![]()
দেশের বেকারত্ব সমস্যা মোকাবিলা, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে বিশ্বমানের, কর্মমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ লক্ষ্যে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), অত্যাধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তি, কারিগরি ও প্রকৌশল শিক্ষার প্রসারে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) বঙ্গভবনে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব বিষয়ে গুরুত্ব দেন। এ সময় প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন্ন অষ্টম সমাবর্তনে চ্যান্সেলর হিসেবে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানায়। রাষ্ট্রপতি সমাবর্তনে উপস্থিত থাকার বিষয়ে মৌখিক সম্মতি দেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের বেকারত্ব সমস্যা সমাধানে উচ্চশিক্ষাসহ সব পর্যায়ে কর্মমুখী, কারিগরি ও প্রকৌশল শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া অপরিহার্য। শুধু প্রচলিত শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষার্থীদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তাঁরা পরিবর্তনশীল শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী নিজেদের দক্ষ করে তুলতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজানো প্রয়োজন। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অত্যাধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সম্প্রসারণ করতে হবে।
রাষ্ট্রপতি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সর্বশেষ অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, উচ্চশিক্ষার মূল লক্ষ্য শুধু ডিগ্রি প্রদান নয়; বরং দক্ষ, সৃজনশীল, উদ্ভাবনী ও দায়িত্বশীল মানবসম্পদ তৈরি করা।
তিনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, গবেষণার পরিধি সম্প্রসারণ এবং নতুন নতুন উদ্ভাবনে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ উন্নত করতে হবে, যাতে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশের প্রতিযোগিতামূলক কর্মক্ষেত্রে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারেন।
রাষ্ট্রপতি আরও গুরুত্ব দেন, দেশের উন্নয়ন ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বাড়াতে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে জ্ঞানচর্চা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং গবেষণাভিত্তিক শিক্ষার প্রসার ঘটানো প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
সৌজন্য সাক্ষাৎকালে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন্ন অষ্টম সমাবর্তনে চ্যান্সেলর হিসেবে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানায়। রাষ্ট্রপতি এতে মৌখিক সম্মতি দেন।
প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য মো. ইসমাইল জাবিউল্লাহ, ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাফায়েত মোহাম্মদ রাজু, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদ আহমদ সোবহানী, ট্রাস্টি বোর্ডের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আবুল কাশেম হায়দার এবং বোর্ড সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান আবুল খায়ের চৌধুরী।
সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে অর্জিত অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা, শিক্ষার গুণগত উৎকর্ষ বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের বিষয়েও তুলে ধরে।
প্রতিনিধিদল জানায়, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর অংশ হিসেবে জেসাপ আন্তর্জাতিক মুট কোর্ট প্রতিযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়টি ২০২৬ সালসহ চারবার বাংলাদেশে জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।
আইন বিষয়ে শিক্ষার্থীদের যুক্তি উপস্থাপন, গবেষণা, বিশ্লেষণী দক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিজেদের যোগ্যতা তুলে ধরার ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রতিযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিনিধিদল তাদের এই অর্জনকে শিক্ষা ও গবেষণার মান উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগগুলোর একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে তুলে ধরে।
উচ্চশিক্ষায় প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্গীকারের কথাও রাষ্ট্রপতিকে জানায় প্রতিনিধিদল।
তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য ১০০ কোটি টাকারও বেশি বৃত্তি প্রদান করেছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিবছর প্রায় ৬ কোটি টাকার বৃত্তি দিচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব বৃত্তি একদিকে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক উৎকর্ষ অর্জনে উৎসাহিত করছে, অন্যদিকে আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ তৈরি করছে। এর ফলে আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে যাতে যোগ্য শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বাধাগ্রস্ত না হয়, সে লক্ষ্যেও বিশ্ববিদ্যালয়টি কাজ করছে।
উচ্চশিক্ষায় সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এবং মেধার বিকাশে আর্থিক সহায়তার গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। এ প্রেক্ষাপটে বৃত্তি কার্যক্রমকে বিশ্ববিদ্যালয়টির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে প্রতিনিধিদল উপস্থাপন করে।
সাক্ষাৎকালে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির প্রতিনিধিদল শিক্ষা, গবেষণা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে। তারা জানায়, শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা প্রদান, গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধি এবং উচ্চশিক্ষায় প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বর্তমান বিশ্বে কর্মক্ষেত্রের চাহিদা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীদের শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞানে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রযুক্তিগত দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা, সৃজনশীল চিন্তাভাবনা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ করে তোলা জরুরি। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এ ধরনের দক্ষতা উন্নয়ন এখন গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতির বক্তব্যেও কর্মমুখী শিক্ষা, প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদান, গবেষণা এবং উদ্ভাবনের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, উচ্চশিক্ষা ও শ্রমবাজারের মধ্যে কার্যকর সংযোগ স্থাপন করা গেলে দক্ষ জনশক্তি তৈরির পাশাপাশি বেকারত্ব মোকাবিলায়ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।
Web: bdkhabor.com. call : +8801823218888. Email: infobdkhabar@gmail.com
▶️ youtube.com/@bdkhabortv 📸 instagram.com/bdkhabar 📘 facebook.com/bdkhabor1 🐦 x.com/b_khabor 🎵 tiktok.com/@sagarbd_official