![]()
বলিউডে নারীপ্রধান ছবির বাণিজ্যিক সাফল্য, অভিনেত্রীদের কাজের সুযোগ এবং পুরুষকেন্দ্রিক গল্পের আধিপত্য নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন অভিনেত্রী রাধিকা আপ্তে। তাঁর মতে, একটি ছবির গল্প, চিত্রনাট্য ও অভিনয় ভালো হলেই যে সেটি বক্স অফিসে প্রত্যাশিত সাফল্য পাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। বিশেষ করে ছবির মূল চরিত্রে কোনো নারী অভিনেত্রী থাকলে সেই ছবির ব্যবসায়িক সম্ভাবনা নিয়ে নির্মাতাদের মধ্যে বাড়তি অনিশ্চয়তা কাজ করে।
বলিউডে দীর্ঘদিন ধরেই নারীপ্রধান চলচ্চিত্রের বাজার, দর্শকের আগ্রহ এবং বাণিজ্যিক সাফল্য নিয়ে আলোচনা চলছে। নারী অভিনেত্রীদের কেন্দ্র করে নির্মিত অনেক ছবি প্রশংসা পেলেও সব ক্ষেত্রে সেগুলো প্রত্যাশিত আয় করতে পারে না। অন্যদিকে, তারকানির্ভর ও পুরুষকেন্দ্রিক ছবির প্রতি প্রযোজক ও নির্মাতাদের আগ্রহও প্রায়ই আলোচনায় আসে। এই পরিস্থিতিতে রাধিকা আপ্তের বক্তব্য নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, বলিউডে একজন অভিনেত্রীর জনপ্রিয়তা ও বক্স অফিসের সম্ভাবনাকে কীভাবে মূল্যায়ন করা হয়।
বক্স অফিসের হিসাবেই কি পিছিয়ে নারীপ্রধান ছবি?
রাধিকা আপ্তের মতে, চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে শুধু সৃজনশীলতা বা অভিনয়ের মানই শেষ কথা নয়। একটি ছবি কোথায় মুক্তি পাবে, কীভাবে দর্শকের কাছে পৌঁছাবে এবং সেটি কতটা ব্যবসা করতে পারে—এসব বিষয়ও নির্মাতাদের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া ছবির বাণিজ্যিক ফলাফল আগে থেকে নিশ্চিতভাবে অনুমান করা কঠিন। ভালো গল্প ও শক্তিশালী অভিনয় থাকা সত্ত্বেও কোনো ছবি প্রত্যাশিত আয় নাও করতে পারে। আবার তারকাদের জনপ্রিয়তা অনেক সময় একটি ছবির প্রতি দর্শকের আগ্রহ বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে ছবি নির্মাণের পরিকল্পনায় শিল্পমানের পাশাপাশি বাজারের হিসাবও গুরুত্ব পায়।
এই বাস্তবতায় নারীপ্রধান ছবির ক্ষেত্রে ঝুঁকি নেওয়ার বিষয়ে নির্মাতাদের মধ্যে দ্বিধা তৈরি হতে পারে বলে মনে করেন অভিনেত্রী। তাঁর মতে, পুরুষ চরিত্রকে কেন্দ্র করে গল্প সাজানোর প্রবণতার পেছনে বাণিজ্যিক বিবেচনাও কাজ করে।
আলিয়া ও দীপিকার জনপ্রিয়তা নিয়ে মন্তব্য
সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে রাধিকা আপ্তে বলিউডের তারকানির্ভর বাণিজ্যিক কাঠামো নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আলিয়া ভট্ট ও দীপিকা পাড়ুকোনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় হলো, সব অভিনেত্রীর ক্ষেত্রে দর্শক টানার ক্ষমতা কিংবা বক্স অফিসে সাফল্যের সম্ভাবনাকে একইভাবে বিবেচনা করা হয় না।
রাধিকার ভাষ্য অনুযায়ী, আলিয়া ভট্ট বা দীপিকা পাড়ুকোনের মতো প্রতিষ্ঠিত তারকাদের উপস্থিতি কোনো কোনো ছবির প্রতি দর্শকের আগ্রহ তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু অন্য অভিনেত্রীদের ক্ষেত্রে শুধু মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করাটাই ছবির বাণিজ্যিক সাফল্য নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট নয়।
এ কারণেই নারী অভিনেত্রীদের ঘিরে নির্মিত ছবির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রযোজক ও নির্মাতাদের মধ্যে বাড়তি হিসাব-নিকাশ দেখা যায় বলে তাঁর বক্তব্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তবে তাঁর মন্তব্যের মূল তাৎপর্য শুধু দুই জনপ্রিয় অভিনেত্রীর তুলনায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং বলিউডে তারকাখ্যাতি, বাজারের প্রত্যাশা এবং নারী অভিনেত্রীদের সুযোগের মধ্যে থাকা পার্থক্যও এতে উঠে এসেছে।
ওটিটি না প্রেক্ষাগৃহ—মুক্তির মাধ্যম নয়, কাজের মানই গুরুত্বপূর্ণ
কোনো সিনেমা প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে, নাকি কোনো ওটিটি প্ল্যাটফর্মে—কাজ বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিষয়টিকে প্রধান বিবেচনা করেন না রাধিকা আপ্তে। তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো, কাজটি দর্শকের কাছে পৌঁছাতে পারছে কি না।
বর্তমান সময়ে চলচ্চিত্র ও বিনোদনশিল্পে ওটিটি প্ল্যাটফর্মের বিস্তার অভিনেতা-অভিনেত্রীদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। একদিকে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবির ক্ষেত্রে টিকিট বিক্রি ও বক্স অফিসের হিসাব গুরুত্বপূর্ণ, অন্যদিকে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে দর্শকের কাছে পৌঁছানোর ধরন ও সাফল্য মূল্যায়নের পদ্ধতি আলাদা হতে পারে।
রাধিকার মতে, মুক্তির মাধ্যম নির্ধারণের পেছনে নানা ধরনের বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত কাজ করে। তাই শুধু প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়াকেই কোনো কাজের গুরুত্ব বা সাফল্যের একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং কাজের বিষয়বস্তু, অভিনয়ের সুযোগ এবং দর্শকের কাছে পৌঁছানোর সম্ভাবনাকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
পুরুষকেন্দ্রিক গল্পের আধিপত্য নিয়ে প্রশ্ন
বলিউডে পুরুষ অভিনেতাদের কেন্দ্র করে গল্প নির্মাণের প্রবণতা নিয়ে রাধিকা আপ্তের বক্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর মতে, বক্স অফিসের অনিশ্চয়তা এবং তারকাদের বাজারমূল্য বিবেচনা করে অনেক ক্ষেত্রে পুরুষ চরিত্রকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এই প্রবণতা নারী অভিনেত্রীদের জন্য কাজের সুযোগ সীমিত করতে পারে। কারণ, কোনো অভিনেত্রী ভালো অভিনয় করতে সক্ষম হলেও তাঁর উপস্থিতি একটি ছবিকে বাণিজ্যিকভাবে সফল করবে কি না, তা নিয়ে নির্মাতাদের মধ্যে সংশয় থাকতে পারে। ফলে গল্পের কেন্দ্রে নারী চরিত্র থাকলেও সেই ধরনের প্রকল্পে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত সব সময় সহজ হয় না।
রাধিকার বক্তব্যে উঠে এসেছে, একজন অভিনেত্রীর প্রতিভা ও কাজের মানের পাশাপাশি তাঁর তারকাখ্যাতিকেও বাণিজ্যিক সাফল্যের সম্ভাবনা নির্ধারণে বিবেচনা করা হয়। আর এই হিসাবের কারণে সব অভিনেত্রী সমান সুযোগ পান না—এমন বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশ রয়েছে।
অভিনয়জীবনে ভিন্নধর্মী কাজের পরিচিতি
রাধিকা আপ্তে দীর্ঘদিন ধরে হিন্দি চলচ্চিত্র ও ওয়েব কনটেন্টে বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি অর্জন করেছেন। প্রচলিত বাণিজ্যিক ছবির পাশাপাশি ভিন্নধর্মী গল্প ও চরিত্র বেছে নেওয়ার কারণেও তিনি দর্শকের নজর কেড়েছেন।
‘স্যাক্রেড গেমস’, ‘লাস্ট স্টোরিজ’ এবং ‘মোনিকা ও মাই ডার্লিং’-এর মতো বিভিন্ন প্রযোজনায় তাঁর কাজ দর্শকের কাছে পরিচিতি পেয়েছে। অভিনয়ের ক্ষেত্রে চরিত্রের বৈচিত্র্য এবং গল্পের ধরনকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রবণতা তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে আলোচিত হয়।
নতুন সিরিজ ‘আক্কা’তেও তাঁকে দেখা যাওয়ার কথা রয়েছে। নতুন কাজের পাশাপাশি চলচ্চিত্রশিল্পের বাস্তবতা নিয়ে তাঁর খোলামেলা বক্তব্যও বিনোদনজগতে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
নারীপ্রধান ছবির ভবিষ্যৎ কোন পথে?
চলচ্চিত্রের সাফল্য নির্ধারণে দর্শকের রুচি, প্রচার, নির্মাণের মান, অভিনয়, মুক্তির সময় এবং তারকাদের জনপ্রিয়তা—বিভিন্ন বিষয় ভূমিকা রাখে। তাই নারীপ্রধান ছবির সাফল্য বা ব্যর্থতাকে একক কোনো কারণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা কঠিন।
তবে রাধিকা আপ্তের বক্তব্য বলিউডের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে: একজন অভিনেত্রীর প্রতিভা ও অভিনয়ের সামর্থ্যকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, নাকি তাঁর তারকাখ্যাতি এবং সম্ভাব্য বক্স অফিস আয়ই কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান বিবেচ্য হয়ে উঠছে?
নারীকেন্দ্রিক গল্পের জন্য আরও বেশি সুযোগ তৈরি করা, বৈচিত্র্যময় চরিত্রে বিনিয়োগ এবং গল্পের মানকে গুরুত্ব দেওয়ার মাধ্যমে এই পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে মনে করেন অনেকে। শেষ পর্যন্ত একটি ছবির সাফল্য নির্ভর করে দর্শকের সঙ্গে তার সংযোগ তৈরির ওপর। নারী বা পুরুষ—যে চরিত্রকেই কেন্দ্র করে গল্প নির্মিত হোক, শক্তিশালী চিত্রনাট্য ও মানসম্মত উপস্থাপনাই হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি।
রাধিকা আপ্তের বক্তব্য তাই শুধু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার প্রকাশ নয়; এটি বলিউডে নারী অভিনেত্রীদের কাজের সুযোগ, তারকাকেন্দ্রিক বাজারব্যবস্থা এবং চলচ্চিত্রের বাণিজ্যিক মূল্যায়ন নিয়ে চলমান আলোচনাকেও সামনে নিয়ে এসেছে।
Web: bdkhabor.com. call : +8801823218888. Email: infobdkhabar@gmail.com
▶️ youtube.com/@bdkhabortv 📸 instagram.com/bdkhabar 📘 facebook.com/bdkhabor1 🐦 x.com/b_khabor 🎵 tiktok.com/@sagarbd_official