
বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবিতে ঢাকার সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন একটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে সাভারের তুরাগ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট ও জনভোগান্তি।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শ্রমিকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তাদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য পাওনা বকেয়া রয়েছে। পাওনা পরিশোধের জন্য তারা কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেছেন। তবে তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে বেতন-ভাতা পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এতে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ ক্রমেই বাড়তে থাকে।
শ্রমিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার দুপুরে টিমটেক্স বান্দো ইকো অ্যাপারেলন্স লিমিটেডের শ্রমিকরা বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবিতে কারখানা থেকে বের হয়ে আসেন। পরে তারা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের তুরাগ এলাকায় অবস্থান নেন।
একপর্যায়ে শ্রমিকরা মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং সড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। এ সময় তারা বকেয়া বেতন-ভাতা দ্রুত পরিশোধ, শ্রমিকদের পাওনা বুঝিয়ে দেওয়া এবং নিয়মিত বেতন প্রদানের দাবি জানান।
শ্রমিকদের অভিযোগ, বেতন-ভাতা নিয়মিত না পাওয়ায় তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে। সংসারের খরচ, বাসাভাড়া, খাবার ও সন্তানদের পড়াশোনার ব্যয় মেটাতে অনেকেই আর্থিক সংকটে পড়েছেন। কেউ কেউ ধারদেনা করে সংসার চালাচ্ছেন বলেও জানান তারা।
শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধের কারণে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের উভয় পাশে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কের দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। এতে অফিসগামী মানুষ, যাত্রী, পরিবহন শ্রমিকসহ সাধারণ পথচারীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়।
ব্যস্ত এই মহাসড়কে শ্রমিকদের অবস্থানের কারণে বিভিন্ন যানবাহন আটকা পড়ে। অনেক যাত্রীকে দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকতে হয়। এতে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেননি অনেকে।
অবরোধের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ নেয়। পুলিশ শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে তাদের দাবির বিষয়টি শোনে এবং মহাসড়ক থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানায়।
পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে শ্রমিকরা মহাসড়ক থেকে সরে গেলে যান চলাচল আবার শুরু হয়। ধীরে ধীরে সড়কে আটকে থাকা যানবাহন চলাচল করতে শুরু করে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।
শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বকেয়া থাকার অভিযোগের বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ক্যামেরার সামনে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
ফলে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা কতদিন ধরে বকেয়া রয়েছে, মোট কত টাকা পাওনা রয়েছে এবং এ বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা কী—এসব বিষয়ে কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিক্ষোভকারী শ্রমিকরা জানান, তারা কাজ করে তাদের ন্যায্য পাওনা পেতে চান। বকেয়া বেতন-ভাতা দ্রুত পরিশোধ করে শ্রমিকদের স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
শ্রমিকদের আরও দাবি, ভবিষ্যতে যেন নির্ধারিত সময়ে বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়। তাদের পাওনা পরিশোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে পরবর্তী সময়ে তারা আরও কর্মসূচি দিতে বাধ্য হতে পারেন বলেও জানান।
তবে শ্রমিকদের অভিযোগ ও দাবির বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা সংযুক্ত করা হবে।
প্রতিবেদকের নোট: এই প্রতিবেদনটি ঘটনাস্থলে পাওয়া তথ্য ও শ্রমিকদের বক্তব্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। শ্রমিকদের উত্থাপিত অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। কারখানা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
Web: bdkhabor.com. call : +8801823218888. Email: infobdkhabar@gmail.com
▶️ youtube.com/@bdkhabortv 📸 instagram.com/bdkhabar 📘 facebook.com/bdkhabor1 🐦 x.com/b_khabor 🎵 tiktok.com/@sagarbd_official