![]()
বলিউডের জনপ্রিয় গানগুলোর তালিকায় দীর্ঘদিন ধরেই জায়গা করে আছে ‘কজরা রে’। ২০০৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘বন্টী অউর ববলী’ সিনেমার এই গানটি শুধু দর্শক-শ্রোতাদের বিনোদনই দেয়নি, বরং অমিতাভ বচ্চন, অভিষেক বচ্চন ও ঐশ্বর্যা রায় বচ্চনের একসঙ্গে পর্দায় উপস্থিতির কারণে এটি বিশেষ আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। গানটির শুটিংয়ের অভিজ্ঞতাও যে অভিনেতা অভিষেক বচ্চনের কাছে বিশেষ স্মরণীয়, সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই কথাই জানিয়েছেন তিনি।
অভিষেকের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘কজরা রে’-এর শুটিং প্রচলিত অর্থে শুধু কোরিওগ্রাফ করা নাচের দৃশ্য ধারণের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং সেটে তৈরি হয়েছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। গান বাজিয়ে অভিনেতাদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে নাচতে দেওয়া হয়েছিল। সেই মুহূর্তের আনন্দ, উচ্ছ্বাস ও স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ার অনেকটাই ক্যামেরাবন্দি করেন পরিচালক শাদ আলী। পরবর্তী সময়ে এসব দৃশ্যই গানটির চূড়ান্ত সংস্করণে ব্যবহার করা হয়।
‘কজরা রে’-এর সঙ্গে অভিষেকের ব্যক্তিগত স্মৃতিও জড়িয়ে আছে। গানটির শুটিং চলাকালীন তাঁর জন্মদিন পড়েছিল। ফলে শুটিংয়ের ব্যস্ততার মধ্যেই জন্মদিন উদ্যাপনের সুযোগ তৈরি হয়। অমিতাভ ও ঐশ্বর্যার সঙ্গে একই সেটে এমন একটি আনন্দঘন পরিবেশ তাঁর কাছে স্মরণীয় হয়ে রয়েছে।
অভিষেকের স্মৃতিচারণ থেকে জানা যায়, গানটির শুটিংয়ের সময় সেটে দীর্ঘ সময় ধরে স্বতঃস্ফূর্ত নাচ ও আনন্দ চলেছিল। প্রায় চার ঘণ্টার সেই সময়কে তিনি অনেকটা বড় একটি পার্টির সঙ্গে তুলনা করেছেন। পরিকল্পিত নাচের পাশাপাশি নিজেদের মতো করে মজা করা এবং বিভিন্ন মুহূর্ত উপভোগ করাই ছিল সেই শুটিংয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
গানটির পরিচালক শাদ আলী শুটিংয়ের ক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করেছিলেন। সাধারণত কোনো চলচ্চিত্রের গানের দৃশ্য নির্দিষ্ট কোরিওগ্রাফি, ক্যামেরা মুভমেন্ট ও রিহার্সালের মাধ্যমে ধারণ করা হয়। কিন্তু ‘কজরা রে’-এর ক্ষেত্রে সেটের স্বাভাবিক আনন্দকে ক্যামেরায় ধরে রাখার দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।
গানটি চালু করে দেওয়া হয় এবং অমিতাভ, অভিষেক ও ঐশ্বর্যা নিজেদের মতো করে নাচতে ও আনন্দ করতে থাকেন। ক্যামেরায় ধারণ করা সেই স্বতঃস্ফূর্ত মুহূর্তগুলোর মধ্য থেকেই পরবর্তী সময়ে গানটির জন্য প্রয়োজনীয় দৃশ্য বেছে নেওয়া হয়।
ফলে পর্দায় গানটির যে প্রাণবন্ত আবহ তৈরি হয়েছে, তার পেছনে ছিল অনেকটাই তাৎক্ষণিক ও স্বাভাবিক পারফরম্যান্স। এই কারণেই গানটির দৃশ্যগুলোকে দর্শকের কাছে এতটা প্রাণবন্ত মনে হয়েছে বলে অভিষেকের স্মৃতিচারণ থেকে ধারণা পাওয়া যায়।
‘কজরা রে’ মুক্তির পর দ্রুতই দর্শক-শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। গানটির সুর, কথা, কণ্ঠ, নৃত্য এবং তিন বচ্চন-রায় তারকার উপস্থিতি—সবকিছু মিলিয়ে এটি হয়ে ওঠে ‘বন্টী অউর ববলী’র অন্যতম আলোচিত আকর্ষণ।
গানটির সুর করেছিলেন শঙ্কর-এহসান-লয়। গীতিকার ছিলেন গুলজার। গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন শঙ্কর মহাদেবন, জাভেদ আলী ও অলিশা চিনাই। গানের সঙ্গে যুক্ত শিল্পীদের সমন্বয় এবং অমিতাভ-অভিষেক-ঐশ্বর্যার উপস্থিতি গানটিকে আলাদা মাত্রা দেয়।
বিশেষ করে অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে অভিষেক বচ্চন ও ঐশ্বর্যা রায় বচ্চনের নাচের দৃশ্য দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। পরবর্তী সময়েও বিভিন্ন অনুষ্ঠান, বিয়ে ও পার্টিতে গানটির ব্যবহার অব্যাহত থাকে।
২০০৫ সালে মুক্তি পাওয়ার পর অনেক বছর পেরিয়ে গেলেও ‘কজরা রে’ এখনও বলিউডের স্মরণীয় পার্টি গানগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়। সময়ের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের কাছে অসংখ্য নতুন গান জনপ্রিয় হলেও এই গানটির আবেদন পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি।
বিশেষ করে বিয়ে, পারিবারিক অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন আনন্দ আয়োজনের প্লেলিস্টে গানটি এখনও শোনা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিভিন্ন সময়ে গানটির নাচের অংশ নতুন করে আলোচনায় আসে।
গানটির দীর্ঘস্থায়ী জনপ্রিয়তার পেছনে শুধু সুর বা নৃত্য নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা তারকাদের উপস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। অমিতাভ বচ্চন, অভিষেক বচ্চন ও ঐশ্বর্যা রায়—তিন তারকাকে একই গানে একসঙ্গে দেখার সুযোগ দর্শকদের জন্য ছিল বিশেষ আকর্ষণের।
সাক্ষাৎকারে অভিষেক বচ্চনকে ‘কজরা রে ২.০’ তৈরি হলে তিনি সেখানে অভিনয় করতে আগ্রহী কি না, এমন প্রশ্নও করা হয়। জবাবে তিনি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন।
অভিষেক জানান, এমন প্রস্তাব এলে তিনি আগ্রহের সঙ্গে সেটি গ্রহণ করবেন। তবে নতুন সংস্করণে আবারও অমিতাভ বচ্চন ও ঐশ্বর্যা রায় বচ্চনকে যুক্ত করা সম্ভব হবে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
অর্থাৎ ভবিষ্যতে ‘কজরা রে’-এর নতুন কোনো সংস্করণ তৈরি হলে সেখানে পুরোনো তিন তারকার পুনর্মিলন দর্শকদের জন্য বাড়তি আগ্রহের কারণ হতে পারে।
অভিষেক বচ্চনের ক্যারিয়ারে বহু জনপ্রিয় গান ও সিনেমা থাকলেও ‘কজরা রে’-এর শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে আলাদা হয়ে আছে। কারণ এখানে শুধু পেশাগত কাজ নয়, ব্যক্তিগত আনন্দ, জন্মদিন উদ্যাপন এবং পরিবারের দুই প্রিয় মানুষের সঙ্গে একই সেটে কাটানো সময়ও জড়িয়ে রয়েছে।
একটি গান কীভাবে শুধুমাত্র পরিকল্পিত নাচের দৃশ্যের বাইরে গিয়ে শিল্পীদের স্বতঃস্ফূর্ত আনন্দ ও সম্পর্কের মুহূর্তকে ধারণ করতে পারে, ‘কজরা রে’ তার একটি আলোচিত উদাহরণ হয়ে আছে। আর সেই কারণেই গানটি মুক্তির বহু বছর পরও অভিষেকের স্মৃতিতে বিশেষভাবে উজ্জ্বল।
বলিউডে পুরোনো জনপ্রিয় গানকে নতুনভাবে ফিরিয়ে আনার প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। তাই ‘কজরা রে’-এর মতো দর্শকপ্রিয় একটি গানের নতুন সংস্করণ নিয়ে ভবিষ্যতে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হলে সেটি যে ভক্তদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
Web: bdkhabor.com. call : +8801823218888. Email: infobdkhabar@gmail.com
▶️ youtube.com/@bdkhabortv 📸 instagram.com/bdkhabar 📘 facebook.com/bdkhabor1 🐦 x.com/b_khabor 🎵 tiktok.com/@sagarbd_official