![]()
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকায় একটি মাদ্রাসায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী ও শিশুসহ চারজন আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণে মাদ্রাসার একতলা ভবনের পশ্চিম পাশের দুটি কক্ষের দেয়াল উড়ে গেছে।
শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হাসনাবাদ এলাকার উম্মাল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার একতলা ভবনে এ বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনার পরপরই পুলিশ ও বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থল থেকে ককটেল, বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য এবং বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। বিস্ফোরণে দুটি কক্ষের দেয়াল সম্পূর্ণ ধসে পড়ে এবং ছাদ ও বিমে ফাটল দেখা দেয়। পাশের আরও দুটি কক্ষেও ফাটল ধরেছে।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, “ঘটনাস্থলে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল কাজ করছে। অভিযান এখনো চলছে। ককটেল, দাহ্য পদার্থ ও বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।” তিনি জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে ক্রাইম সিন ও বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল যৌথভাবে কাজ করছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসনাবাদ এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, “হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে দৌড়ে গিয়ে দেখি মাদ্রাসার পশ্চিম পাশের দুটি কক্ষের চারপাশের দেয়াল উড়ে গেছে। বিস্ফোরণে ভবনের ভেতরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।”
ওই বাসিন্দা আরও জানান, মাদ্রাসাটিতে সাধারণত ৩০ থেকে ৩৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করত। তবে শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় মাদ্রাসা বন্ধ ছিল। ফলে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
এ ঘটনায় মাদ্রাসার পরিচালক শেখ আল আমিন (৩২), তাঁর স্ত্রী আছিয়া বেগম (২৮) এবং তাঁদের তিন সন্তানের মধ্যে দুই ছেলে উমায়েত (১০) ও আবদুল্লাহ (৭) আহত হন। আহত আছিয়া বেগম ও তাঁর দুই সন্তানকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
জানা গেছে, ভবনের এক পাশে তিনটি কক্ষে মাদ্রাসার কার্যক্রম পরিচালিত হতো। অপর পাশের একটি কক্ষে পরিচালক শেখ আল আমিন পরিবারসহ গত তিন বছর ধরে বসবাস করে আসছিলেন।
পাশের ভবনের বাসিন্দা হুমায়ুন কবির বলেন, “বিস্ফোরণে আমাদের ভবনের কিছু অংশ ফেটে গেছে। ঘরের ভেতরের আসবাবপত্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”
ভবনমালিক পারভীন বেগম বলেন, “তিন বছর ধরে আমার বাড়ি ভাড়া নিয়ে মুফতি হারুন মাদ্রাসা পরিচালনা করতেন। পরে তিনি তাঁর শ্যালক আল আমিন ও শ্যালকের স্ত্রী আছিয়াকে দায়িত্ব দেন। নিয়মিত খোঁজখবর নিলেও মাদ্রাসার আড়ালে কী কার্যক্রম চলছিল, তা বুঝতে পারিনি। আজ এসে দেখি, ভবনের চারপাশ উড়ে গেছে।”
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
Web: bdkhabor.com. call : +8801823218888. Email: infobdkhabar@gmail.com
▶️ youtube.com/@bdkhabortv 📸 instagram.com/bdkhabar 📘 facebook.com/bdkhabor1 🐦 x.com/b_khabor 🎵 tiktok.com/@sagarbd_official