর্কের সময় কৃতি শ্যাননও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছিলেন। তিনি প্রশ্ন করেছিলেন, আধুনিক সময়েও কেন নারীদের কী ধরনের পোশাক পরা উচিত, তা নিয়ে এত আলোচনা হয়।
তার বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল—একজন নারীর পোশাক দিয়ে তার সংস্কৃতি, মূল্যবোধ কিংবা ব্যক্তিত্ব বিচার করা উচিত নয়।
কৃতির মতে, সময়ের সঙ্গে ভারতীয় পোশাকের ধরন ও উপস্থাপনায় পরিবর্তন এসেছে। তবে পোশাকের ধরন পরিবর্তিত হলেই কারও সংস্কৃতি বা ঐতিহ্যবোধ নিয়ে প্রশ্ন তোলা সমীচীন নয়।
কৃতি শ্যাননের বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল সংস্কৃতি ও পোশাককে আলাদা করে দেখার আহ্বান। তিনি মনে করেন, মানুষের সংস্কৃতি শুধু তার পরনের পোশাকের ওপর নির্ভর করে না। সংস্কৃতি মানুষের চিন্তা, মূল্যবোধ, আচরণ ও মানসিকতার সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত।
এ কারণে কোনো নারীর পোশাক দেখে তার সংস্কৃতি বা চরিত্র সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতার সমালোচনা করেছিলেন অভিনেত্রী।
বছর পেরিয়ে গেলেও সেই বিতর্ক কৃতি শ্যাননের মনে রয়েছে। সম্প্রতি কারিনা কাপুর খানের সঙ্গে কথোপকথনে বিষয়টি ফের সামনে আসায় অভিনেত্রী জানান, তার পোশাকের একটি অংশকে কেন্দ্র করে এত বড় আলোচনা তৈরি হওয়া তার কাছে এখনো বিস্ময়কর।
তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, ঘটনাটি তাকে শুধু বিব্রতই করেনি; বরং নারীর পোশাক নিয়ে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েও ভাবিয়েছে।
পরবর্তী সময়েও নারী, পোশাক এবং সমাজের প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কৃতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য ও পোস্ট শেয়ার করেছিলেন। যদিও সেসব পোস্টে সরাসরি রাখিবন্ধনের ওই বিজ্ঞাপনের কথা উল্লেখ করেননি তিনি।
কৃতি শ্যাননের পুরোনো বিতর্ক নিয়ে নতুন করে কথা বলার ফলে নারী কী পরবেন, কোথায় কী ধরনের পোশাক পরবেন এবং পোশাকের ভিত্তিতে একজন নারীকে মূল্যায়ন করা কতটা যুক্তিসঙ্গত—এসব প্রশ্ন আবারও আলোচনায় এসেছে।
অভিনেত্রীর বক্তব্যের কেন্দ্রে রয়েছে ব্যক্তিগত পছন্দ ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়টি। তার মতে, একজন নারীর পোশাক নিয়ে আলোচনা করার আগে তার ব্যক্তিত্ব, কাজ ও মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
রাখিবন্ধনের সেই বিজ্ঞাপন শেষ পর্যন্ত সরিয়ে নেওয়া হলেও ঘটনাটি কৃতি শ্যাননের ক্যারিয়ারের আলোচিত বিতর্কগুলোর একটি হয়ে রয়েছে। বহুদিন পর সেই প্রসঙ্গ সামনে এনে অভিনেত্রী আবারও বুঝিয়ে দিলেন—তার কাছে পোশাকের চেয়ে মানুষের চিন্তা ও মূল্যবোধই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
Web: bdkhabor.com. call : +8801823218888. Email: infobdkhabar@gmail.com
▶️ youtube.com/@bdkhabortv 📸 instagram.com/bdkhabar 📘 facebook.com/bdkhabor1 🐦 x.com/b_khabor 🎵 tiktok.com/@sagarbd_official