![]()
ঢাকার কেরানীগঞ্জে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একটি ইয়াবা তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১০। এ সময় ইয়াবা তৈরির বিভিন্ন কাঁচামাল, উৎপাদন সরঞ্জাম, প্রস্তুত ইয়াবা ট্যাবলেট, মোবাইল ফোন ও ওজন পরিমাপক যন্ত্র জব্দ করা হয়। অভিযানে একটি সংঘবদ্ধ মাদক চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন— মো. আলমগীর ওরফে আন্ডে (৪০), মো. আলী আরমান (৩৬), মো. শাহজাহান (৪০) এবং সোনিয়া (৩০)।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান র্যাব-১০ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহা. আসাদুজ্জামান।
তিনি জানান, এর আগে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাতে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার মধ্যচর দক্ষিণ বালুচর এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ইয়াবা তৈরির ওই কারখানায় অভিযান চালানো হয়। দীর্ঘদিন ধরে গোয়েন্দা নজরদারির পর সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়।
র্যাবের তথ্যমতে, অভিযানকালে এক হাজার ৯৬৮ পিস ইয়াবা, ইয়াবা তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের পাউডারসদৃশ কাঁচামাল, উৎপাদন সরঞ্জাম, পাঁচটি মোবাইল ফোন এবং একটি ডিজিটাল ওজন পরিমাপক যন্ত্র জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে চক্রটির চার সক্রিয় সদস্যকে আটক করা হয়।
ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত ডিআইজি মোহা. আসাদুজ্জামান বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের মধ্যে মো. আলমগীর ওরফে আন্ডের বিরুদ্ধে রাজধানীর রামপুরা, কামরাঙ্গীরচর ও মোহাম্মদপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তিনটি মামলা রয়েছে।
র্যাবের দাবি, চক্রটি প্রায় দুই বছর ধরে গোপনে ইয়াবা উৎপাদন করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে আসছিল। বিশেষ করে কামরাঙ্গীরচর, পুরান ঢাকা এবং আশপাশের এলাকায় তাদের একটি সক্রিয় মাদক নেটওয়ার্ক রয়েছে বলে তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
র্যাব অধিনায়ক আরও বলেন, ইয়াবা তৈরিতে ব্যবহৃত কাঁচামালগুলো নিজস্বভাবে অবৈধ নয়; এগুলো বিভিন্ন বৈধ শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত হয়। তবে গ্রেফতার চক্রটি এসব বৈধ কাঁচামাল ব্যবহার করে ইয়াবা উৎপাদনের একটি পদ্ধতি তৈরি করেছিল। কীভাবে তারা এসব উপকরণ সংগ্রহ করত এবং উৎপাদন প্রক্রিয়া পরিচালনা করত, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে গ্রেফতারদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
তিনি আরও জানান, গ্রেফতারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আরও কয়েকটি ইয়াবা তৈরির কারখানার সন্ধান পাওয়া গেছে। এসব স্থানে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং শিগগিরই প্রয়োজনীয় অভিযান পরিচালনা করা হবে।
র্যাব জানিয়েছে, সংঘবদ্ধ এই চক্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তাদের অর্থায়নের উৎস কোথায় এবং উৎপাদিত ইয়াবা কোথায় কোথায় সরবরাহ করা হতো—এসব বিষয়ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব-১০।
Web: bdkhabor.com. call : +8801823218888. Email: infobdkhabar@gmail.com
▶️ youtube.com/@bdkhabortv 📸 instagram.com/bdkhabar 📘 facebook.com/bdkhabor1 🐦 x.com/b_khabor 🎵 tiktok.com/@sagarbd_official