![]()
ঢাকার সাভার উপজেলার তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের পদ্মারমোড় এলাকার সিংগার রোডে দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী, শিক্ষার্থী ও যানবাহন চালকরা। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের বিভিন্ন অংশ পানিতে তলিয়ে যায় এবং সেই পানি দিনের পর দিন জমে থাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে এবং এলাকার মানুষের স্বাভাবিক চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সিংগার রোডের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে ছোট-বড় জলাশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা থাকলেও পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় এবং ড্রেনগুলো ময়লা-আবর্জনায় ভরে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি দ্রুত সরতে পারছে না। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তায় হাঁটুসমান পানি জমে থাকে, যা এলাকাবাসীর জন্য দীর্ঘস্থায়ী ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সিংগার রোডটি সাভার ও ঢাকাগামী মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম। প্রতিদিন হাজারো মানুষ কর্মস্থল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাজে এই সড়ক ব্যবহার করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার সমস্যা থাকলেও এর কার্যকর সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ না থাকায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।
বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। সড়কে জমে থাকা পানির নিচে কোথায় গর্ত আর কোথায় রাস্তার সমতল অংশ তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে মোটরসাইকেল, রিকশা, অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহন চলাচলের সময় প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। অনেক সময় যানবাহন বিকল হয়ে রাস্তায় আটকে যাচ্ছে, ফলে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট।
স্থানীয় শিক্ষার্থীরা জানান, স্কুল-কলেজে যাতায়াত করতে গিয়ে তাদের প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বৃষ্টির দিনে অনেক শিক্ষার্থী কাদাপানি মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে যেতে বাধ্য হয়। অভিভাবকদেরও সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে থাকতে হচ্ছে। একইভাবে নারী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয় এলাকাবাসীরা জানিয়েছেন, শুধু যাতায়াত ব্যবস্থাই নয়, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। জমে থাকা নোংরা পানির কারণে মশার উপদ্রব আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাদের মতে, জলাবদ্ধতার ফলে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও বেড়েছে। দুর্গন্ধযুক্ত পানি পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের জন্যও হুমকি হয়ে উঠছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, জলাবদ্ধতার কারণে তাদের ব্যবসায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। একজন ব্যবসায়ী বলেন, “সিংগার রোডের এই জলাবদ্ধতা এখন আমাদের নিত্যদিনের দুর্ভোগ। বৃষ্টি হলে অনেক ক্রেতাই এই রাস্তা ব্যবহার করতে চান না। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান প্রয়োজন।”
একজন নিয়মিত পথচারী বলেন, “প্রতিদিন অফিসে যাওয়ার জন্য এই রাস্তা ব্যবহার করি। রাস্তার বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকায় অনেক সময় জুতা হাতে নিয়ে হাঁটতে হয়। পানি ও কাদার কারণে চলাচল খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বর্ষায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।”
এলাকাবাসীর দাবি, সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে যাতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি না হয়, সেদিকেও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সিংগার রোডের জলাবদ্ধতা শুধু একটি এলাকার সমস্যা নয়; এটি জনস্বার্থ ও জননিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগকে সমন্বিতভাবে কাজ করে দ্রুত স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী মনে করেন, জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তাই জনদুর্ভোগ লাঘব এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
Web: bdkhabor.com. call : +8801823218888. Email: infobdkhabar@gmail.com
▶️ youtube.com/@bdkhabortv 📸 instagram.com/bdkhabar 📘 facebook.com/bdkhabor1 🐦 x.com/b_khabor 🎵 tiktok.com/@sagarbd_official