![]()
বলিউডের আলোচিত ছবি ‘দ্য ডার্টি পিকচার’-এর স্মৃতি এখনও দর্শকের মনে অমলিন। দক্ষিণ ভারতীয় অভিনেত্রী সিল্ক স্মিতার জীবন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নির্মিত ছবিটি ২০১১ সালে মুক্তির পর ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছিল। এবার দীর্ঘ ১৫ বছর পর সেই ছবির দ্বিতীয় পর্ব ‘দ্য ডার্টি পিকচার ২’ নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রযোজক একতা কপূর। ফলে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন ছবিটির প্রথম পর্বের প্রধান অভিনেত্রী বিদ্যা বালন।
তবে নতুন ছবিতে বিদ্যা বালনই মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করবেন কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। একই সঙ্গে সিক্যুয়েলটির গল্প কোন নারীকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হবে, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানাননি প্রযোজক। ফলে ছবিটি ঘিরে দর্শকের আগ্রহ বাড়লেও বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর আপাতত অজানাই রয়ে গেছে।
নতুন গল্প নিয়ে ফিরছে ‘দ্য ডার্টি পিকচার’
সম্প্রতি ইউটিউবার রণবীর আল্লাহবাদিয়ার পডকাস্টে অংশ নিয়ে একতা কপূর ‘দ্য ডার্টি পিকচার ২’ তৈরির পরিকল্পনার কথা জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন পর এই ছবির সিক্যুয়েল নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হলো—এবার এমন একটি গল্প তাঁর হাতে এসেছে, যা তিনি দর্শকের সামনে তুলে ধরতে চান।
একতা জানিয়েছেন, প্রথম ছবির মতো দ্বিতীয় পর্বেও একজন নারীর জীবনকাহিনি গুরুত্ব পাবে। তবে সেই নারী কে, তাঁর জীবনের কোন দিকগুলো ছবিতে তুলে ধরা হবে কিংবা নতুন গল্পের সঙ্গে প্রথম ছবির সম্পর্ক কী হবে, তা এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
প্রযোজকের এই বক্তব্যের পর থেকেই বলিউডের সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যে নতুন করে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। অনেকের প্রশ্ন, সিক্যুয়েলটি কি সিল্ক স্মিতার জীবনের আরও অজানা অধ্যায় তুলে ধরবে, নাকি সম্পূর্ণ নতুন কোনও নারীর সংগ্রাম, সাফল্য ও ব্যক্তিগত জীবনের গল্প নিয়ে তৈরি হবে?
সিল্ক স্মিতার জীবন ও যৌনতার স্বাধীনতা
‘দ্য ডার্টি পিকচার’-এর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল নারী, জনপ্রিয়তা, যৌনতা এবং সমাজের দ্বৈত মানসিকতাকে পর্দায় তুলে ধরা। ছবিটির কেন্দ্রে ছিলেন সিল্ক স্মিতা—দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রজগতের এমন এক অভিনেত্রী, যিনি নিজের অভিনয় ও পর্দার উপস্থিতির মাধ্যমে স্বতন্ত্র পরিচিতি গড়ে তুলেছিলেন।
একতা কপূরের দৃষ্টিতে সিল্ক স্মিতা কেবল একজন অসহায় বা পরিস্থিতির শিকার নারী ছিলেন না। বরং তিনি ছিলেন এমন একজন নারী, যিনি নিজের পরিচয় ও যৌনসত্তাকে নিজের মতো করে প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন। সমাজের একাংশের সমালোচনা ও নিন্দার মধ্যেও তাঁর নিজস্ব অবস্থান ছবিটির গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছিল।
একতার মতে, প্রথম ছবিতে সিল্ক স্মিতার জীবনকে এমনভাবে তুলে ধরা হয়েছিল, যেখানে একজন নারীর নিজের শরীর, পরিচয় ও যৌনতা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তাঁর এই দৃষ্টিভঙ্গিই ছবিটিকে সাধারণ জীবনীভিত্তিক সিনেমার বাইরে নিয়ে গিয়ে সামাজিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসে।
এবারের সিক্যুয়েলেও নারীজীবনের এমন কোনও গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হবে কি না, তা জানতে অপেক্ষা করছেন দর্শক।
বিদ্যা বালন কি আবারও মুখ্য চরিত্রে?
প্রথম ছবিতে সিল্ক স্মিতার চরিত্রে অভিনয় করে বিশেষ প্রশংসা পেয়েছিলেন বিদ্যা বালন। চরিত্রটির শারীরিক উপস্থিতি, আত্মবিশ্বাস, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং আবেগের বিভিন্ন দিক পর্দায় ফুটিয়ে তুলে তিনি নিজের অভিনয়জীবনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেন।
ছবিতে তাঁর সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন নাসিরুদ্দিন শাহ, ইমরান হাশমি ও তুষার কপূর। ছবিটির গল্প ও অভিনয় দর্শক-সমালোচকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছিল। বিদ্যা বালনের অভিনয়ের জন্য ছবিটি এখনও তাঁর ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়।
কিন্তু ‘দ্য ডার্টি পিকচার ২’-এ বিদ্যা বালন ফিরছেন কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। নতুন গল্পের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্রটি সিল্ক স্মিতার জীবন থেকে অনুপ্রাণিত হবে, নাকি অন্য কোনও বাস্তব বা কাল্পনিক চরিত্রকে ঘিরে তৈরি হবে, সেটিও স্পষ্ট নয়।
সিক্যুয়েলে বিদ্যার প্রত্যাবর্তন হলে তা দর্শকের কাছে বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করতে পারে। আবার সম্পূর্ণ নতুন কোনও অভিনেত্রীকে মুখ্য চরিত্রে নেওয়া হলেও ছবিটি নতুন মাত্রা পেতে পারে। আপাতত এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য প্রযোজকের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা করতে হবে।
২০১১ সালের ছবিটি কেন এত আলোচিত হয়েছিল?
২০১১ সালের ২ ডিসেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছিল ‘দ্য ডার্টি পিকচার’। মিলন লুথরিয়া পরিচালিত ছবিটি সিল্ক স্মিতার জীবন থেকে অনুপ্রাণিত হলেও এটি তাঁর জীবনের হুবহু তথ্যচিত্র ছিল না; বরং বাস্তব জীবনের কিছু উপাদান অবলম্বনে নির্মিত একটি চলচ্চিত্র।
ছবিটিতে বিনোদনজগতের সাফল্য, খ্যাতির আকাঙ্ক্ষা, ব্যক্তিগত সম্পর্ক, নারীর স্বাধীনতা এবং সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির মতো বিষয় উঠে এসেছিল। বিশেষ করে একজন নারী নিজের পছন্দ ও পরিচয় অনুযায়ী জীবনযাপন করতে চাইলে সমাজ কীভাবে তাঁকে বিচার করে, সেই প্রশ্ন ছবিটির আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
বিদ্যা বালনের অভিনয় ছবিটির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল। এই চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি ২০১২ সালে ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা অভিনেত্রীর সম্মান অর্জন করেন। ছবিটি তাঁর অভিনয়জীবনে নতুন পরিচিতি তৈরি করার পাশাপাশি নারীকেন্দ্রিক বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র নিয়েও নতুন আলোচনা উসকে দেয়।
সিক্যুয়েলে কী থাকতে পারে?
একতা কপূরের বক্তব্যে নতুন ছবির গল্প নিয়ে কিছুটা ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও কাহিনির বিস্তারিত এখনও অপ্রকাশিত। তাই ছবিতে ঠিক কী ধরনের ঘটনা, চরিত্র বা সম্পর্কের টানাপোড়েন দেখা যাবে, তা নিয়ে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
তবে প্রথম ছবির মূল ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন পর্বেও একজন নারীর নিজস্ব পরিচয়, সামাজিক অবস্থান, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং প্রচলিত ধারণার সঙ্গে তাঁর সংঘাত গুরুত্ব পেতে পারে। একই সঙ্গে বিনোদনজগতের আড়ালের বাস্তবতা ও একজন নারীর নিজের শর্তে বেঁচে থাকার সংগ্রামও গল্পের সম্ভাব্য আলোচ্য বিষয় হতে পারে। এগুলো অবশ্যই সম্ভাব্য দিক—নির্মাতারা এখনও কাহিনির আনুষ্ঠানিক বিবরণ প্রকাশ করেননি।
মুক্তির তারিখ ও অন্যান্য তথ্য এখনও অজানা
‘দ্য ডার্টি পিকচার ২’ নিয়ে একতা কপূর পরিকল্পনার কথা জানালেও ছবিটির মুক্তির তারিখ, পরিচালক, অভিনয়শিল্পীদের তালিকা কিংবা শুটিং শুরুর নির্দিষ্ট সময় প্রকাশ করা হয়নি। তাই ছবিটি কবে প্রেক্ষাগৃহে আসবে, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
তবে ১৫ বছর পর জনপ্রিয় একটি ছবির জগতে ফিরে যাওয়ার এই উদ্যোগ বলিউডে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। প্রথম ছবির সাফল্য, বিদ্যা বালনের অভিনয় এবং সিল্ক স্মিতার জীবন নিয়ে দর্শকের আগ্রহ—সব মিলিয়ে সিক্যুয়েলটি নিয়ে প্রত্যাশা তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক।
এখন দেখার বিষয়, একতা কপূর নতুন ছবির মাধ্যমে কোন নারীর গল্প বলতে চান এবং সেই গল্পে কে হবেন কেন্দ্রীয় চরিত্র। বিদ্যা বালন ফিরবেন, নাকি নতুন কোনও অভিনেত্রীকে দেখা যাবে—এই প্রশ্নের উত্তর মিলবে নির্মাতাদের পরবর্তী আনুষ্ঠানিক ঘোষণায়।
সূত্র: একতা কপূরের পডকাস্টে দেওয়া বক্তব্য এবং প্রকাশিত বিনোদনসংক্রান্ত প্রতিবেদন।
Web: bdkhabor.com. call : +8801823218888. Email: infobdkhabar@gmail.com
▶️ youtube.com/@bdkhabortv 📸 instagram.com/bdkhabar 📘 facebook.com/bdkhabor1 🐦 x.com/b_khabor 🎵 tiktok.com/@sagarbd_official