![]()
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে দুবাই থেকে আসা একটি ফ্লাইটের দুই বিমানকর্মীর জুতার ভেতর বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা ৮০টি স্বর্ণবার উদ্ধার করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের মোট ওজন প্রায় ৯ দশমিক ৩৪ কেজি। কাস্টমস গোয়েন্দার হিসাবে এর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশেষ নজরদারি চালাচ্ছিলেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা। এ সময় দুবাই থেকে ঢাকায় আসা এমিরেটস এয়ারলাইন্সের EK0582 ফ্লাইটের দুই বিমানকর্মীর গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে তাদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়।
ফ্লাইটটি রানওয়েতে অবস্থান করার পর ওই দুই বিমানকর্মীকে তল্লাশি করা হয়। তল্লাশির একপর্যায়ে তাদের পরিহিত জুতার ভেতরে অস্বাভাবিকভাবে লুকানো স্বর্ণবারের সন্ধান পান কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।
কর্মকর্তারা জানান, স্বর্ণবারগুলো সাধারণভাবে বহন করা হয়নি। বরং নজর এড়াতে জুতার ভেতরে বিশেষ কৌশলে সেগুলো লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। পরে জুতা থেকে মোট ৮০টি স্বর্ণবার উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, উদ্ধার করা প্রতিটি স্বর্ণবারের ওজন প্রায় ১১৭ গ্রাম। সবগুলো মিলিয়ে স্বর্ণের মোট ওজন দাঁড়ায় প্রায় ৯ দশমিক ৩৪ কেজি। উদ্ধারকৃত স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
অভিনব কৌশলে স্বর্ণ পাচারের চেষ্টা
কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ভাষ্য, বিমানকর্মীদের জুতার ভেতরে স্বর্ণবার লুকিয়ে আনার ঘটনা চোরাচালানের ক্ষেত্রে একটি অভিনব কৌশল। সাধারণ যাত্রীদের তুলনায় বিমানকর্মীদের চলাচল ও বিমানবন্দরের বিভিন্ন এলাকায় প্রবেশের সুযোগ ভিন্ন হওয়ায় সংঘবদ্ধ চক্রগুলো তাদের ব্যবহার করার চেষ্টা করতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের সঙ্গে ওই দুই বিমানকর্মীর সম্পৃক্ততার ধরন বা তাদের মাধ্যমে অন্য কেউ চোরাচালান পরিচালনা করছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
কার কাছে যাওয়ার কথা ছিল স্বর্ণ?
উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের চালানটি কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং ঢাকায় কার কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল—এসব বিষয় এখন তদন্তের আওতায় রয়েছে।
এ ঘটনায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত কি না, বিমানকর্মীদের কেউ এর আগে এমন কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন কি না এবং স্বর্ণের চালানটির পেছনে দেশে বা বিদেশে থাকা কোনো চক্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এ জন্য আটক বা জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় থাকা ব্যক্তিদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি স্বর্ণের উৎস ও সম্ভাব্য গন্তব্য শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।
বিমানবন্দরে নজরদারি আরও জোরদারের প্রয়োজন
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হওয়ায় এখান দিয়ে বিপুলসংখ্যক যাত্রী ও বিমানকর্মীর আন্তর্জাতিক যাতায়াত রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে চোরাচালানকারীরা বিমানবন্দরকে ব্যবহার করে অবৈধভাবে স্বর্ণসহ বিভিন্ন পণ্য দেশে আনার চেষ্টা করে থাকে।
সাম্প্রতিক এ ঘটনায় জুতার মতো ব্যক্তিগত ব্যবহারের সামগ্রীর ভেতরেও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ লুকিয়ে আনার কৌশল সামনে এসেছে। ফলে বিমানবন্দরে শুধু যাত্রী নয়, সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তিদের চলাচল ও কার্যক্রমের ওপরও কার্যকর নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, উদ্ধার করা স্বর্ণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও পুরো চক্রের সন্ধানে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন
স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দুই বিমানকর্মীসহ অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কারা মূলত এই চালানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, স্বর্ণগুলো কার মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং এর চূড়ান্ত গন্তব্য কোথায় ছিল—এসব বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্ত করাই এখন তদন্তকারীদের অন্যতম লক্ষ্য। উদ্ধার হওয়া ৮০টি স্বর্ণবারের উৎস, সম্ভাব্য প্রাপক এবং চোরাচালানের পেছনে থাকা ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্তে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া যায় কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
Web: bdkhabor.com. call : +8801823218888. Email: infobdkhabar@gmail.com
▶️ youtube.com/@bdkhabortv 📸 instagram.com/bdkhabar 📘 facebook.com/bdkhabor1 🐦 x.com/b_khabor 🎵 tiktok.com/@sagarbd_official